যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী করছি
ঘটনাটা অতি সাম্প্রতিক। ইউরোপে বসবাসরত এক ছোট ভাইএর জন্যে মিস্টির উপাদান পাঠাবো। দুই প্যাকেট কিনে প্যাকেট কিনে ওজন দিয়ে দেখি মাত্র ২৫০ গ্রাম। আর পোস্টাল রেট ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত একই। গিন্নীর পরামর্শে শুকনা মিস্টির প্যাকেট যোগ করার সিন্ধান্ত নিলাম।
সেই মোতাবেক ২০০ গ্রামের বনফুলের শনপাপড়ির প্যাকেট কিনে আনলাম। একটা পাঠাবো আর একটা নিজেরা খাবো। দেশে থাকার সময় কিছুদিন পশ্চিম রাজাবাজার থেকেছি। বাসা থেকে হেঁটে বনফুলের দোকানের সামনে থেকে রিক্সা নিতাম। আর যে কোন দাওয়াত বা উতসবে বনফুল ছিলো আমার প্রথম পছন্দ।
তাই বলা যায় - বনফুলে শনপাপড়ি দেখে কিছুটা নস্টালজিক হয়ে গিয়েছিলাম।
ছোটভাইরে জন্যে প্যাকেট তৈরী করে নামধাম লিখে রেখ এদিয়েছিলাম। কিন্তু দারুন ভাবে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার ফলে সেই প্যাকেট পোস্ট করা হয়নি। বাসা রয়ে গেছে। এই নিয়ে গিন্নির আক্ষেপ - আহা, ছেলেটা যদি মিস্টিটা পেত - কতই না খুশী হতো।
আমি কিছুটা রক্ষনাত্বক হয়ে বুঝালাম - দেখো এতো দুরে রাস্তা - দু্ইদিন দেরীতে আর কি হবে!
যাই হোক, শুক্রবার রাতে বাসায় ফিরে সবাই মিলে সপ্তাহান্তের মুভি দেখা শুরু করি। সেই সময় গিন্নী সাধারনত মুভি টাইমের স্ন্যাক্স সরবরাহ করে। সেই দিন গিন্নী আনন্দের সাথে ঘোষনা করলো - "আজ হবে বনফুলের শনপাপড়ি!"
আমরা মুভির দিকে বেশ মনোযোগী - গিন্নী ডাইনিং টেবিলের উপর শনপাপড়ির প্যাকেট রেখে কাঁচি দিয়ে কাটছে। হঠাত গগনবিদারী চিতকার করে গিন্নী মিস্টির প্যাকেটটা মাটিতে ফেলে দিলো। আমিও লাফ দিয়ে উঠে গিন্নীকে ধরতে গেলাম - ও বলে উঠলো - "দেখো দোখো - পোকা - উড়ছে"!
সত্যইতো! নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।
বনফুলের মিস্টির সিল করা প্যাকেট - ভিতরে প্লাস্টিক কনটেইনার - তার ভিতর থেকে একধরনের ৩/৪ মাছি বেড়িয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। আর তখনও কন্টেনারের ভিতরে কয়েকটা জ্যান্ত মাছি হাঁটছে।
দ্রুত প্যাকেটটাকে একটা পলিথিনে ভরে চোখের আড়াল করে ফেলি। কারন - মাত্র তিনদিন আগে কানাডার কোর্টে বোতলের পানিতে মাছি পাওয়া নিয়ে বিরাট হৈ চৈ মার্কা মামলার রায় হয়ে গেল। এখন হয়তো গিন্নী বনফুলের নামে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার জন্যে আমাকে বলবে।
সেই বিপদ মিস্টিতে মাছি পাওয়ার চাইতেও ভায়বহ হবে।
ভাগ্যিস - মাছিগুলোর ইউরোপ ভ্রমনের দায় আমার ঘাড়ে এসে পড়েনি - আরেকটু হরেই পড়তো। তারপর আর কি করি। ছোট ভাইএর প্যাকেট থেকে বনফুল বের করে ফেলি। বাংলাদেশী বনফুলের পরিবর্তে অতিব দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ভারতের তৈরী "হলদিরাম" এর এক প্যাকেট শনপাপড়ি পাঠানোর কথা ভেবেছি।
সেই ঘটনার পর থেকে কিছু প্রশ্ন মাথায় - প্রযুক্তিগত উতকর্ষতায় বনফুল কত এগিয়ে আছে - তারা অনির্দিষ্ট কালের জন্যে প্লাস্টিক কন্টেইনার আর সিল করা এলুমিনিয়াম ফয়েলের ভিতরেও মাছিগুলোকে জ্যান্ত রাখতে পেরেছে। লক্ষ্যনীয় তাদের প্যাকেটে মেয়াদ উত্তীর্নের তারিখ নেই। যদি কখনও কানাডিয়ান ফুড এসেন্সীর নজরে আসে - তবে হয়তো মাছিওলায় শনপাপড়িও আমরা পাবো না।
তাই ভাবছি, কি করবো!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।