আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নদীগুলো হারিয়ে গেছে

সাগর সরওয়ার

বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে ১৩টি নদী। আরও সাতটি নদী এখন মৃত প্রায়। যে কোন দিন এগুলোয় আর পানি থাকবে না। শুকিয়ে তা হয়ে যাবে পায়ে চলা পথ। বড় নদীগুলোর থেকে ছোট নদীগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া,প্রতিকুল পরিবেশ, ভারত থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া ইত্যাদি কারণে নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো প্রচন্ড হুমকির মুখোমুখি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে এই তথ্য পাওয়া গেছে। যে ছবিটি এখানে দেয়া হয়েছে, সেটি আগামীতে থাকবে কিনা সন্দেহ। মৃত নদীর তালিকায় রয়েছে নরসুন্দর, বিবিয়ানা, শাখা ররাক, পালাং, ভূবেনেস্বর, বুড়িনদী, বামনী, হামকুরা, হরিহর, চিত্রা, মুসা খান, বরালের শাখা নদী এবং হিসনা। এ ছাড়া করতোয়া, ইছামতি, ভৈরব, কালীগঙ্গা, কুমার, চিত্রা এবং ভদ্রা নদী এখন মৃতপ্রায়। পানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ছোট বড় নদী রয়েছে ২৩০টি।

এর মধ্যে ৫৭টি নদী আর্ন্তজাতিক। এই নদীগুলোর মধ্যে ৫৪টির উৎসস্থল ভারত এবং বাকি ৩টি মিয়ানমার। বর্তমানে ভারতের সাথে নদীর পানির হিস্যা নিয়ে সৃষ্ঠ সমস্যার কারণে এখন এই দেশের বিভিন্ন নদীতে সঠিক প্রবাহে পানি আসছে না। বড় বড় নদীগুলো থেকে সৃষ্ঠ ছোট নদীগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পনাহীন ভাবে রাসত্মাঘাট নির্মানের ফলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

প্রতি বছর যে হারে বাংলাদেশের উপর দিয়ে নদীবাহিত পলি পড়তো তাও এখন প্রবাহের অভাবে না সাগরে যেতে না পেরে ভরে যাচ্ছে নদীর তলদেশ। অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তাঘাট এবং বাঁধ নির্মানের ফলেও নদী হয়ে যাচ্ছে মৃত। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে পঞ্চগড়, নিলফামারি, রংপুর বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জের উপর দিয়ে প্রবাহিত ছিল যে করতোয়া নদী , সেটি এখন মৃতপ্রায়। এটি বড় বড় নদী থেকে এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পাবনা, মানিকগঞ্জ ঢাকা এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার উপর দিযে ব্রক্ষ্ণপূত্র নদীতে গিয়ে পড়েছিল ইছামতি নদী, সেটিও এখন মৃত প্রায়।

নাটোর এবং পাবনা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত বরাল নদীর শাখাগুলো এখন মরে গেছে। শুকিয়ে মরে গেছে রাজশাহী এবং নাটোরের উপর দিয়ে বহমান মুসাখান নামের নদীটি। একই অবস্থা হয়েছে নাটোর পাবনার নদী চিকনাই। ভৈরব নদী যা, কুষ্ঠিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনাএবং বাগেরহাটের উপর দিযে চলে গেছে সেটিও ক্রমশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে যশোর খুলনার ভদ্রা নদী।

মরে গেছে কুষ্ঠিয়ার হিসনা নদী। প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে কালিগঙ্গা নদী। এই নদী ছিল কুষ্ঠিয়া, ঝিনাইদহ,মাগুড়া, নড়াইল এবং পিরোজপুরের উপর দিয়ে প্রবাহমান। মেহেরপুর, মাগুড়া, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ এবং মাদারিপুরের উপর দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদীও মৃত প্রায়। হারিয়ে গেছে চুযাডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও যশোরের চিত্রা নদীর উৎসমুখ।

মরে গেছে খুলনার হামকুড়া, যশোরের হরিহর, কিশোরগঞ্জের নরসুন্দ্রা, হরিগঞ্জের বিবিয়ানা এবং শাখা বরাক। শরিয়তপুরের পালাং, রাজবাড়ি এবং ফরিদপুরের ভূবেনেশ্বরী, কুমল্লা ও ব্রাক্ষন্যবাড়িয়ার বুড়িনদী এবং সন্দ্বীপ চ্যানেলের বামনি নদী। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে এই সব নদী গুলোর হারিয়ে যাচ্ছে অথবা ক্রমশ হারিয়ে যাবার কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমশ নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। আগে যে সব নদীগুলোকে দেখা যেতো প্রমত্তা , এখন আর সেগুলোর সেই রূপ চোখে পড়ে না। এখন দেখা যায়, প্রায় মৃত নদীগুলোর দুই পাশের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো এখন খাল বিলের মত অবস্থা হয়েছে।

বালি পড়ে চর পড়েছে। সেই সব চরে এখন মানুষ গড়ছে আবাসস'ল। পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা এখন আর বলতে পারছেন না বাংলাদেশের ছোট বড় নদীর সংখ্যা ২৩০ টি। তারা বলছেন এখন নদীর সংখ্যা ২১০টি। আর এই নদীগুলোও যে কত কাল বেঁচে থাকবে, তাও সঠিক ভাবে তারা কেউই বলতে পারছেন না।

তারা অনেকেই বলছেন, এখন বাংলাদেশের নদীর জন্য পৃথক একটি মানচিত্র প্রণয়ন করতে হবে, যে মানচিত্রে থাকবেনা ঐ মৃত ১৩টি নদী।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।