আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাংলা চলচ্চিত্র বিষয়ক ইশতিয়াক আহমেদের একটি লেখার পোস্টমর্টেম এবং আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাটি টিভিতে সম্প্রচারের ভবিষ্যত



ভারতীয় ডিম আসলে ক্ষতি নাই , ভারতীয় গরুতে তেমন অরুচি নেই আমাদের। টিভিতে ভারতীয় চ্যানেল ক্লিয়ার দেখা না গেলে রাতে আমাদের ঘুম হয়না। এমতাবস্থায় যখন ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানির সিদ্ধান্ত হলো তখন এফডিসির রাজ্জাক সাহেব থেকে শুরু করে ব্লগের ইশতিয়াক সাহেব পর্যন্ত ক্ষেপে উঠলেন। রাজ্জাক সাহেবদের ক্ষেপার বহুত কারণ আছে। বাংলা সিনেমা একদা তার জীবিকা ছিল।

কিন্তু ইশতিয়াক সাহেবরা কেন ক্ষেপলেন ? ইশতিয়াক বাংলা সিনেমা দেখেন না, কেননা ওটা তার ভালো লাগেনা। তিনি ইংরেজী ছবি দেখেন না, কেননা ওটা তিনি বোঝেন না। তিনি দেখেন হিন্দি ছবি। রাম গোপাল ভার্মা না বার্মাকে তিনি পিতৃজ্ঞান করে শ্রদ্ধা করেন। ব্লগে হঠাৎ তিনি হিন্দি ছবির বিরোধিতায় নামায় আমি কৌতুহলবশতঃ তার লেখায় ঢুঁ মারলাম।

পুরো লেখাটি বার দুয়েক পড়লাম। কিছুই বুঝলাম না। শুধু বুঝলাম ইশতিয়াক সাহেব ভীষণ ক্ষিপ্ত। বাংলাদেশের সিনেমা হলে হিন্দি ছবি চললে বাংলা সিনেমা শিল্পের বারোটায় বেজে যাবে - এই আশংকায় তার গলা শুকিয়ে গেছে। তার লেখায় দেশপ্রেমের ঝাঁকানাকা আছে, - কেবল আসল কথাটা নাই।

তার লেখায় সর্বমোট ৩৪ টি বাক্য আছে। তার মধ্যে মৌলিক বাক্য ৩১ টি, যেটি নিজে লিখেছেন। বাকী ৩টি বাক্য বিডি নিউজ থেকে কাটপেস্ট করা। বলাবাহুল্য, ঐ অমৌলিক বাক্য ৩টিই পুরোপুরি শুদ্ধ ; বাকি ৩১ বাক্যের অবস্থা ভয়াবহ করুণ। খোদ চলচ্চিত্র বানানটিই তিনি ভুল লিখেছেন।

এবং কী লিখতে উনি কী লিখেছেন এটি বোঝা শিবের অসাধ্য। উদাহরণ দিই - তিনি লিখেছেন : এই জাতীয় চিন্তার মন্ত্রীসহ আমাদের চলচিত্র বিভিন্ন সময়ে নানাধরণের মানুষের দ্বারা ক্ষয়ে ক্ষয়ে গেছে ( বাক্য নং-১) । বরণ করেছে পঙ্গুত্ব ( বাক্য নং -২) । একটা নিদির্ষ্ট সময়ের পর সেটা য় প্রাপ্ত হয়েছে, চলচিত্র ডুবলে ডুবুক আমার টাকা উঠাইতে চাই মানসিকতার লোকদের দ্বারা ( বাক্য নং -৩) । কখনো ডুবেছে অতিবুদ্ধিবৃত্তিক আঁতেল উদ্ধারকর্তদের দিয়ে ( বাক্য নং -৪) ।

এই য়ে য়ে বাংলা চলচিত্র হারিয়েছে ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলার মতাও ( বাক্য নং -৫) । তবে সরকারীভাবে আশার বিষয়, এবার সে চাকা বেগবাণ করতে বিদেশী হুইল চেয়ার আনা হচ্ছে!!! ( বাক্য নং -৬) বাংলা চলচিত্র নষ্ট হয়েছে আমাদের দ্বারাই ( বাক্য নং -৭) । এই সুযোগে এমন ঘটনা ঘটছে ( বাক্য নং -৮) । ফলে দাদাদের তুষ্ট করার মানসিকতার লোকজনের হাতে তার সৎব্যাবহার হচ্ছে ( বাক্য নং -৯) । অস্বীকার করার উপায় নেই আমাদের চেয়ে কয়েকম গুণ এগিয়ে আছে ভারতীয় চলচিত্র ( বাক্য নং -১০) ।

