আমি আঁধারে তামাসায় ঘেরা জীবন দেখেছি, আমার বুকের ভেতর শূন্যতা থেকে শূন্যরা এসে বাসা বেঁধেছে, আমি খুঁজেছি তোমাকে সেই আঁধারে আমার মনের যত রঙলীলা; আজ সাঙ্গ হতেছে এই ভবের বাজারে।
আমার মৃত্যুর পর আমাকে তোমরা খুজনা আমার মৃত্যু ভূমির ‘পর
সেখানে তোমরা আমাকে পাবেনা খুঁজে; সীমাহীন এক যন্ত্রণার আঁধার ।
আমি লুকিয়ে রব লোক চক্ষুর অন্তরালে; কিছু না পাওয়ার ব্যথাতুর বেদনার,
শকুনেরা আমাকে ছিঁড়ে খাবে;
রক্ত আর ভস্মীভূত দহনের জ্বালায় আমি হতে রব কাতর।
নামটাই গোলাপ কিন্তু কাজ কর্ম কিন্তু গোলাপের মতন না । পুরাই কাঁটা ।
কাঁটা লাগা আর কি ! এইটা কিন্তু তার আসল নাম না । আসল নাম আজো কেউ জানেনা । তাকে সবাই গোলাপ ভাই নামেই চিনে।
গোলাপ ভাইয়ের চা আর সিগারেট খাওয়ার খুব নেশা আছে । রোজ সাকিলের দোকান থেকে চা আর সিগারেট খায় কিন্তু টাকা না দিয়ে চলে আসে ।
আজো প্রতিদিনের মত সাকিলের দোকানে গেছে চা খেতে।
সাকিল এক কাপ চা দে।
ভাইজান আপনার আগের অনেক বাকি পইরা গেছে। আগে হেগুলা মিটাইয়া লন। তারপর চা দিমু।
কি সাংঘাতিক কথা সাকিল। তুই আমার কাছে টাকা চাইছিস । তুই জানিস না আমি বেকার।
বেকার হইছেন তয় এত চা, সিগারেট খান কেন!
আহা তুই এইসব কি বলিস বেকার মানুষদের কি চা, সিগারেট খেতে নেই । দেখিস আমি একটা ভালো চাকরি পেয়ে গেলে তোর সব টাকা পরিশোধ করে দিব।
আপনে দেখি এক আপার লগে প্রায়ই রিস্কা দিয়া ঘুরেন । তহন টাকা পান কই ?
দেখ সাকিল তুই কিন্তু বড্ড বেশী কথা বলছিস । তুই চা খাওয়াতে পারবিনা তোঁ কি হয়েছে । আমি অন্য দোকান থেকে চা খাব। দোকানের কি অভাব আছে নাকিরে !
এহ ! যান দেহি আপনার মত বেকাররে কে এমন ফিরিতে চা খাওয়ায় আমি দেখমুনে।
বলছিস তাহলে যাই তোর দোকান থেকে আর চা খাব না ।
কিন্তু গোলাপ ভাই জানে এই দুনিয়ায় সাকিল ছাড়া তাকে আর কেউ এভাবে বছরের পর বছর ফ্রিতে এই রকম যন্ত্রণা পেয়ে চা, সিগারেট খেতে দিবেনা । দুনিয়াটা অনেক কঠিন এক জায়গা । এখানে সাকিলের মত কিছু বোকা টাইপের কিছু মানুষ আছে বলেই তার মত গোলাপরা এখনো টিকে আছে।
সাকিল ঠিক আছে এইবারের মত একটা সিগারেট দে আমি আর তোর দোকানে এসে জ্বালাতন করব না।
সাকিল একটা না পুরা এক প্যাকেট সিগারেট দিয়ে একটা হাসি দিল। যেন এমন সুখের , এমন খুসির কথা এর আগে সে কারো কাছ থেকে শুনে নাই।
তমিজুদ্দিন মোল্লা সাহেবের একটা মেসে গোলাপ ভাই একটা রুম ভাড়া করে থাকে । মেসের ভাড়া আজ প্রায় সাত আট মাস বাকি পরে আছে দেয়া হয়না। এই নিয়ে মোল্লা সাহেব বেশ কয়েক বার চিৎকার চ্যচামেচি করে গেছেন কিন্তু কোন কাজ হয় নাই ।
গোলাপ একটা বিশেষ কায়দা রপ্ত করেছে মোল্লা সাহেবের উপর । তাই তিনি এখন আর ভাড়া নিয়ে তেমন একটা উচ্চ বাচ্চ করেন না । মোল্লা সাহেবের নামে এলাকায় একটা বদনাম আছে । তিনি নাকি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের সাহায্য করেছিলেন । কিন্তু গোলাপ ভাই কথা দিয়েছে তার প্রতি মানুষের যে সব অভিযোগ আছে সে সব মিথ্যা প্রমান করে দিবে।
