আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সেবা পেয়ে ধন্য, চাই আমাদেরও জন্য

গলাবাজ আর সত্যিকারের লেখক এই ব্লগে টিকে থাকে, আমি কোনটাই না
দেশে যখন ছিলাম ২০০১ এর দিকে খুলনায় বিটিটিবির ইন্টারনেট কানেকশান নিতে গেলাম। ডেস্কের ভদ্রলোক আমাকে বললেন, ইন্টারনেট দিয়ে তুমি কি করবা? প্রশ্নটা শুনে উত্তর যেন পেটের ভিতর পালালো। আমার সাথের বন্ধুটা চটাং জবাব দিলো, ইন্টারনেট দিয়ে কি করে আপনি জানেন না? বেচার মনে হয় একটু দমে গেলো। ফরম জমা দিয়ে আসলাম। ফোনটা ছিলো আমার মেঝো ভাইয়ের নামে, তার সই নিয়ে একগাদা কাগজ জমা দিলাম।

ডিমান্ড নোটিশ আসলো। সেটাও ব্যাংকে জমা দিলাম, লাইন আর লাগেনা। বেশ কয়েকদিন পর যে অফিসারের কাছে গেলাম তিনি কোন দ্বিধা না করে বললেন কিছু টাকা দিয়ে যান, আর লাইন ঢাকা থেকে পারমিট হয়ে আসে, সময় লাগে, এত সোজা নয়। আমিও ততোধিক বোকার মতো জানতে চাইলাম টাকা দিয়ে কি করবেন? লাইন ম্যানকে দিতে হবে, কিছু হাত খরচ আছে। মাথায় তখন ইন্টারনেট বাসায় লাগার নেশা।

তবুও কেমন করে যেন বল্লাম লাইনম্যানকে টাকা আমি দেবো, আপনি ২০০ রাখেন। ২০০ টাকা দিয়ে আমি একজন ঘুষদাতা হিসাবে নিজের নাম লিখালাম। বদলে বাসায় পেলাম ঐতিহাসিক সেই কানেকশন। পাশাপাশি একটা বেসরকারি আইএসপি থেকেও প্রিপেইড নিয়েছিলাম। যদিও দুটোর কোনটাতেই তেমন কোন গ্রাহক সেবার ব্যাপার ছিলোনা।

কোরিয়া এসে প্রথম বাসায় ইন্টারনেট নেবো। ফোন লাইন ও একই সাথে। ল্যাবমেট অনলাইন থেকে ফরম নিয়ে পূরণ করে ফ্যাক্স করে দিলো। ফরমে আমার মোবাইল নম্বর থাকায় সেখানে একটা মেসেজ আসলো। আগামীকাল সকালে ১১ টায় লাইনম্যান আসবে বাসায়।

ঠিক ১১ টায় গাড়ি নিয়ে টেকনিশিয়ান হাজির। মডেম, তার, জ্যাক সব কিছু নিয়ে কানেকশন ওকে করে ডকুমেন্টে সাইন নিয়ে চলে গেলো। কাজ করার সময় আমি একটু বাইরে বেরিয়েছি, সে বলে ভিতরে যান ভিতরে যান, আপনাকে কষ্ট করতে হবেনা! বাসা পাল্টালাম, ফোন দিলাম, আমার নতুন বাসায় লাইন রিকানেক্ট করে দিয়ে যাও। এবার আসলো এক নাদুস নুদুস লোক। কাজ করতে যেয়ে ঘেমে যাচ্ছে, সারা কোমরে যন্ত্রপাতি, কয়েক মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ।

কাজ শেষ হতেই আমার মোবাইলে ফোন, এটুকু বুঝলাম তোমার লাইন কি ঠিক হয়েছে? আমি বল্লাম সব ওকে। লোকটাকে একটু জুস অফার করলাম আর বিস্কুট। তার সেকি লজ্জা, অবশেষে দ্রুত খেয়েই চলে গেলো। বাসার সামনে কনস্ট্রাকশন চলছে, কিভাবে মনে হয় নেটের লাইনটা কেটে গেলো। বাসায় এসে দেখি লাইন নাই।

ভাবলাম হয়তো মডেম নষ্ট, ফোন দিলাম কাস্টমার কেয়ারে। মহিলা বললো, আজ সব বুকড, কাল সকালে লোক যাবে। ঠিক আছে, তাই সই, ওমা আধাঘন্টা যেতেই ফোন, আমাদের লোক ফ্রি হয়েছে, এখনই যাবে, তুমি কি বাসায় যেতে পারবে? গেলাম, গাড়ির পিছন থেকে ফোল্ডিং মই বের করে চড়া রোদের ভিতর একা একাই পুরো কাজটা শেষ করে ফেললো। আজ এ বেটা পিডিএ টাইপের কি নিয়ে এসেছে। ওখানেই সব লিখলো, আমার ডিজিটাল সাইন নিলো।

তারপর ধন্যবাদ দিয়ে চলে গেলো। গত দুইমাস নাকি ঐ কোম্পানির নতুন কানেকশন দেয়া বন্ধ। কারন তাদের কাষ্টমার কেয়ারে নাকি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিলো! তাই দুই মাসের এই শাস্তি। আরেক বাংলাদেশি ভাই নতুন কানেকশন নিতে যেয়ে এই তথ্য জানতে পারলেন। আমাদের দেশে এমন বিচার শুরু করলে কি দশা হবে একবার ভাবুন তো?
 


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.