যে ঘড়ি তৈয়ার করে - সে - লুকায় ঘড়ির ভিতরে
ফান্ডামেন্টালিজম ধর্মান্ধতার খুব ভালো অনুবাদ না। অনেক ইসলামিস্ট ফান্ডামেন্টালিজম টার্মটার বিরোধীতা করে থাকে। তাদের কথা হলো ফান্ডামেন্টাল যে মানে, সে যদি ফান্ডামেন্টালিস্ট হয়, তাইলে যেকোন প্রাকটিসিং মুসলিম নিজেরে ফান্ডামেন্টালিস্ট ডাকতেই পারে।
কিন্তু মিডিয়ায় ফান্ডামেন্টালিস্ট ব্যবহার করা হয় উগ্রপন্থীদের চিহ্নিত করতে অনেক সময়েই। উগ্রপন্থীর আরেকটা টার্ম এক্সট্রিমিস্ট যেইটা ইদানীং বেশি ব্যবহার করা হয়।
আর তার চাইতে বেশি পপুলার টেরোরিস্ট। সমস্যা হইলো এখন মিডিয়া ম্যানিপুলেশনে ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্টের পক্ষের আন্দোলনকারী অথবা পেটের ভাত রুটির দাবী কারীকেও কখনো কখনো টেরারিস্ট বলে ট্যাগ করা হয় যেটা বিপজ্জনক ট্রেন্ড। সেই লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে ফিলিপিন, স্বাধিকার আন্দোলনের দাবীদার অনেক মানুষ তাই এখন টেরোরিস্ট।
আলজেরিয়ায় এখন ভোটের মৌসুম। পশ্চিমের মদদপুষ্ট প্রচন্ড করাপ্ট একটা সরকার কাউকে ক্ষমতায় আসতে দেবে না।
এদের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলবে তারাই হয়ে যাবে টেররিস্ট।
আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মীয় উগ্রপন্থী সমস্যা কথা চিন্তা করলেই আল্লাহর আইন চাই ফেনোমেনা ভেসে ওঠে। আল্লাহর আইন মানে স্লোগানে শরীয়ার কথাই বুঝানো হয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় শরীয়া খুব বড় একটা টোপ এই উগ্রপস্থী তৈরীতে। ইসলামের শরীয়া যথেষ্ট ধোয়াঁটে একটা ব্যাপার যেটাকে রিফর্ম এবং মডার্ন ইন্টারপ্রেটেশনে আনার যাবতীয় প্রচেষ্টাকে বারবার নষ্ট করা হয় সো কলড ফান্ডামেন্টাল ক্যাম্প থেকে।
আমি খুব ইন্টারেস্টেড বোঝার জন্য একজন জামাতির জামাতী হয়ে ওঠা প্রসঙ্গে। যতদুর বুঝি একজনকে ধর্ম ভিততিক রাজনীতিতে টেনে আনার পেছনে ঐ আল্লাহর আইন বা শরীয়ার টোপটা একটা বড় ইসু্। কিন্তু মজার বিষয় হলো যেটা আল্লাহর আইন নামে চালানো হয় সেইটা মূলত মানুষের বানানো ইন্টারপ্রেটেশন ।
কুরআনে বিভিন্ন কনটেক্সটে বিভিন্ন পদ্ধতির কথা এসেছে। সেটা অনেকটাই ইউনিভার্সাল না, ইউনিভার্সাল হওয়ার ইনটেনশনও ছিলো না।
অনেক আইন ছিলো বিশেষ পরিস্থিতি ও কনটেক্সট নির্ভর। অব্যবহিত সময়ে যে ইন্টারপ্রেটেশন এসেছে তার পুরোটাই ছিলো সময়, সংস্কৃতি নির্ভর। এবং যতনা ওখানে আল্লাহর আইন (যদি কুরআনিক নির্দেশকে ধরা হয়্ এক্ষেত্রে), তার থেকে ঢের ঢের বেশি মানুষের আইন। সেইটাকেই এখনো টেনে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাই শরীয়া আইডিয়ায় প্যাচ অনেক।
তবে সেই প্রসঙ্গ হয়তো পরের কিস্তিতে।
এই কিস্তিতে জামাতির জামাতী হয়ে ওঠার পদ্ধতিটা বোঝার একটা চেষ্টা। কারো ফাস্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স থাকলে শেয়ার করবেন। মূলত কি ধরনের মোটিভেশন একজনের ব্যক্তিগত ধর্মপালনকে রাজনৈতিক ফরম্যাটে নিয়ে যায় বা যেতে উৎসাহিত করে সেটার সামাজিক পদ্ধতি, বিশেষ করে আমাদের সমাজের কনটেক্সটে - সেইটা বোঝার ইনটেনশন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।