আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভণ্ড পীর, ভয়ংকর চিকিৎসা! ক্ষোভের আগুনে জ্বলছি আমি,কি অমানবিক ঘটনা!!!

বাংলায় কথা বলি,বাংলায় লিখন লিখি, বাংলায় চিন্তা করি, বাংলায় স্বপ্ন দেখি। আমার অস্তিত্ব জুড়ে বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ।

২১ শতকে যেখানে মানুষ মঙ্গলে পৌছে গেছে সেখানে বাংলাদেশের মানুষ কোথায় আছে!!!!????? আজকের প্রথম আলোর সাড়া জাগানো খবর এটি। কপি -পেস্ট আমার পছন্দ নয়। তারপরও এটা করছি মনের কষ্টে।

দেশে কি হচ্ছে এসব!!!????? দেশে কি এক জন মানুষও নেই যিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের কথা বলবেন, আলোর পথে ডাকবেন মানুষকে!??? মনে হয়, নেই । আমি বলছি নেই। থাকলে এ সব মধ্যযুগীয় নির্যাতন করার সাহস কোথায় পায় এই সব ভন্ড পীর আর তার চ্যালারা??? কপি-পেস্ট করার জন্য আমি সত্যি দুঃখিত। আপডেট নিউজ ( প্রথম আলো): "মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার খাসনগর গ্রামের সেই ভণ্ড পীর আমজাদ হোসেন বেপারিকে পুলিশ আজ সোমবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজদিখান থানার পুলিশ তাঁকে তাঁর আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করে।

আজ প্রথম আলোতে ‘ভণ্ড পীর, ভয়ংকর চিকিৎসা’ শিরোনামে আমজাদ হোসেনের বিকৃত চিকিৎসা নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। আজ সকালে পত্রিকায় এ খবর দেখে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর আস্তানায় অভিযান চালায়। " আগের সেই ভয়াবহ লোমহর্ষক খবর( প্রথম আলো) : আড়াই মাসের যমজ শিশু দীপা-নীপার জ্বর হয়েছে। মা পুষ্পরানী তাদের নিয়ে এসেছেন এলাকায় হঠাৎ আবির্ভূত আমজাদ ফকিরের কাছে। আমজাদ দেখেই বললেন, শিশু দুটিকে ভূত-পেত্নিতে একসঙ্গে ধরেছে।

ততক্ষণে পুষ্পরানী দেখলেন অন্য কয়েকটি শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শিশুদের বুকফাটা কান্না দেখে পুষ্পরানী যমজ দুই মেয়েকে নিয়ে ফকিরের আস্তানা ছেড়ে যেতে বাইরে পা বাড়ান। সঙ্গে সঙ্গে আমজাদের দুই সহযোগী মনজিল ও সুরত আলী তাঁর কোল থেকে শিশু দুটিকে ছিনিয়ে নেন। এরপর আমজাদ এগিয়ে এসে প্রথমে শিশু দুটির পা কাপড় দিয়ে বেঁধে খুঁটিতে ঝুলিয়ে দেন। শিশুরা বুকফাটা কান্না শুরু করে।

আমজাদের সহযোগীরা শিশুদের মাকে সরিয়ে নিয়ে যান। আধা ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখার পর পায়ের বাঁধন খুলে তাদের নামানো হয়। এরপর আমজাদ দুই হাতে দুই শিশুর পা ধরে চারদিকে চরকার মতো ঘোরাতে থাকেন। ঘোরানো শেষ হলে শিশু দুটিকে মাটিতে ফেলে প্রথমে লাথি মারতে মারতে উঠানের এ-মাথা থেকে ও-মাথা পর্যন্ত নেন আমজাদ। আতঙ্কে ও ব্যথায় চিৎকার করতে করতে প্রস্রাব করে দেয় শিশুরা।

আতঙ্কিত এক শিশু আমজাদের লুঙ্গি খামচে ধরে। সবশেষে আমজাদ আড়াই মাসের শিশু দুটির পেটের ওপর উঠে দাঁড়ান। শিশুদের তখন কান্নারও শক্তি নেই। শিশুরা আবার প্রস্রাব করে দিলে ছেড়ে দেন আমজাদ। গত মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) এই প্রতিবেদকের সামনে ঘটে এই বর্বর ঘটনা।

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার খাসনগর গ্রামে দেড় মাস ধরে চলছে এই বিকৃত চিকিৎসা। রোগীদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু। কথিত এই পীরের নাম আমজাদ হোসেন বেপারি। গ্রামের লোকজন বলে ফকির। আমজাদ দুই মাস আগেও ভ্যানে করে গ্রামে সবজি বিক্রি করতেন।