কোনো সন্দেহ নেই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তারা বিশ্বচলচিত্রের ষ্টিয়ারিং-এ নিজেদের হাত ছোঁয়াতে সম হবে ( বাক্য নং -১১) । প্রতিবেশী দেশ বলেই তাদের সাথে আমাদের সংস্কৃতিগত অনেক সাদৃশ্য আছে ( বাক্য নং -১২) । আছে তাদের প্রতি আমাদের বিমুগ্ধতাও ( বাক্য নং -১৩) । যার ফলে তারা ছুয়ে যেতে পারে আমাদের ( বাক্য নং -১৪) । আপন হয়ে যায় আমাদের অজান্তেই ( বাক্য নং -১৫) ।

কোনও সহৃদয় পাঠক কি আমাদের দয়া করে বোঝাবেন - এই ১৫টি লাইন দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। প্রথম চারটি বাক্যে তিনি সম্ভবতঃ বাংলা চলচ্চিত্রের ক্রমবিবর্তন বোঝাতে চেয়েছেন। তার লেখানুসারে, প্রথমে আমাদের চলচ্চিত্র ক্ষয় প্রাপ্ত হয়েছে। পরে সেটি পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। তারপর সেটি আবারও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।

শেষে সেটি ডুবেছে। কারা এই সর্বনাশ করেছে - সেটির কোনও নিশ্চিত উত্তর নেই। প্রথম বাক্যে (১) আছে এই জাতীয় চিন্তার মন্ত্রীসহ নানা ধরণের মানুষের কথা। ৩ নং বাক্যে তিনি দায়ী করেছেন টাকা উঠাতে চাই - এই ধরণের লোকগোষ্ঠীর কথা। ৪ নং বাক্যে আতেঁলদের কথা।

৭ নং বাক্যে এসে মহাচমক! বাংলা চলচ্চিত্রের পোঙ্গা মারার জন্য তিনি ঢালাওভাবে সবাইকে দায়ী করে গবেষণা কর্মটি শেষ করেছেন । ৮ নং বাক্যটি জীবননান্দ দাশের কবিতার চাইতেও রহস্যময়। তিনি লিখেছেন - এই সুযোগে এমন ঘটনা ঘটেছে। কোন্ সুযোগে কোন্ ঘটনা ঘটেছে - এটির উত্তর কে দেবে ? চমক আরও আছে। আসুন নিবন্ধটির আরও গভীরে যাই।

পরের প্যারাগুলোতে তিনি লিখেছেন ... ফলে দাদাদের তুষ্ট করার মানসিকতার লোকজনের হাতে তার সৎব্যাবহার হচ্ছে ( বাক্য নং -১৬) । অস্বীকার করার উপায় নেই আমাদের চেয়ে কয়েকম গুণ এগিয়ে আছে ভারতীয় চলচিত্র ( বাক্য নং -১৭) । কোনো সন্দেহ নেই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তারা বিশ্বচলচিত্রের ষ্টিয়ারিং-এ নিজেদের হাত ছোঁয়াতে সম হবে ( বাক্য নং -১৮) । প্রতিবেশী দেশ বলেই তাদের সাথে আমাদের সংস্কৃতিগত অনেক সাদৃশ্য আছে ( বাক্য নং -১৯) । আছে তাদের প্রতি আমাদের বিমুগ্ধতাও ( বাক্য নং -২০) ।

যার ফলে তারা ছুয়ে যেতে পারে আমাদের। আপন হয়ে যায় আমাদের অজান্তেই ( বাক্য নং -২১) । হিন্দি সিরিয়ালগুলো যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ( বাক্য নং -২২) । কিন্তু তার মানে এই না এই আপনদের জন্য গেষ্টরুম না দিয়ে অতি আন্তরিকতায় আমাদের বেড রুম ছেড়ে দেবো ( বাক্য নং -২৩) । এই না আমাদের সার্বোভৌম চলচিত্রে মুল রাজত্বে রাজ করতে দেবো ভারতীয় চলচিত্রকে ( বাক্য নং -২৪) ।

