আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শরীর ও মন সতেজ করতে হয়ে যাক না এক কাপ চা!

আমি কিছু জানি না......

চা নিয়ে নানান রকম বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যায়। আসলে কী ওগুলো বিজ্ঞাপন নাকি বিজ্ঞান। এই সংশয় দ–রীভ–ত করেছেন লন্ডনের কিংস কলেজের বিজ্ঞানীরা। দৈনিক অন্ততপক্ষে ৩ কাপ চা পান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। শুধু তা-ই নয়, সাধারণভাবে চা খেলে শরীর কষে যায় বলে যে ধারণাটি আমাদের সমাজে প্রচলিত, এটিকেও ভুল বলে ব্যখ্যা দিয়েছেন ওই গবেষক বিজ্ঞানী দল।

আবার চা পানে গায়ের রং কালো হয়ে যায়, এমন ধারণা থেকেও কেউ কেউ চা এড়িয়ে চলেন আসলে বাস্তবে এ ধারণাটি মোটেই বৈজ্ঞানিক সম্মতভাবে যুক্তিযুক্ত ও সঠিক নয়। ত্বকের রং নির্ভর করে মেলানোসাইট কোষের সক্রিয়তার উপর। চা-এ যে রকম উপাদান রয়েছে বা এটি তৈরিতে যে ধরণের উপকরণের মিশ্রিন হয় তা কোনক্রমেই মেলানোসাইট কোষের সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে না। আবার কেউ কেউ মনে করেন চা খেলে ত্বক খসখসে হয়ে যাবে। অনেকে আবার বিশ্বাস করেন, চা খেলে লিভার ক্ষতিগ্রস্থ হয়, চামড়ায় কালো ছাপ পড়ে এর কোনটিই সঠিক নয়।

তবে মাত্রাতিরিক্ত খেলে বিরূপ উদ্রেগ দেখা দিতে পারে। চায়ে ফ্ল্যাভিনয়েড নামে এক ধরনের যৌগ থাকে। এতে রয়েছে চমৎকার এন্টি-অক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস কালো এবং সবুজ চা দুটোতেই পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে। গবেষণায় দেখা গেছে কলা, তরমুজ, ফলম–ল যেমন আপেল, কমলা, আঙ্গুর, নাসপাতি, পেয়াজ ইত্যাদি বা শাক-সবজিতে যে পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস পাওয়া যায় তার চেয়ে চায়ে অধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস মানুষের শরীরকে নানাভাবে রক্ষা করে। এটা সাধারণত কোষের ভঙ্গুরতা কমায়। আর দৈনিক ৩-৪ কাপ চা যদি কেউ পান করে, তবে বিজ্ঞানীদের মতে তার হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। এখানেই শেষ নয়, চা পানে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে। তাছাড়া দাঁত ও মাড়ির সমস্যায়ও এটি ফলপ্রসু ভূমিকা পালন করবে।

কারণ, চায়ে রয়েছে ফ্লোরাইড যা দাঁতের ক্ষয়-রোধ করে। এছাড়া চায়ের লিকার দিয়ে কুলি করলে মাড়ির সমস্যায় ফলদায়ক উপকার পাওয়া যায়। আমাদের শরীরে দিনে ২-৫ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজের দরকার হয় ফলে ৫-৬ কাপ চা দুধ ছাড়া পান করলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ম্যাঙ্গানিজের ৪৫ শতাংশ প–রণ হয়। শরীরের স্বাভাবিক কাজ-কর্মের জন্য প্রয়োজন পটাশিয়ামের। পটাশিয়াম আলস্য কাটায়, ক্লান্তি, অবসাদ প্রভৃতিকে কাটিয়ে শরীরকে চাঙ্গা ও সতেজ রাখে।

প্রতিদিন ৪-৫ কাপ গ্রিন লিফের লিকার শরীরের প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের তিন-চতুর্থাংশ প–রণ করে। চায়ে সামান্য পরিমাণে জিঙ্ক আছে। যা শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। সবচেয়ে বড় কথা চা শুধু উদ্দীপকই নয়, চা মানসিক শক্তির যোগানদাতাও, শরীর ও মন থেকে ক্লান্তি-অবসাদ-বিষন্নতা ও হতাশার ছায়া দূর করে দেয়। শরীর ও মন দুটোকেই চাঙ্গা করে ঝটপট।

তবে আর দেরি কেন, হয়ে যাক না ১ কাপ চা! সূত্র : তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনে ইন্টারনেট

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।