গত বৃহস্পতিবার শিশু দীপা-নীপার মা পুষ্পরানী প্রথম আলোকে বলেন, শিশুদের জ্বর ও কাশি হয়েছিল। ফকিরের কাছে আনার পর জ্বর আরও বেড়েছে। তিনি জানান, অনেকের কাছে খোঁজ নিয়েছি, ফকিরের চিকিৎসার পর কেউই ভালো হয়নি। চিকিৎসার নামে আমজাদ চরম নির্যাতন করেন ছোট্ট শিশুদের। সব অসুখ তাঁর কাছে জিন-ভূতের আছর।

তরুণী থেকে বয়স্ক নারী—সবাইকে তিনি মোটা বেত দিয়ে পেটান। মাটিতে ফেলে লাথি মারতে থাকেন। পুরুষদের চিকিৎসা চড়-থাপড়-লাথি। গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত আমজাদের আস্তানা ও এলাকা ঘুরে তিন দিনে প্রায় ৪০০ জনকে এমন নির্মম নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে লাঠিপেটা শুরু হয়, চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।

বেলা তিনটায় শুরু হয়ে সন্ধ্যায় খানিক বিরতির পর মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই বর্বরতা। দেড় মাস ধরে এ রকম চললেও বিষয়টি প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নজরে আসেনি। আমজাদের ‘অমানবিক চিকিৎসায়’ যেকোনো রোগ ভালো হয়—লোকমুখে এমন প্রচার শুনে লোকজন সেখানে ভিড় করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো রোগী সুস্থ হয়েছে, এমন খোঁজ কেউ দিতে পারেননি এই প্রতিবেদককে। সিরাজদিখানের রাজনগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলী আশরাফ বলেন, এটা কোনো চিকিৎসা নয়, অমানবিক নির্যাতন।

মানুষকে ধোঁকা দিয়ে টাকা কামানোর ফন্দি। রোগীরা সবাই দরিদ্র ও নিরক্ষর। প্রশাসনের এটা বন্ধ করা দরকার। চিকিৎসা নিয়েছেন যাঁরা: নতুন বাকতারচর গ্রাম থেকে এনামুল হক এসেছেন মানসিক ভারসাম্যহীন মা জরিনাকে নিয়ে। আমজাদ দেখেই বললেন, ‘ভূত ও জিন দুটোতেই ধরেছে।

’ তাঁকে আমজাদের আস্তানায় রাখা হয়। সকাল-বিকেল দুই বেলা অচেতন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে লাঠিপেটা করেন আমজাদ। সাত দিন এই প্রহার চলবে জানিয়ে এনামুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাকে শুধুই পেটাচ্ছে। অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। ’ মধ্যরাতে ভূতের চিকিৎসা: রাতে ভূতের চিকিৎসার জন্য বাড়ির উঠানে আসর সাজিয়েছেন ধূর্ত আমজাদ।

ঢোল, খোল, হারমোনিয়ামসহ আছে বাদক দল। বাদ্যযন্ত্রের উচ্চ শব্দের মধ্যে সব বয়সের নারী রোগীদের এনে মেঝেতে আছড়ে ফেলা হয়। এরপর চলে উপর্যুপরি লাথি, লাঠিপেটা ও চড়-থাপড়। মারধর শেষে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আমজাদ নিজে নাচেন এবং রোগীদেরও নাচতে বাধ্য করেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা।

এক নারী এই আসরে আসতে চাইছিলেন না। তাঁকে আমজাদের সহযোগীরা টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসেন। পাঁচটি ঢোল, দু-তিনটি খোল, তিনটি হারমোনিয়ামসহ নানা বাদ্যযন্ত্রের উচ্চ শব্দের মাঝে নারীর চিৎকারের শব্দ হারিয়ে যায়। তাঁকে ফকিরের সামনে এনে আছড়ে ফেলা হয়। এরপর লাথি আর মোটা বেত দিয়ে পেটানো হয়।

এরপর যে মেয়েকে আনা হলো, তিনি অবস্থা দেখে নিজেই এলোপাতাড়ি নাচতে শুরু করলেন। নাচ শেষে রোগীর কাছে আমজাদের প্রশ্ন, ‘তুই কী চাস?’ কিছুক্ষণ পর নিজেই জবাব দেন, জিন আরও নাচ দেখতে চায়। এরপর মেয়েটিকে নিয়ে নাচতে শুরু করেন আমজাদ। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে রাত তিনটা পর্যন্ত ৭১ জন রোগীকে লাথি, বেত্রাঘাত ও আছাড় চিকিৎসা দেওয়া হয়। এঁদের কয়েকজন ওসমান মোল্লার স্ত্রী বৃদ্ধ নূরজাহান, প্রতিবেশী আয়েশা বেগম, চরকুন্দলার মোহাম্মদ লিয়াকতের ছেলে নাজমুল সাত দিন ধরে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তাঁরা কেউই সুস্থ হননি বলে জানিয়েছেন। চিকিৎসার দৃশ্য দেখতে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক শ মানুষ ভিড় করে আমজাদের বাড়িতে। ভিড় বাড়তে থাকলে টাকা সংগ্রহ করতে নেমে পড়েন আমজাদের খাদেম মনজিল, সুরত আলীসহ অনেকে। তাঁরা খরচের জন্য ১০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকা করে দিতে বলেন। কেউ বেশি দিলে দিতে পারেন কিন্তু ১০ টাকার কম দেওয়া যাবে না।

