আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দিনটাকে হাগু দিবস বললেও চলে ।

সবাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে :( কিন্তু আমি আমার সেই আগের অবস্থানেই আছি । এই কথাটা বুঝতে আমার অনেক দেরী হয়ে গেলো । জীবনের সব টুকুই ছিল অবহেলা আর খামখেয়ালী হঠাত করেই অতীতে হারিয়ে গেলাম , তবে আজকে বাংলার কোন মাস বা কয় তারিখ কিছুই জানিনা , তাই একটি নিউজ পেপারে পড়ে জানতে পারলাম আজকে ৮ জ্যৈষ্ঠ এই তোঁ সময় হাগু দেওয়ার । আসলে এতো ভাব ভুমিকা না করে আসল ঘটনায় আসি , আমাদের বাড়ির সামনে বিশাল একটি জমি আছে , আর এই জমিতে শীতের সময় আলু চাষ এবং গরম মানে এই চৈত ,বৈশাখ্‌ , জ্যৈষ্ঠ মাসে আঊশ বা আমন ধানের চাষ করা হয় । আসলে এই জমির প্রতি আমাদের তীব্র ক্ষোব আছে এই জমিটি আরো ৩০-৩৫ বছর আগে আমার দাদার ছিল , গ্রামের কিছু অমানুষ পেশী শক্তির জোরে জমটি দখল করে নেয় , তার পর চলে গেছে বছরের পর বছর , আমার বাপ চাচারা বড় হয়ে জমিটি উদ্ধারের জন্য তেমন কোন চেষ্টাই করেনি , কারণ একটাই ! আমার বাপ চাচাদের সাথে দখল কারীদের এক সময়ে খুবই ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠে !!আর সেই সম্পর্ক ছিন্ন হবে এই কথা ভেবেই তারা এই জমি নিয়ে আর তেমন কিছুই করেনি ।

যাই হোক আমাদের বাপ চাচা ৬ জনের ছেলে পেলেরা বড় হয়ে সেই জমিটি আমাদের দখলে নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করে , কিন্তু এতে বাপ চাচাদের সমর্থন পাওয়া গেলোনা এই জমির জন্য রক্তপাত বা সম্পর্ক ছিন্ন হোক তায় তারা চায় না , আমাদের বর্তমানে চাচাতো ভাইয়ের সংখ্যা ১৩ , আর সবাই উপযুক্ত এবং তিন ফুপুর ৯ ছেলে ও উপযুক্ত যেই কোন সময়ে যেই কোন কাজে ডাক দেওয়া মাত্রই তারা চলে আসে , আমাদের গ্রামে আমরা সব চাইতে প্রভাবশালী । তাই এই জমি দখলে নেওয়া আমাদের সময়ের ব্যাপার মাত্র , কিন্তু চাচারা তায় কিছুতেই চায় না তাই আমাদের এই তীব্র ক্ষোব বা রাগ মেটাই এই সময়েই হাগু বিসর্জন দিয়ে বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে এই জমিতে আউস বা আমন ধানের চাষ হয় , আর এই সময়ে ধান গাছ থাকে খুবই ছোট , আমাদের বাড়ির পূর্ব দিকে এই জমি । আমরা রাত ১০-১১ টার দিকে সব চাচাতো ভাই গান গাইতে গাইতে সেই ধানের জমিতে গিয়ে একটু দূরে দূরে বসে হাগু দিতাম আহা খোলা আকশের নিচে চাঁদনী রাতে হাগু দেওয়ার মজাই আলাদা এতো চমৎকার পরিবেশ যায় আপনাদের বলে বুঝানো যাবেনা , প্রচণ্ড দক্ষিনা বাতাস জোসনা রাত , হাগু দিতে বসে সবাই যার যার মতন চিল্লাচাল্লি করে গান গাইতোঁ আর আমাদের একটা হাগু দিবস ছিল , তায় হলো বৈশাখের ২৫ তারিখ , আসলে আমাদের দুইটা বাগান বাড়ি আছে , একটার নাম ছাড়া বাড়ি , আর আরেকটা নাম গাঙ্গুল বাড়ি , আর এই দুই বাড়িতেই অনেক আম গাছ আছে এবং প্রচুর আম হয় , তাই এই সময়ে আম পাকা শুরু হয় , আর এই আম খাওয়ার জন্য চাচাতোঁ , ফুপাতো ,খালাতো্‌ ,মামাতো সব ভাইরা বেড়াতে আসতো আমাদের বাড়িতে এবং কম করে হলেও সবাই ১০-১২ দিন থাকার প্রস্তুতি নিয়েই আসতো , তখন আমাদের ভাইদের সংখ্যা হতো প্রায় ৩০ এর উপরে , সাড়া দিন আম খেতাম আর ফালাফালি খেলাদুলা করে সবাই ক্লান্ত হয়ে যেতাম এবং রাতে হাগু দিতাম সেই জমিতে ২৫ সেই বৈশাখ রাতে খিচুড়ি রান্না করা হতো আমাদের বাড়িতে, এইটা আমাদের অনেক দিনের ঐতিহ্য ,দাদা থাকতে আমাদের বাড়িতে বিরাট আয়োজন হইতো , এই ২৫ বৈশাখ রাতে দাদার পীরের ওরস বসতো ,বাড়িতে অনেক মেহমান আসতো , কিন্তু এখন দাদা নেই সেই ওরস মাহফিল ও নেই , তবে এখনো ২৫ বৈশাখের আগে আগেই সব আত্মীয় স্বজন বাড়িতে এসে যায় আমে খেতে , তবে এখনোও ২৫ বৈশাখ রাতে খিচুড়ির আয়োজন হয় । তোঁ সেই দিন রাতে ইচ্ছা মতন সবাই খিচুড়ি খাইতাম এবং রাত ১০-১১ টার দিকে আসতে আসতে সবাই সেই ধান ক্ষেতে যাওয়া শুরু করতাম আর গান গাইতাম । আহা কি মজা খোলা আকশের নিচে দক্ষিনা বাতাসে ছোট ছোট ধান খেতের মাঝে বসে হাগু দেওয়া ।