১৯ এবং ২০ নম্বর বাক্যটিকে সংস্কৃতি নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য আছে। প্রতিবেশী দেশ বলে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আমাদের ‘বিমুগ্ধতা ’ আছে। প্রশ্ন করতে মন চায় - তাহলে বার্মিজ , ভুটানি কিংবা নেপালী অথবা পাকি সংস্কৃতির প্রতি আমাদের তথাকথিত বিমুগ্ধতা নেই কেন? ওরা তো আমাদের প্রতিবেশী। আর গ্রীক, রোমান, আরবি কিংবা পারসি সংস্কৃতির প্রতি মুগ্ধতা আছে কী করে - ওগুলো তো অনেক দূরে ন্যুনতম চার থেকে ছয় ঘন্টার ফাইট। ২৩ এবং ২৪ নং বাক্যে ইশতিয়াক সাহেব স্বীকার করেছেন আসল কথা।

ভারতীয় সিনেমা ঘরের কম্পিউটারে দেখা জায়েজ কিন্তু হলে গিয়ে দেখা হারাম। কেননা, একটা আমাদের বেডরুম , আরেকটা ড্রয়িংরুম। পছন্দের মেয়ের সাথে হোটেলে গিয়ে ডেটিং করতে পারবো, বাসায় এনে না কিংবা বারে বসে মদ খাওয়া যাবে ঘরে বসে না - কথাটার মানে খুব সম্ভবতঃ সেই রকম। তাই কী ? এই গূঢ় নিবন্ধটি শেষ হয়েছে একটি দীর্ঘ বাক্য দিয়ে। যথারীতি বাক্যটি আমি কপিপেস্ট করছি ... এ কথাও উড়িয়ে দেয়া যায় না, এই বিষাক্রান্ত প্রজন্ম যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌছবে তার স্বপ্ন নিয়ে তখন মানে আর দু চার দশ বছর পর হয়তো আমাদের ওইসব নীতি নির্ধারক মহল থেকে বেঁচে ওঠার প্রেরনা দেয়া হবে এমন আওয়াজে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বাজারে টিকে থাকার জন্য সরকার হিন্দি চলচিত্র নির্মাণে বিশেষ অনুদান ঘোষণা করেছে।

আমি এক দমে বাক্যটি পড়ে উঠতে পারিনি। কয়েক দমে বাক্যটি কয়েকবার পড়েও ভাবার্থ ধরতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে বাক্যটিকে অনেক জোশ আছে, আমার সেইরকমই মনে হয়েছে। জোশ আছে, আবেগ আছে, কেবল অর্থটাই নাই। এই হচ্ছে আমাদের চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের অবস্থা।

বাংলা সিনেমার করুণ অবস্থার জন্য হুদাই আমরা পরিচালকদের দোষ দেই। সিনেমা হলের বাইরে যে আরও বড় মাথাওয়ালা লোকজনেরা আছেন, যারা চলচ্চিত্র নিয়ে চিন্তা করেন, চিন্তা করেন প্রবন্ধ লিখেন, তাদের কথা কেন কেউ বলে না ??? ইশতিয়াক সাহেবকে বিনয়ের সাথে জানাতে চাই, বাংলা সিনেমার সর্বনাশ অনেক আগেই হয়ে গেছে। এখন নতুন করে সর্বনাশ হওয়ার কিছু নেই। মরা জিনিস নতুন করে মরে না। এখন সিনেমা হলে হিন্দি ছবি চললে বেশ কয়েকটি লাভ হবে।

প্রথমতঃ চলচ্চিত্র প্রদর্শকদের একটা নতুন গতি হবে, তাদের ব্যবসাটা চাঙ্গা হবে। দ্বিতীয়ত: মানুষ হলমুখী হবে। তৃতীয়তঃ আমাদের বিনোদনহীন জীবনে বিনোদনের একটা নতুন মাত্রা যোগ হবে। ফ্যান্টাসি কিংডম, কেএফসির পাশাপাশি আমরা সিনেমা হলেও যেতে পারবো। সবচেয়ে বড় কথা, চলচ্চিত্র ছোট পর্দায় দেখার মতো আর অশ্লীল বিষয় আর হয়না।

