অভিলাসী মন চন্দ্রে না পাক, জোছনায় পাক সামান্য ঠাই
সীমান্ত হত্যা সংক্রান্ত ঘটনায় মুদ্রার অপর অংশ দেখে একটা কথা না বললেই নয়, যে, সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা'র একটা বড় দায় আমাদের নিজেদের কাঁধেই!
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী এলাকা ও সীমান্তবর্তী মানুষগুলো ভীষনভাবে ভারতের উপর নির্ভরশীল। অবৈধ চোরাচালান, অবৈধভাবে মানুষ যাতায়াত, এবং বাংলাদেশে'র তরফ থেকে গার্ডহীন অরক্ষিত সীমান্ত স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ঐতিহাসিকভাবেই এমনটা হয়ে আসছে।
অবৈধভাবে মানুষ ও পণ্য'র সীমান্ত পাড়ি কোনভাবেই বাংলাদেশের উপকারে আসে না। না পাই আমরা শুল্ক, না পাই বাজারের সঠিক চিত্র, উল্টো আমাদের দেশের অপমান এবং মানুষের মৃত্যু।
বাংলাদেশীদের এই অবৈধ প্রবনতার কারনে বিডিআরও পারে না সীমান্ত রক্ষায় কঠোর হতে।
এটা বন্ধ না হলে কিন্তু সীমান্ত হত্যাও বন্ধ করা যাবে না।
ভারত-বাংলাদেশের একাধিক স্থল বন্দর থাকা স্বত্বেও উভয় দেশের মানুষই চোরাচালান করে। কিন্তু মরে শুধু বাংলাদেশীরাই।
চোরাচালান বা অবৈধ যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ভারত'কে বহুলাংশে দায়ী করা সম্ভব কিন্তু আমরা তো জানি যে আমাদেরও সংশোধনের প্রয়োজন আছে।
আত্মশুদ্ধি ছাড়া সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
চীন-পাকিস্তানের সাথে ভারতীয় সীমান্তে এজন্যই হত্যাকান্ড ঘটে না কারন সেখানে উভয় দেশই নিজ নিজ সীমান্ত সুরক্ষায় সমান সচেতন। বাংলাদেশে'র মত সীমান্ত উন্মুক্ত করে রাখে না।
এমনকি দেখবেন যে, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তেও কিন্তু বিএসএফ এত আগ্রাসী হতে পারে না কারন ঐ অঞ্চল দিয়ে অবৈধ যাতায়াত একটা সীমিত।
যুক্তি আসতে পারে যে, গরীব মানুষেরা আর কি করবে? গেলে কি মেরে ফেলতে হবে নাকি?
আমি বলবো, এটা কাঙ্গালীপনা, যা দারিদ্রে'র চেয়ে শতগুন ভয়াবহ।
আরো যুক্তি আসতে পারে যে, কমমূল্যে গরিব মানুষ পণ্য পাবে কিভাবে?
আমি বলবো, ভারতের সাথে অবৈধ সব সম্পর্ক ছিন্ন করলে বাজারে যেসব কর্মসংস্থান ও পণ্যে'র ঘাটতি দেখা যাবে সেগুলো চাহিদা অনুযায়ী আজ না হয় কাল ঠিকই লোকালী উৎপাদিত হবে। আর যেসব মানুষ ভারতে কাজ করতে যেতে চায় ওরা চাইলেই ঢাকা বা অন্যান্য যে কোন বিভাগীয় শহরে যেয়ে ভারতে যা পাবে তার বেশী না হলেও সমান রোজগার ঠিকই করতে পারবে।
আসল কথা হলো, বাংলাদেশ তো মহল্লা'র বস্তি না, যে, মহল্লা'র লোকজন নিরাপদেই আসা যাওয়া করবে, কিন্তু বস্তিবাসী'র ফ্ল্যাটে ঢোকা দাড়োয়ানের মুডে'র উপর নির্ভর করবে???
আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, বাংলাদেশ যদি আজ থেকে নিয়ম অনুযায়ী সীমান্ত প্রোটেক্ট করে তাহলে বিএসএফ এর হাতে বাংলাদেশী হত্যা শুণ্যে'র কোঠায় নেমে আসবে, এরপরও যদি জান-মালে'র ক্ষতি হয় তবে সেটা অবশ্যই একতরফা হবে না। সেইসাথে আমরাও অসীম যন্ত্রনা ও জাতিগত লজ্জা'র পাশাপাশি আত্মনির্ভর জাতি হয়ে দাড়াতে পারবো।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।