একদিকে শীতের পরশে হিম হিম ঠাণ্ডা অন্যদিকে অবরোধের উত্তাপ, এর মাঝেও কাজ করে যাচ্ছেন, নিশ্চয়ই মিশ্র অনুভূতিতে ভাসছেন?
সে আর বলতে, গত সপ্তাহে নবাবগঞ্জ গিয়েছিলাম 'সেকেন্ড ইনিংস' ধারাবাহিকের শুটিংয়ে। যাওয়ার পরপরই অবরোধ শুরু হলো। বুধবার বিকেলে অবরোধ শেষ হওয়ার কথা। ঠিক করলাম বিকেলেই রওয়ানা দেব। পরক্ষণেই খবর এলো শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অবরোধ বাড়ানো হয়েছে।
মহা বিপাকে পড়লাম। বিপদটা হতোনা। একগাদা শপিং করে রেখেছিলাম বলেই বিপত্তিটা ঘটল।
নবাবগঞ্জে গিয়ে কি শপিং করলেন?
আরে গ্রামে গঞ্জেইতো টাটকা শাক সবজি, মাছ, দই, দুধ আর দেশি মুরগি পাওয়া যায়। ঢাকা শহরে এসবতো সোনার হরিণ।
তাই মনের সুখে বাজার করতে শুরু করলাম। প্রচুর পরিমাণে নানা রকমের মাছ, শাক- সবজি আর হিন্দু বাড়ি থেকে দই কিনলাম। কিন্তু যখন শুনলাম অবরোধ বেড়েছে তখনতো মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। হায় হায় এখন কি করব, সবতো নষ্ট হয়ে যাবে। ঠিক করলাম যেভাবে হোক মধ্যরাতেই রওয়ানা দেব।
যেমন কথা তেমন কাজ, সহশিল্পী ফারুক আহমেদ, শামীমা, জীবন, ভৌমিক, সুমাইয়া সুমীসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে ঢাকার পথে যাত্রা করলাম। পথে আবার ডাকাতের ভয়। অবরোধ আর ডাকাতের ভয়কে জয় করে রাত আড়াইটার দিকে বাসায় এসে পৌঁছালাম। বাহ, যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
শাক-সবজি, মাছ, দুধ এগুলো নিশ্চয়ই বহাল তবিয়তে ছিল?
ওগুলোকে বাঁচাতেইতো জীবন বাজি রেখেছিলাম, বহাল তবিয়তে থাকবে না তা কি হয়।
ফিরে এসে মাছ , শাক- সবজি নিয়ে আমার দ্বিতীয় যুদ্ধ শুরু হলো। মানে এখানেও সেকেন্ড ইনিংস। এসব যদি শুকিয়ে যায় তাহলে আত্দীয় স্বজন আর বন্ধু বান্ধবদের কিভাবে দেব। এই চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লাম। দোকানদারদের দেখেছি এ সব টাটকা রাখতে পানির ছিটা দেয়।
আমিও তাদের নকল করে তাই করলাম। এরপর ছাদে গিয়ে সবকিছু শিশিরের নিচে রেখে দিলাম। এসব করতে করতে কখন যে ভোর হয়ে গেলো টেরই পেলাম না। যাক শেষ পর্যন্ত পানির ছিটা আর শিশির সিক্ত হয়ে ওগুলো বেঁচে গেল, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।
বললেন পথে ডাকাতের ভয়, এখনো ডাকাতকে ভয় পান?
ডাকাত শব্দটাইতো কেমন জানি বিদঘুটে আর বিশ্রী।
ভয়ের চেয়েও আমার আক্ষেপটা বেশি। ছোটবেলা থেকেই এই শব্দটা শুনে আসছি। এখন এই আধুনিক যুগে এসেও কেন শব্দটি ব্যবহার করতে হবে এ কথা ভেবে অবাক হই। সবকিছুতো আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলেছে, তবে কেন 'ডাকাত' শব্দটা রয়ে গেছে। ডাকাত শব্দটা বড্ড সেকেলে, তাই এটা বদলানো উচিত।
দেশি মুরগি যে কেনা হলো না?
আহা, ওই দুঃখটাতো আমারও। আসলে কি জানেন, মুরগি নিয়ে যদি গাড়িতে উঠি তাহলে ওগুলো কক কক করে অন্যদের বিরক্ত করবে। তাদের সুবিধার কথা ভাবতে গিয়েইতো আমার স্বাদের দেশি মুরগি আর কেনা হলো না। তবে আগামীবার যেভাবেই হোক দেশি মুরগি কিনে আনবোই। তবে জবাই করা মরা মুরগি নয়, একবারে জ্যান্ত নিয়ে আসব।
এবার কাজের কথায় আসি, অভিনয় নিয়ে কেমন ব্যস্ত সময় পার করছেন?
অনন্ত জলিলের 'মোস্ট ওয়েলকাম টু' ছাড়াও আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র এবং 'সেকেন্ড ইনিংস' ধারাবাহিকের পাশাপাশি অন্য কিছু নাটকের কাজ শেষ করলাম। রোজই প্রচুর কাজের প্রস্তাব আসে, কিন্তু মনেরূ মতো হয় না বলে সব কাজে আগ্রহ দেখাইনা। কারণ আজীবন ভালো কাজের কাজী হয়েই থাকতে চাই।
*শোবিজ প্রতিবেদক
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।