ভালো ছবির জন্য এখনও শেষ ভরসা কম্পিউটারে পাইরেটেড সিডি। আমি আপনার মতো সিনেমা এতো ভালো বুঝিনা, তবে শুধু বাংলাদেশে জন্মানোর কারণে ভালো সিনেমা আমি ছোট পর্দায় দেখবো - এই অনাচার আমি মানতে রাজি না। ভালো সিনেমা মানে ভালো সিনেমা, সেটি ভারতীয় হোক, ইরানি হোক হলিউডের হোক .... তাতে কিছু যায় আসে না ... আর সব জায়গায় দেশপ্রেমের ফ্যানা না তুললেই ভালো। মে মাসে বিশ্বকাপ শুরু হবে। ওই সমস্ত খেলা টিভি চ্যানেলে দেখালে, আবাহনী মোহামেডানের খেলা দেখতে ভালো লাগবে না -এই অজুহাতে জয়-আলফাজরা যদি মিছিল করে , সেখানে ক্রীড়া বিষয়ক যে লেখাটি আপনি লিখবেন , সেই লেখায় আপনি ইশতিয়াক আহমেদ কী টিভিতে বিশ্বকাপ দেখানো বন্ধ করে দিতে বলবেন ? ( আপনার মতো একটি দীর্ঘ বাক্য লেখার কসরৎ করলাম।

) দ্বার বন্ধ করে ভ্রমরটাকে রুখি ... সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকিঁ ??? সিনেমা হলের মাঠটি ডিপজলদের ছেড়ে দেয়ার চাইতে রাম গোপাল ভার্মা কিংবা স্পিলবার্গদের হাতে ছেড়ে দিলে খারাপ হবে না। অন্ততঃ দর্শকদের চোখ খুলবে। ভালো ছবির জন্য ভালো পরিচালকের চাইতে বেশি দরকার ভালো দর্শক। ভালো দর্শকরাই তৈরী করবে ভালো পরিচালক। এদেশে ভালো দর্শকদের অভাবে ভালো পরিচালক তৈরী হয় না কিংবা হলেও বাঁচেনা।

সহজ করে বুঝাই, ভালো নাটক টিভিতে বিক্রি হতে চায়না। টিভির লোকেরা বলে , এই নাটক পাবলিক দেখবো না। পাবলিক না দেখলে সেটির স্পন্সরও পাওয়া যাবেনা। ফলে অনেক মেধাবী পরিচালক দর্শক রুচির দিকে চোখ রাখতে গিয়ে কিম্ভুতকিমাকার নাটক বানিয়ে ফেলেন। পরিচালক মহোদয় কিন্তু বুঝছেন, নাটকটি জোলো হয়েছে, কিন্তু দর্শক পছন্দ করছেন।

গোড়া থেকে এই দর্শক যখন জাতে উঠবেন, তখন চালচিত্রই বদলে যাবে। হিন্দি ছবি বাংলাদেশের হলে চললে , এটিই হবে সবচেয়ে সুখের সম্ভাবনা। ইশতিয়াক সাহেবদের জন্য কিছু তথ্য ১. সর্বপ্রথম ১৯৬৫ সালে ভারতীয় ছবি আমদানি ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ হয়। পাক-ভারত যুদ্ধের পর এটি করা হয়- বাণিজ্যিক কোনও কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণে। আপনি শুনে খুশি হবেন ---- এরও পর দেশে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

২. এহতেশামের উর্দু ছবি চান্দা এবং মুস্তাফিজের তালাশ গোটা উপমহাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছিল। বুঝে দেখুন , বাঙালিরা উর্দু ছবি বানিয়ে উর্দুভাষীদেরই তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। প্রতিযোগীতায় তারা টেসে যায়নি। ৩. ১৯৫২-৫৩ সালে খান আতাউর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক এবং জহির রায়হান চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও শিালাভের জন্য লন্ডন, বোম্বে ও কলকাতা গিয়েছিলেন। ৪. মুখ ও মুখোশ কে এদেশের প্রথম চলচ্চিত্রের মর্যাদা দেয়্ াহয়।

এ ছবি নির্মাণের বহু আগে ১৯৩২ সালে লাস্ট কিস নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র নির্মিত হয়েছিল। ৫. এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয় ৫৮ সালে। এর আগে ৫৭ সালে ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট এন্ড কর্পোরেশন অ্যাক্ট পাশ হয়। ৬. ১৯৫৩ সালে এ দেশের প্রথম সিনেমা বিষয়ক পত্রিকা চালু হয়, যার নাম চিত্রালী।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.