আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শিত হবে হোটেল র‌্যাডিসনে

ফুটবলার হিসেবে কাজী সালাউদ্দিন অনেক ট্রফি হাতে তুলেছেন। করেছেন বিজয়ের উৎসব। কিন্তু কখনো স্বপ্নের বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে নেবেন তা কি ভেবেছিলেন? সত্যিই তিনি ভাগ্যবান। ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার ২৯ বছর পর তিনি তা স্পর্শ করার সুযোগ পেলেন। হ্যাঁ, সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি ঢাকায় এসেছে।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় ফিফার নিজস্ব বিমানে আমিরাত থেকে ট্রফি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পেঁৗছালে তা গ্রহণ করেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। এ সময় সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী ছাড়াও বাফুফে ও স্পন্সর কোকা-কোলার ঊধর্্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কিছুক্ষণ পরই ট্রফি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় ট্রফি সামনে রেখে হোটেল র্যাডিসনের সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ঢাকায় থাকা অবস্থায় ট্রফি এই হোটেলে রাখা হবে।

২০০২ সালের জাপান-দ. কোরিয়া যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ শুরুর আগে ঢাকায় ট্রফি আনা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছেও ট্রফি নেওয়া হয়েছিল। প্রথম অবস্থায় বাফুফে থেকে মূল ট্রফির কথা বলা হলেও পরে নিজেরাই স্বীকার করেন ঢাকায় রেপ্লিলিকা ট্রফি ঘুরে যাওয়ার কথা।

স্পন্সর কোকা-কোলা ও বাফুফে থেকে বলা হয়েছে রেপ্লিকা নয় এবারই প্রথম দুনিয়া কাঁপানো বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল ট্রফি ঢাকায় এসেছে। সুতরাং বাফুফের এ ঘোষণায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়।

ফুটবল এক সময়ে দেশের প্রধান জনপ্রিয় খেলা হলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই। মান ও জনপ্রিয়তা দুটোই কমে যাওয়াতে ক্রিকেট ফিরেই শুধু উন্মাদনা চোখে পড়ে। তবে বিশ্বকাপ এলে পুরো দেশই যেন কেঁপে উঠে। ২০১৪ সালে ১২ জুন থেকে ব্রাজিলে বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে। অথচ এখন থেকেই কে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।

আর মূল ট্রফি ঢাকা আসতে তা নিয়ে উত্তেজনা তো থাকবেই। বাফুফে আশা করছে ট্রফি আগমনে ফুটবলে হারানো প্রাণ ফিরে আসবে। এ যুক্তি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কেননা মূল ট্রফি হলেও প্রচার ও ঢাকা শহরকে সেভাবে সুসজ্জিত করা হয়নি।

ছয়মাস আগেই বাফুফে থেকে জানানো হয়েছিল ট্রফি আসার কথা। কিন্তু সে রকম প্রচার না থাকাতে অনেকেই তা জানেন না। তাছাড়া ক্রীড়াঙ্গনে দেশের প্রধান ভেন্যু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ট্রফি প্রদর্শন করার কথা থাকলেও গতকাল তা বাতিল করা হয়। অথচ ট্রফিকে ঘিরে কোকা-কোলার পক্ষ থেকে স্টেডিয়ামে ব্যাপক সাজসজ্জা করা হয়। বাফুফে থেকে এ ব্যাপারে পরিষ্কার জানা না গেলেও জানা যায় নিরাপত্তার কথা ভেবে তা বাতিল করা হয়।

এখন হোটেল র্যাডিসনেই আজ ও কাল ট্রফি প্রদর্শন করা হবে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই আসন সংরক্ষিত ছিল। কোকা-কোলা ও বাফুফের তালিকা অনুযায়ী ১৫ হাজার দর্শক এ ট্রফি দেখার সুযোগ পেতেন।

এখন অবরোধ চলাকালে র্যাডিসনে কতজন ট্রফি দেখতে যাবেন সেটাই দেখার বিষয়। নিরাপত্তার কথা বলা হলেও বাফুফে বা কোকা-কোলা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছে।

সেক্ষেত্রে তারা যদি বঙ্গবন্ধুর বদলে বনানী আর্মি স্টেডিয়ামকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নিতেন তাহলে ট্রফি দেখতে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা থাকত। সত্যি বলতে কি ২০০২ সালে রেপ্লিলিকা হলেও বিশ্বকাপের ট্রফি আগমন উপলক্ষে বাফুফের আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো। টিকিট থাকলেও পুরো গ্যালারি ভরে যায়। মোহামেডান-আবাহনী সাবেক তারকাদের নিয়ে এক প্রীতিম্যাচের আয়োজন করা হয়। সে ক্ষেত্রে মূল ট্রফি এলেও আয়োজনটা সাদামাটাই মনে হচ্ছে।

বাফুফে তবু আশাবাদী এতেই ফুটবল জেগে উঠবে।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/index.php     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.