তাই মোল্লা সাহেব অনেক ভরসা করে তাকে। এই মেসের শেষ মাথায় একটা রুম আছে যেখানে রুকাইয়া নামের একটি মেয়ে ভাড়া থাকে। মেয়েটি মেসের পাশেই একটা গার্মেন্টসে সেলাইয়ের কাজ করে। এই গার্মেন্টসের মালিক আবার মোল্লা সাহেব নিজেই । অনেক দিন তিনি গোলাপকে বলেছেন তার গার্মেন্টসে একটা চাকরি দিবেন বলে কিন্তু গোলাপ বলেছে সে সেখানে চাকরি করবেনা ।
এতে নাকি তার সন্মান থাকবেনা । মোল্লা সাহেব তাই মাঝে মাঝে বলেন এই কারনে নাকি বাংলাদেশীরা কখনো উন্নতি করতে পারবেনা । মাঝে মাঝে রুকাইয়া এসে গোলাপ ভাইকে খাবার দিয়ে যায় । তাতে গোলাপ কোন আপত্তি করেনা । কিন্তু এই কাজটি মেয়েটি কেন করে সে নিজেও জানেনা ।
কিন্তু গোলাপের মনে এক ধরনের সন্দেহ হয় মেয়েটিকে ঘিরে। তবে গোলাপ মাঝে মাঝে মেয়েটির সরল মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে । যেন তার মায়ের মত ভরা পূর্ণিমার রূপ এসে এক অপরূপ মায়া ভরিয়ে দিয়ে গেছে মেয়টির পুরো মুখশ্রীতে।
ভাইজান কি ঘরে আছেন ?
রুকাইয়া এসো , আজ তুমি কাজে যাও নাই ?
জী ভাইজান গেসিলাম । কিন্তু সুপার ভাইজার লোকটা বেশী ভালা না ।
ভাবছি আর ওই গার্মেন্টসে কাজ করব না । তাই তারাতারি আজ চইলা আসছি।
কেন সে আবার কি করেছে ?
আর বইলেন না ভাইজান । আমরা গরীব বইলা ওই সুপার ভাইজার লোকগুলার মত কিছু মানুষ খালি সুযোগ খুঁজে ।
কিন্তু এখন কোথায় কাজ পাবা ।
আর কাজ না পেলে কি পেট চলবে ? তোমার চাকরী ছাড়া লাগবেনা । আমি মোল্লা সাহেবকে বলে দিচ্ছি । সুপার ভাইজার আর তোমাকে ডিস্টার্ব করবে না ।
কি যে কন ভাইজান ! ওই সুপার ভাইজার হইল মোল্লার আপন শালা । হেয় শুনব মোল্লা সাহেবের কথা ।
তাইলেই হইছে। শেষে আমারে কলঙ্কিনী সাজাইয়া এলাকা ছাড়া করব। আর আপনে কার কথা কন মোল্লার নিজের চরিত্র বেশী ভালা না । শুনছি আমাগর গার্মেন্টসের অনেক মাইয়ারে হেয় রাইত বিরাইতে হের অফিস রুমে ডাইকা নিয়া যায় । তারপর দেখি কিছু মাইয়া তারপর থাইকা কেমন জানি উদাস হইয়া যায় আবার কিছু আছে পরদিন থাইকা এমুন পাঙ্খা গজায় যেন এই গার্মেন্টসের বড় কিছু হইয়া গেছে।
সুপার ভাইজারের লগে কি খাতির । কি হাসা হাসি যে করে ভাইজান । আমার এইসব একদম ভালা লাগে না।
নওমি তেমন রূপবতী বলা যাবেনা সাধারনত মডেলিং করে যেসব মেয়েরা যেমন হয় ঠিক তেমনি কৃত্তিম একটা প্রভা আছে তার রূপে। এই মেয়েটি গোলাপ ভাই কে খুব ভালোবাসে ।
সে দৈনিক চাঁদের আলোর কিচ্ছা কাহিনী বিভাগের একজন সাংবাদিক। আজ পত্রিকা অফিসে অনেক কাজের চাপ । তাই নওমির ব্যাস্ততা অনেক বেশী। গোলাপ ভাই পত্রিকা অফিসে এসেছে তার সাথে দেখা করতে।
কি ব্যাপার নওমি তুমি আজ প্রায় দুদিন হয়ে গেল আমার কোন খোঁজ নিচ্ছনা কেন ?
