আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাবা গুরুজন... চরম শ্রদ্ধেয়... আমার সবাই আমাদের বাবার মত হতে চাই...

একজন নির্ভিক পুংটার কোন বন্ধু নেই।

এটা কোন কাল্পনিক লেখা না। একেবারেই বাস্তব। লেখাটি সামুতে পোষ্ট দেবার আগে যাকে নিয়ে লেখা তাকে দেখিয়েছি। তিনি পোষ্টের সম্মতি দিয়েছেন।

লেখার বিষয়বস্তু অনেকের বাবার সাথেই মিলে যেতে পারে। মিলে যাওয়াটাও কাকতালিয় নয়। এটাই আমাদের- পরিবশে পরিচিতি সমাজ। : আপনার বাবা কি করেন?? : উনি একজন **** চাকুরীজীবি। রাজশাহীতে আছেন।

আমরা থাকি ঢাকায়। : আপনি জানেন আপনার বাবা কত বেতন পান??? : না, সেটা বলতে পারবো না। : আপনারা ক ভাই-বোন?? : আমরা তিন ভাইবোন। : সবাই লেখাপড়া করছেন?? : হ্যা। আমার বড় ভাই লন্ডনে পড়ছে, আমি এনএসইউতে, ছোটটা ভিকারুন্নেছায়।

: ঢাকায় থাকেন কোথায়?? : ইষ্কাটনে, আমাদের নিজেদের ফ্ল্যাট। : আপনার দাদা বাড়িও কি ঢাকায়?? : না...দাদা বাড়ি গ্রামে। দারুন সুন্দর গ্রাম। বাবা ওখানে একটা দোতলা বাড়ি বানিয়েছেন। গ্রামে গেলে খুব ভাললাগে।

: গ্রামে কেউ থাকে না?? : আমার তিন চাচা গ্রামে থাকেন। আমার বাবা সবার বড়। বাবা সব চাচাদের দেখাশোনা করেছেন। এখন সবাই স্ট্যাবলিষ্ট। দাদাকে আমি অনেক ছোট বেলায় দেখেছি।

আমাদের দাদা বাড়িটা ছোট ছিল। এখন দেখলে বুঝতেই পারবেন না। : আপনার নানা বাড়িও কি গ্রামে?? : না... নানাবাড়ি শহরে। নানা ফুডে চাকরি করতেন। ৭১ সালে ভারত যাবার সময় উনাকে মেরে ফেলা হয়েছিল।

আমার তিন খালা কোন মামা নেই। নানা মারা যাবার পর থেকে বাবাই খালাদের গার্জিয়েন। আমার দুই খালা ঢাকায় থাকেন, একজন নানাবাড়ি। : লেখাপড়া শেষ করে কি করবেন?? : ইচ্ছে আছে ব্যবসার... তবে বাবা চাকরি প্রেফার করেন। সরকারী চাকরীতে অনেক সুযোগ সুবিধা।

: আপনার বাবাতো একজন অসাধারণ মানুষ। এত দায়িত্ব একজন মানুষ কিভাবে সামলালেন? : হ্যা ঠিকই বলেছেন। উনি আমাদের জন্য খুবই চিন্তা করেন। বাবা হিসেবে যা যা দায়িত্ব পালন করা দরকার তা সবই উনি করেছেন। আমাদের কোন আবদার কখনও অপূর্ণ রাখেননি।

গ্রামের মানুষদেরও সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। বাবা গ্রামে একটা মসজিদ তৈরী করে দিয়েছেন। : চাকরির পাশাপাশি আপনার বাবা কি অন্য কিছু করেন মানে- ব্যবসা বা এমন কিছু? : না বাবা অন্য কোন কিছু করেন না। তবে চাচাদের ব্যবসার জন্য টাকা দিয়েছেন। মেজ চাচাকে রাইসমিল করে দিয়েছেন।

সেজ চাচার সারের ব্যবসা। ছোট চাচাকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। উনি চলে এসেছেন। এখন গ্রামে একটি মোবাইল পয়েন্ট দিয়েছেন। ছোট চাচা এখনও বাবার কাছ থেকে টাকা নেন।

বাবাও না করেন না। বললাম না আমার বাব একজন ফেরেস্তার মত মানুষ। : আপনাদের গাড়ি আছে?? : একটা টয়োটা করোলা ১০০ আছে, পুরাতন। এবার বাজেটের আগে গাড়ির দাম বেড়ে যেতে পারে তাই বাবা ২০০৯ মডেলের একটি প্রিমিও কিনেছেন। আম্মার পছন্দে।

পুরাতনটা দিয়ে বাসার কাজ করানো হয়। এই স্কুলে যাওয়া আসা, এ্যগোরা, এখানে ওখানে যাওয়া। আর বাবা আসলে প্রিমিও নিয়ে বের হন। গাড়িটা দারুন হয়েছে। ২৪ লাখ দিয়ে কেনার পর দাম বেড়ে ২৯ লাখ হয়েছে।

আমার গাড়ির দরকার হয়না। আমি একটা ইয়ামাহা এফজেডএস নিয়েছি। আম্মা যদিও ভয় করেন। বুঝেন না। : আপনার ভায়ের কথা বলেন।

: ভাইয়া তো খুব সুখে আছে। দু বছর হল লন্ডনে। ওখানে ল নিয়ে পড়ছে। প্রথম বছর বাবা টাকা পাঠাতেন এখন আর টাকা পাঠানোর দরকার হয় না। কি যেন ঝামেলা হয়েছিল।

