আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বান্ধবীকে নিয়ে চিন্তায় আছি। পরামর্শ চাই........

রাতের আকাশের নগ্নতা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি কিন্তু পারি না মনের আকাশ দেখতে।

আমার ভার্সিটি জীবনের বান্ধবী। লম্বা চওড়া, সুন্দর, ভদ্র। একই সাথে দীর্ঘ ৮ বছর ওঠাবসা। না না বিশেষ সম্পর্ক নেই।

ওসব ভাববার মানে হয় না। আমিও খুব ভদ্র। ওর বাবা মা বিদেশ যাবে, ছেলের কাছে। ছেলে ভাল একটা কম্পানিতে চাকরী করে। এদিকে মার ভিসা হল কিন্তু ওর বাবার হল না।

বাবার জন্যে ওর মায়ের অপেক্ষা। দুজন এক সাথে যাবেন। (পুরান চাল ভাতে বাড়ে) যা হোক, ফাঁকে ফোঁকরে মেয়ের জন্যে তারা পাত্র খুঁজছেন। দেশী পাত্র। বেশির ভাগ সিলেটিরা লন্ডনী পাত্র খোঁজে।

কিন্তু আমার বান্ধবীর বাবা মা খুঁজছেন দেশী, হোমমেড পাত্র। তারা এটা করছেন অবশ্য আমার সেই বান্ধবীর অনুরোধেই। এটাও বান্ধবীর কাছে শোনা। এবার কাজের কথায় আসি, যে জন্যে এই বল্গ লিখতে বসা। ২ মাস আগে বান্ধবীর সাথে হঠাৎ চ্যাটিং এ বসলাম।

কথায় কথায় আমাকে জানাল ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আমি জানতে চাইলাম পাত্র কেমন? লম্বা না খাট, সাদা না কালো, টেকো না চুলো? দেশী না বিদেশী? রেগে হোক আর সিরিয়াসলী হোক, আমি তো আর মুখ দেখতে পাচ্ছি না, সে বলল, আমার সমান হাইট, কাল, টেকো, দেশী। আমি বললাম, এম এ পাশ পাত্রীর এহেন অবস্থা? আহারে!! তারপর যা বলল, তাতে আমি দু:খ পেলাম। বলল, এখন ভার্সিটি পাশ মেয়ে মানে বুঁড়ি, বাবার গাড়ি নাই বাড়ি নাই, তাই ভাল বর নাই। তারা চলে যাচ্ছেন, যাবার সময় আমার একটা থাকার জায়গা হচ্ছে এটাই বা আর কম কি? আমি নীরব থাকলাম।

কথাটা ফেলার মত না। আমাদের সমাজের প্রতিষ্ঠিত আধা বুড়োরা কচি খোঁজে, ভার্সিটি পাশ বুঁড়িদের না। অবশ্য এই বুড়োদেরই বা দোষ কি? টাকা পয়সা আলা বা ভাল চাকরী না থাকলে পাত্রদের পাত্রী নাই। অভিভাবকরা মুখে গোমাই দিয়ে রাখেন। সব গুছিয়ে উঠতে গিয়ে খোকারা আধা বুড়ো।

মাথার যখন সব চুল পাকে তখন কনে আঙ্গুল ধরে বুড়োদের বাচ্চারা হাটতে শেখে। মানুষ বলতে দ্বিধারোধ করে, ভাই বাবুটা আপনার ছেলে না নাতি? হা হা হা... যা হোক আমার নীরবতায় সে আবার বলল, তুমি তো দেখেছ, কত কোণঠাসা হয়ে চলতাম। ডানে বামে কিছু ভাবতাম না। আসলে প্রেম না করাটা একটা ভুল হয়ে গেছে, এই বিয়ের বাজারে এসে বুঝতে পাচ্ছি। পড়তে গিয়ে কখন এতটা সময় পার হয়ে গেছে বুঝিনি।

আমি ওকে কিছু স্বান্তনা দিলাম। আসলে স্বান্তনা শব্দটা কত যে তুচ্ছ তখন বুঝতে পারলাম। সপ্তাহ খানেক পর জানলাম। সে আমার সাথে শয়তানি করেছে, বিয়ে টিয়ে কিছু না। এখন গতকালের কথা বলি।

মোবাইলে ম্যাসেজ এল, আমার সেই বান্ধবী একটা ছেলেকে পছন্দ করে ফেলেছে। ছেলেটা পাত্রী খুঁজছে। ও ভাবছে ফাইনাল কিছু ঘটার আগেই ছেলেটাকে বলে ফেলবে। ডাইরেক্ট বিয়ের কথা। আমিও যথারীতি সাহস দিলাম এই বলে, তাড়াতাড়ি বলে ফেলো।

সময় খুব খারাপ। এখন সবুরে মেওয়া ফল পঁচে যাচ্ছে। তোমাকে কেউ না করবে না। না করার মত মেয়ে তুমি না। কিন্তু একথা বলার পড়েই, আমি নিজের বিপদ বুঝতে পারলাম।

যদি সে আমাকেই বলে বসে!!!!! তখন? শেষ আমি শেষ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.