গতকাল বাবা বাসায় ফিরে বলেছে তার কোন বন্ধু নাকি ল্যান্ডফোনে অনেক ট্রাই করেছে, পায়নি। আমি বললাম আমি একটু বিজি ছিলাম।
সেলফোনটা ইউজ কর!
তোমার বন্ধুরাওতো সেলফোনে ফোন দিতে পারে, নাকি?এযুগে ল্যান্ডফোন কেউ ব্যবহার করে ?
তুই কেন করিস?
থাক বাবা, একদিন ফোন বিচজ রাখায় তোমার যদি এতো অসুবিধা হয় ফোনটা তুমি তোমার রুমে নিয়ে যাও।
কিছু বললেই খেপে যাস কেন?
ঠিক আছে, দে আমার রুমেই পাঠিয়ে দে।
আমি তখনই সেটটা বাবার রুমে চালান করলাম।
একটুপর মা এসে বলে কাজটাকি ভালো করলি?
কি মা?
তোর বাবার হার্টের প্রবলেম ফোনটা তার রুমে দিলি? কোনও খারাপ খবর টবর, কোনও উটকো ফোন টোন এলে তোর বাবার কী অবস্থা হবে ভাবলি না?
সেটাতো মা সেলফোনেও হতে পারে।
মোবাইল ফোনের নাম্বারতো সবার কাছে নেই! তাছাড়া ওটা বন্ধ রাখা যায়, স্ক্রিন্ড করা যায়,
মা তোমাদের ধারণা একবার ফোনে তোমাদের না পাওয়ায় একটা সমস্যা হয়েছে বলে প্রতিনিয়ত এই সমস্যা হবে! এটা ঠিক না। ভাগে যা থাকে তাই হয়। প্রযুক্তি বলো সুযোগ সুবিধা বলো কিছুই ঠেকাতে পারে না।
ওকে! তুই অনেক জ্ঞানী হয়েছিস! তোর কথাই ঠিক!
মা চলে গেলো।
খোঁচাটা আমার ভীষণ লাগল। শিক্ষা নিয়ে কেউ খোঁচা দিলে আমার একদম সহ্য হয় না।
ভেবে দেখল তার রেগে যাওয়াটা ঠিক হলো কি না!
রাতে বাবা বললেন তোর ফোন! আয় আমার রুমে আয়।
সামিয়া বুঝল কে হতে পারে।
ফোনটা ধরে অবাক হল।
ওপাশের কণ্ঠটা শুধু কাঁদছে। সামিয়া হ্যালো হ্যালো বলায় একটু ক্ষীণ ভাঙা কণ্ঠে হ্যালো শোনা গেলো।
কী হয়েছে?
বাবা বকেছে।
কী বলে বকেছে?
বলেছে ফালতু ছেলে। ফালতু না হলে কেউ এতো রাতে ফোন দেয়?
ঠিকইতো বলেছে।
স্যরি ম্যাডাম আমি আপনাকে আর কোনওদিন ফোন দিব না।
ভেরি গুড! তোমার কিছু বলার থাকলে আমি যখন তোমার শোরুমে যাবো তখন বলো।
কবে যাবেন?
যাবো, যখন খুব ইচ্ছে করবে কবিতা শুনতে, আর যখন দেখবো শিমুল মুস্তফার নতুন আবৃত্তির অ্যালবাম বেরিয়েছে তখন।
ম্যাডাম আপনার সেল নাম্বারটা একটু দেবেন?
স্যরি! এটাতো সম্ভব না।
তাহলে আমার নাম্বারটা একটু রাখেন!
আচ্ছা দেও।
০১৭১১৫২৩২....
এটাতো মনে হচ্ছে সেই প্রাথমিক আমলের নাম্বার!
জ্বি ম্যাডাম।
সামিয়ার একটু চিন্তা হলো। ছেলেটাকে আদৌ মনে হচ্ছে না দোকানের কর্মচারি।
ম্যাডাম একটা কথা জিজ্ঞেস করেই ফোন রেখে দেবো..
বলো..
আপনি কি শিমুল মুস্তফার খুবই ভক্ত!
ভক্ত মানে মারাত্মক ভক্ত! এটা নিয়ে আমার বন্ধুরা প্রায়ই আমাকে খ্যাপায়। বুঝলে? রাখি তাহলে?...
সামিয়ার আবৃত্তি ভালো লাগে।
অনেক ক্যাসেট ওর। এমন কোনও আবৃত্তিকার নেই যার সিডি ও কালেকশন করেনি। তবু মিথিলাটা ওর সবচে প্রিয়। মিথিলা ও প্রথম যখন শোনে তখন ওর বয়স...ক্লাস সেভেনে পড়ে।
ওর আরেকটি প্রিয় আবৃত্তি হলো ভয় নেই প্রিয়তমা
ভয় নেই প্রিয়তমা, আমি এমন দিন এনে দেবো যেন সেনা বাহিনী বন্দুক নয় গোলাপের তোড়া নিয়ে মার্চ পাস্ট করবে...
রুমে ঢুকে কম্পিউটারে হার্ডিস্কে রাখা আবৃত্তির ফোল্ডারটা ওপেন করলো।
এখন আবৃত্তি বাজবে আর সামিয়া চোখ বন্ধ করে স্মৃতি হাতরাবে, ভাববে...
বাবা বলেছে আর যদি একটা ফোনও সামিয়র আসে তাহলে ফোনটা সে চিরকালের জন্য বন্ধ করে দেবে।
সামিয়ার বাবা ভীষণ জেদী। মেয়ের ব্যবহারটা সে একদমই মেনে নিতে পারছে না। সবসময় মা সামিয়ার পক্ষে থাকে অন্তত মনোমালিন্য হলে সেই সমাধান করে আজ সেও খেপে আছে। সেকি খুব স্বার্থপর আচরণ করল।
এটাই ভাবছে সামিয়া।
ফোনটা নিয়ে আসতে চেয়েছে, কিন্তু হেরে যেতে চাইছে না মন। বাবার কাছেও আত্মসম্মান কোরবানী দিতে চায় না মেয়ে। যে কারণে সংসার তার টিকল না। মানে টেকার মতো টেকেনি।
এ নিয়ে সামিয়ার কোনও অন্তর্দাহ নেই। কলেজে জয়েন করার পর মানে বিসিএসএ টিকে যাবার পর কাউকে আর পরোয়া করে না সে এমন অভিযোগ অনেকের। তবে সামিয়ার ধারণা এটা নিতান্তই ওরপ্রতি মানুষের ঈর্ষা! নয়ত ওরওতো ভক্ত বন্ধু অনেক। তারাতো বলে না ওকে অহঙ্কারী।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।