‘এটা আধ্যাত্মিক জগত্’: আমজাদ বেপারি বলেন, ‘রোগী আসার আগেই আমি আন্দাজ পাই, কার চিকিৎসা কীভাবে করতে হবে। ছোট বাচ্চাকে পারাইছি। ফুটবলের মতো শট দিছি। আবার দেখেন পাও বাইন্ধা ঝুলাইয়া রাখছি। পাও ধইরা ঘুরাইছি।

এ সবই আল্লাহর ইশারা। উনি বলে দেন, কোন রোগীর জন্য কী করতে হবে। এটাই হলো আমাদের আধ্যাত্মিক জগত্। ’ শিশুদের ঝুলিয়ে রাখার বিষয়ে আমজাদ বলেন, ‘বাচ্চাদের মধ্যে শয়তানের আছর থাকে। এ জন্য ঝুলিয়ে রাখতে হয়।

’ কেউ কি ভালো হয়েছে—জানতে চাইলে আমজাদের জবাব, ‘রোগ সারানোর মালিক আল্লাহ। আল্লাহ আর আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ’ আমজাদের খাদেম মনজিল জানান, এই চিকিৎসায় মারধরের পর সরষের তেলই প্রধান ওষুধ। তবে এখন তিনি ডাব, মুরগি ও ডিমপড়া দিতে শুরু করেছেন। সন্তান না হলে ডিমপড়া আর ক্যানসারের জন্য ডাবপড়া দেওয়া হচ্ছে।

সরষের তেলের সঙ্গে ডাব, ডিম দিচ্ছেন কেন—জানতে চাইলে আমজাদ অর্ধেক বাংলায় ও ভুল ইংরেজিতে বলেন, ‘আল্লাহ আমারে একটা জিনিস দিছে। জিনিসটা ভালা না মন্দ, তাই জাস্টিভিট (জাস্টিফাই) কইরা দেখতাছি। ’ রোগীদের মারধরের পর আমজাদ সরিষার তেল খাইয়ে দেন। বাড়ির উঠানের এক কোণে সরষের তেলের দোকানও বসেছে। আমজাদের ছোট ভাই জিন্নাত হোসেন কিছুদিন আগেও অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন, এখন উঠানে সরষের তেল, মোম ও গোলাপজল বিক্রি করছেন।

রিকশাচালক থেকে ভণ্ড পীর: আমজাদ জানান, তাঁর বয়স ৩৫ বছর। অক্ষরজ্ঞান নেই। প্রায় ১০ বছর কুয়েতে ছিলেন। প্রতিবেশীরা জানান, কিছুদিন আগেও আমজাদ গ্রামে ঘুরে ঘুরে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন। জানতে চাইলে আমজাদ বলেন, ‘তখন কেউ আমাকে ইজ্জত দিত না।

অহোন পীর মানে। ’ আমজাদের বাবা নাজির আলী দুই বছর আগে আত্মহত্যা করেছেন। মা সানোয়ারা বাড়িতেই থাকেন। আমজাদ চার কন্যাসন্তানের জনক। এই ভয়াবহ চিকিৎসা প্রতিদিন আমজাদের মা, স্ত্রী এবং সন্তানেরাও দেখে।

নারী-শিশুদের ওপর ছেলের এই নির্মম নির্যাতনের বিষয়ে কিছু বলতে বললে আমজাদের মা বলেন, ‘বাড়িতে অনেক লোকের সমাগম হয়, হয়তো ছেলে কিছু পাইছে। ’ তাঁর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তাদেরও কি এই একই চিকিৎসা করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আমজাদ বলেন, ‘হ্যাঁ’। আমজাদের কমিটি: আমজাদের কেরামতি প্রচার করছে কয়েকজন ‘খাদেম’। এঁরা কমিটিও করেছেন। কমিটির সভাপতি আমজাদের চাচাতো ভাই আরব আলী, সাধারণ সম্পাদক একই বাড়ির পিয়ার আলী, কোষাধ্যক্ষ সাইদ হোসেন ও আবুল কালাম এবং সদস্য প্রতিবেশী মনজিল, সুরত আলী, মো. হান্নান প্রমুখ।

যোগাযোগ করা হলে সিরাজদিখান উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমি এ ঘটনা শুনিনি। খোঁজ নেব। ’ সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। আর আমরা শুনিনিও। ’ ( কৃতজ্ঞতাঃ প্রথম আলো, ১২ এপ্রিল ২০১০)


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।