এখন ঠিক হয়ে গেছে। আমরা এবছরের শেষে ভাইয়ার ওখানে বেড়াতে যাব। বাবা যেতে পারবেন না। আমরা তিনজন যাব। লন্ডন ওয়াও।

: আপনার বাবার চাকরি আর ক বছর আছে?? : এখনও ৪ বছর। বাবা বলেছেন এর মধ্যে সব গুছিয়ে নেবেন। গাজিপুরে আমাদের প্রায় ৬ বিঘা জমি আছে। ওখানে গাছ লাগানো হয়েছে। তাছাড়া বাড্ডার জমিতে বাবা চাকরি শেষে বাড়ির কাজ শুরু করবেন।

বাবার সব কাজ গোছানো। চাকরি শেষ হলেই আম্মার ইচ্ছে হজ্জ্বে করার। আমার বাবাকে দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। ছোট খাটো মানুষ কিন্তু খাটতে পারেন অনেক। কক্সবাজার বাবার খুব প্রিয়।

গতবছর ওখানে একটি ষ্টুডিও এ্যাপার্টমেন্টের জন্য বুকিং দিয়েছেন। বাবারা কয়েক বন্ধু মিলে অনেকগুলো এ্যাপার্টমেন্ট নিয়েছেন। বেশ সস্তায় পাওয়া গেছে। ওটা কমপ্লিট হয়ে গেলে কক্সবাজার নো চিন্তা। একেবারে সমুদ্রের সামনে।

কলাতলিতে। : আপনার ছোট বোনটা কোন ক্লাসে পড়ে? : এইটে, ওর কথা আর বলবেন না। সারাক্ষন ব্যাস্ত। খুব আদরের। লেখাপড়ায় ভাল।

বাবার কথা ও যদি গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পায় তাহলে বিশাল একটা পার্টি দেবেন। আম্মাতো সবসময় ওর সাথেই। সারাদিন ব্যাস্ত। : আপনার বাবার সাথে আপনার কথা হয়?? : হয়। বাবা তো উইক এন্ডে আসেন।

আবার রবিবার সকালে চলে যান। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কিছু থাকলে বলে দি। তাছাড়া খাবার টেবিলে তো কথা হয়ই। বেশীরভাগ কথা হয় আম্মার সাথে। আম্মা ম্যানেজ করেন।

: আচ্ছা আপনাদের পুরো বাড়িটাই কি এসি করা?? : হ্যা সব ঘরেই এসি আছে। : কয়টা ঘর??? : ৪টা বেড, ড্রইং ডাইনিং... মানে ২২শ স্কায়ার ফিটের বাসা। এইতো এসেই গেছি। চলুননা বাসায় বসবেন। চা খেয়ে যাবেন।

: বাসায় এখন কে কে আছে?? : এখন আম্মা নেই। বুয়া, কাজের ছেলে আছে। গতসপ্তাহে বাবার এক বন্ধু দুঝুড়ি ইলিশ মাছ পাঠিয়েছিলেন। বড় বড়। দেড় কেজি এক একটা।

একেবারে চাদপুরের। আমি ফোন করে দিচ্ছি, বুয়া ভেজে রাখবে। : না আজ আর না। অন্য একদিন আসবো। যেদিন আপনার বাবা আসবেন সেদিন আসবো।

আচ্ছা আপনার বাবা কি খেতে পছন্দ করেন? : টেবিলে যতকিছুই থাক না কেন, বাবার পছন্দ ছোট মাছ, শাক-সবজি, ডাল। এগুলো থাকতেই হবে। বাবা বলেন তিনি একেবারে অজপাড়াগায়ের ছেলে। এসব সাহেবী খানা তার পোশায় না। হা হা হা।

বললাম না আমার বাবা অন্য রকম মানুষ। তার মত এমন মানুষ আপনি আর একটিও দেখবেন না। তার দুটো ল্যাপটপ কিন্তু তিনি ক্যালকুলেটর ইউজ করবেন। হা হা হা। বাসায় কত কিছু যে আছে, অহেতুক পড়ে পড়ে নষ্ট হয়।

: উনিকি ক্লাবে যান? : না না। বাবা নামাজ পড়েন। এমনিতে রাজশাহীতে সন্ধ্যের পর টেনিস খেলেন। তাছাড়া সাড়ে এগারাটা বাজলেই ঘুম। বাবার সব কিছু ঘড়ি ধরে।

টিভিতে খবর ব্যাস। খুব সিম্পল। : এই বিল্ডিংএই আপনারা থাকেন? : হ্যা। এই যে বৃষ্টি এসে গেল। চলেন ভেতরে যাই।

: না না। আজ প্রথম দেখা হল। তাছাড়া বাসায় ফিরতে এমনিতেই দেরি হয়ে যাবে। যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমাদের এই কথপোকথনটা সামুতে লিখতে পারি? : হা হা হা.... সামুর জন্যইতো এতো কিছু। আপনার নিকটা দারুন।

আচ্ছা আপনি এত নাস্তিক ধরনের লেখা লেখেন কেন? : আজকে শুধু আমার প্রশ্ন করার কথা। মনে আছে? : মনে আছে। : আমার শেষ প্রশ্ন। আসলেই কি আপনি আপনার বাবার মত হতে চান? সহানুভুতি.... #ব্যাতিক্রম থাকতে পারে। ব্যাতিক্রম কখনও উদাহরণ হয় না#


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.