একটা সময় ছিল যখন আমার এই বাংলাদেশে আবাহনী ও মোহামেডানের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে সবাই বাড়ির ছাদে ওই দুই ক্লাবের দলীয় পতাকা উড়াত। দুই দলের খেলার দিন দর্শকরা মারামারি করত হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বহু। কি উগ্র ভালবাসা ছিল দুদলের সমর্থকদের মাঝে এই চির প্রতিদ্বণ্ডি দুই দলকে ঘিরে । কিন্ত আজ সময় বদলেছে। মানুষের ভাবনা চিন্তাও বদলে গেছে।
এ বদলানো ভাবনা চিন্তায় ভুমিকা রাখেনি কোনো চিন্তাবিদ কলামিস্টের লেখা, রাখেনি কোনো সাহিত্যিকের উপন্যাস বা নাটিকা। এটা কীভাবে ঘটল সেটা জানে একমাত্র ইশ্বর।
এখন কেউ আবাহনী-মোহামেডানের পতাকা উড়ায় না। উড়ায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা। পতাকা উড়াতে গিয়ে ঘটে মৃত্যু।
দু দলের সমর্থক দের মাঝে ঘটে বাকযুদ্ধ, মারামারি হাতাহাতি।
কি লাভ এসব আদিখ্যেতা দেখিয়ে। নিজ দেশ বিশ্বকাপে খেললে একটি কথা ছিল। তাছাড়া ঝাকঝমক পূর্ণ এ বিশ্বকাপের অধিকাংশ খেলা হচ্ছে পাতানো ও সাঝানো। কোন দল কোন পর্ব পর্যন্ত উঠবে এবং কাপ জয় করবে তা নির্ধারন করে ওই সব জুয়ারিরা আর তাদের হয়ে কাজ করে ফিফার ওই সব কর্তা ব্যক্তিরা যারা প্রতিবারই ফিফার কর্মকর্তা হিসেবে নিজেদের পদে বহাল থাকে।
সবার পালা বদল ঘটলেও ফিফার ওই কর্তাব্যক্তিদের পালা বদল কখনই ঘটে না। তাদেরকে সেই সব পদ থেকে সরানো যায় না। কারণ কোটি কোটি ডলারের জুয়ার ব্যবসাটা হয় এই বিশ্বকাপকে ঘিরে। আর তাদের সেই কালো টাকার লগ্নী করার সিকিউরিটি হিসেবে এসব কর্মকর্তারা প্রতি বিশ্বকাপে ফিফার নেতৃত্ব দেয়।
আমার নিজেরও একটি প্রিয় দল আছে ।
কিন্তু এসব খবর জানার পর প্রিয় দলের খেলা দেখার বদলে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ি। রাত জেগে কখনই বিশ্বকাপ দেখতে পারেনি। প্রিয় দল চ্যাম্পিয়ন হল কিন্তু সে খেলা দেখতে পাড়েনি কারণ চোখে সেদিন ঘুম এসে গিয়েছিল। তাই বিশ্বকাপ নিয়ে আমার মধ্যে কোনো উৎসাহ নেই। আমার বিশ্বকাপ ও ক্রিকেট খেলা দেখার নিয়ম হচ্ছে টিভি ছেড়ে রেখে অন্য ঘরে চলে যাই।
কেউ গোল দিলে বা উইকেট বা চার ছয় মারলে পড়লে দৌড়ে এসে স্লো মোশনে তা উপভোগ করি।
এভাবেই আমি বিশ্বকাপ ফুটবল ও ক্রিকেট উপভোগ করি।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।