আসলে এইগুলো অনেক বছর আগের স্মৃতি , আমরা চাচাতো ফুপাতো ভাইয়েরা সবাই বিদেশে এবং যারাই দেশে আছে তারা ব্যবসায়ী কাজে প্রচণ্ড ব্যস্ত , তাই দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই ঐতিহ্য । গত কয় দিন আগে ছোট এক ভাগিনার কাছে রাত ১১ টার দিকে ফোন দিলাম , আর জানতে পারলাম তারা সবাই আম খাইতে বাড়িতে এসেছে । ভাগিনা বললো মামা , জাকির , আরিফ মামা সহ আমরা ৭ জন মিলে আপনারে এতিহ্য রক্ষা করতাছি :O তাদের এই কথা শুনে অবাক হয়ে বললাম কিয়ের এতিহ্য ? উওর পাইলাম আমার ধান ক্ষেতে হাগু বিসর্জন দিচ্ছি মামা হা হা হা হা হা করে কিছু ক্ষন হাসলাম , তার পর ফোন রেখে দেওয়ার সময় বললাম ঠিক আছে তরা হাগু বিসর্জন দিতে থাক আমি আরেকটু পর ফুন দিমুনে রাত ১২ টার দিকে ভাগিনাকে ফেইস বুকে অনলাইনে দেখে আবার ফোন দিয়ে বললাম কিরে ভাগিনা ঘুমাচ্ছো নাকি ? উওর পেলাম মামা হাগু বিসর্জন দিচ্ছি আমি অবাক হয়ে বললাম কিরে বেটা কি এতো হাগু বিসর্জন দেছ যে ৩ ঘন্টাও শেষ হয় না ? উওর পেলাম মামা , জাকির মামা আর আরিফ মামা , হৃদয় ভাইয়া , হাসান ভাইয়া হাগু বিসর্জন দিচ্ছে আর মুবাইল দিয়ে GF এর সাথে কথা বলতাছে তাই হাগু শেষ হচ্ছেনা , আর আমি তাদের ফেলে কি করে যাই ? তাই হাগু দিচ্ছি আর ফেইস বুকে আড্ডা দিচ্ছি । আহা কি বাতাস মামা তখন কইলাম দেশ তোঁ ডিজিটাল হইয়া গেছেরে..... হাগূ বিসর্জন দেওয়ার সময় মুবাইলে কথা কছ, ফেইস বুক চালাছ , আহা আমাদের সময় যদি এই প্রযক্তি থাকতো তাহলে আরো অনেক হাগু দিতে পারতাম এই বলে শেষ করলাম কথা । তার পর থেকে বেশ কয় দিন ধরে খুব বেশি মনে পরতাছে সেই শৈশব সেই স্মৃতি , আহা সে কি আর ফিরে পাবো :'( পূরোনো সেই দিনের কথা, ভুলবি কি রে হায়! ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ২৭ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.