আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজন



প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজন আজমাল হোসেন মামুন বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে প্রায় ১৪ কোটি লোকের বসবাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে- বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০% লোক কোন না কোনভাবে প্রতিবন্ধী। সে মতে আমাদের দেশে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। যদি সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তলোকদের সংখ্যা হিসেব করা হয়, তবে এ সংখ্যা ২৫%-এ উন্নতি হতে পারে।

সমীক্ষায় এও জানা গেছে যে, উন্নয়নশীল দেশে ৮০ ভাগ প্রতিবন্ধী গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। এদের অধিকাংশ-ই অশিক্ষিত ও বেকার। অপর্যাপ্ত প্রতিরোধ ও নিরাময়ব্যবস্থার কারনে এই হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাধীনতা উত্তর আমাদের জাতীয় জীবনের ৩৫টি মূল্যবান বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি। এরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রয়ে গেছে।

দেশের এই বিপুল প্রতিবন্ধী জনসংখ্যাকে দেশের সার্বিক উন্নয়নের কর্মকান্ডে বিনিয়োগ না করায় সরকার অর্থনৈতিক চাহিদার মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, তেমনি প্রতিবন্ধী জনগনের কর্মের মাঝে বেঁচে থাকার চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। তাই এদেরকে উপেক্ষা করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করা অসম্ভব। এই প্রতিবন্ধী জনশক্তিকে কর্মক্ষম করার দায়িত্ব এদেশের সরকারের। এটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নায্য দাবি। এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানে এ ব্যাপারে উলে¬খ রয়েছে।

আমাদের দেশে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের দায়িত্ব সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপর ন্যস্ত। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করে থাকে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের জন্য সঠিক কর্মপরিকল্পনা, আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ইস্যুর মধ্যে একটি ইস্যু বা অংশ ধরা যেতে পারে। ফলে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আশানুরূপ উন্নয়ন হচ্ছেনা। ফলে আধুনা বিশ্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বার্থ রক্ষায় মুখপাত্র হিসেবে আলাদা একটি ‘‘প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Disablity)” গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ দেশে প্রতিবন্ধীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তা পৃথিবীর অনেক উন্নয়নশীল দেশের কাছে সংগ্রামী মানবতার উদাহরণ হয়ে থাকবে। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হলে নিম্ন লিখিত সুদূর প্রসারী ভূমিকা পালন করতে পারে: 1. প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করবে এবং সকল বৈষম্য দুর করে দেশের সকল কার্যাবলীতে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা প্রদান করবে। 2. প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধিতার সার্টিফিকেট প্রদান করবে এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা প্রদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। 3. প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বার্থ সংশি¬ষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিজস্ব সংগঠনের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানাবে। 4. প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের স্কুলে পড়ার উপযোগী প্রতিবন্ধী শিশুদের ফ্রি এডুকেশনের প্রবর্তন করবে।

এমনকি প্রতিবন্ধী ছাত্র,ছাত্রীদের নির্দিষ্টভাবে মাসিক বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করবে এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করবে। 5. কর্মসংস্থানের জন্য অবাধ তথ্য-প্রযুক্তিতে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। 6. দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে যে সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিজস্ব সংগঠন রয়েছে, সেসব সংগঠন বা সংস্থা গুলো প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভূক্ত থাকবে। 7. প্রতিবন্ধী মন্ত্রণালয় মূলত: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবে এবং এই মন্ত্রণালায়ের দায়িত্ব নিয়োজিত মন্ত্রী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিজস্ব সংগঠনের প্রতিনিধিদের পরামর্শে নিয়োগ হবে। 8. বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কারিগরী উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন এ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ফর দ্যা ডিজএ্যাবল্ড’’ গঠন করে এ দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বর্ণযুগের সূচনা করতে পারে।

9. দেশের স্থানীয় সরকারের সকল স্তরে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আসন সংরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় সংসদে কমপক্ষে ১৫ আসন সংরক্ষিত থাকবে যা প্রতিবন্ধী মন্ত্রণালয় তদারকি করবে। 10. প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি চাকুরিতে নির্দিষ্ট কোটা বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সকল স্থানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতার লক্ষ্যে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে প্রতিবন্ধী আর কল্যাণ পালনের ইস্যু নয়, জাতীয় উন্নয়নের সকল কর্মকান্ডের ধারাতেই অংশগ্রগণ করা হচ্ছে ডিজএ্যাবিলিটির মূল দর্শন। ‘‘নিজে বাঁচো এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাঁচতে দাও’’। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও দিক-নির্দেশনা পেলে দেশের জন্য অবদান রাখতে সক্ষম এই লক্ষ্য কে সামনে রেখে নবনির্বাচিত গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Disablity)” গঠন করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা ।

বিষয়টির প্রতি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। লেখক: আজমাল হোসেন মামুন () উন্নয়নকর্মী ও সাংবাদিক বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) বিপিকেএস কমপে¬ক্স, দক্ষিণখান, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। তারিখ: ০১১৯১০৮৯০৭৫.

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.