দেখ স্যরি আসলে আমার হাতে অনেক কাজ জমে গেছে তাই সময় পাচ্ছিনা।
তুমি কিছু মনে করনা । আমি তোমার সাথে বিকাল বেলা দেখা করব লক্ষ্মীটি ।
শোন এইসব বলে তুমি আমাকে ভাগাতে পারবেনা । তোমার কাছে এখন আমি প্রেম করতে আসিনি। তোমার কাছে একটা খবর নিয়ে এসেছি ।
যদি পার তাহলে তোমার পত্রিকায় সেটা ছেপে দাও।
ঠিক আছে ছেপে দিব । তাহলে বিকালে তোমার কাছে শুনব। একদম খাতা কলম নিয়ে এসে লিখে নিয়ে যাব তারপর পুরো খবর ছেপে দিব । এখন পারবনা লক্ষ্মীটি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
কেন তুমি যদি পরে ছাপাতে পার তাহলে এখন দিতে সমস্যা কোথায় ?
এখন যা ছাপা হবে সব ঠিক করা হয়ে গেছে । তোমার খবর দেয়ার জায়গা কোথায় বল। আর তোমার খবর নিশ্চয়ই তেমন গুরুত্ত পূর্ণ নয়।
কি বলছ গুরুপূর্ণ নয় মানে একটা মেয়ের জীবন মরন নিয়ে সমস্যা সেই খবর ছাপাতে হবে। এটা তোমার কাছে গুরুত্তপূর্ণ মনে হচ্ছে না।
একটা মেয়ে হয়ে তুমি অন্য একটা মেয়েকে এভাবে অবহেলা করতে পারনা নওমি।
দেখ আমি কোনটা পারি আর কোনটা পারিনা সেটা তোমাকে সেখাতে হবে না। আর ওই মেয়েটি তোমার কি হয় যে তুমি এত ব্যাকুল হয়ে পরেছ ?
গোলাপ ভাই অফিসের ভিতরেই একটা সিগারেট ধরিয়ে বের হয়ে এলো। নওমি শুধু তাকিয়ে দেখল আর মনে মনে ভীষণ ক্ষেপে গেল ।
গোলাপ তোমাকে আমি ভালো ছেলে হিসাবেই জানতাম।
ছি ছি ছি তুমি এইসব কি শুরু করে দিছ। একটা মেয়ে ছেলেকে নিয়ে রাত্রি বেলা রুমের ভিতর হাসি তামাসা কর । এগুলো ঠিক না । মানুষজন কটু কথা বলে। আর তুমিত জান আমি তোমারে কত পছন্দ করি।
মেয়েটার চরিত্র ভালো না। একটু সাবধান থাইক। তোমার খারাপ কিছু হোক সেটা আমি চাইনা । আর তুমি বলছিলা আমার একটা কাজ কইরা দিবা। সেইটার কি হইল।
তোমার ভাড়া কিন্তু অনেক জমে গেছে। সেটা নাইলে পরেই দিলা। আমার কাজটা একটু করে দেও বাজান ।
আপনি কি রুকাইয়ার কথা বলছেন। সেত খুব ভাল একটা মেয়ে।
তুমি কিছুই জান না দেখছি। আমার অফিসের সুপার ভাইজার মানে আমার শালা আর কি তার সাথে ইটিস পিটিস করতে চায় আরকি। দেখ দেখি আমার শালা দৈনিক পাঁচ বার নামাজ পড়ে তার উপর আমার সাথে একবার হজ্জ করছে । আর আমি হজ্জ করছি মহান আল্লহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ কৃপায় দুই দুই বার। ছি ছি ছি এই সব কি আমার শালার পক্ষে ভালো ঠেকে ।
যাক বাজান তুমারে সাবধান করা লাগে তাই সাবধান কইরা দিলাম ।
শুনেছি আপনার গার্মেন্টসে বেতন বোনাস নিয়ে স্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। আপনি ওদের ঠিক মত বেতন বোনাস দেন না ।
নাউজুবিল্লাহ । এইসব তুমারে কি ওই রুকাইয়া মেয়েটি বলছে ? এমন কোন সমস্যা আমার এইখানে নাই।
হাদিসে আছে মজুরের ঘাম শুকিয়ে যাবার আগেই যেন মজুরী পরিশোধ করা হয়। আর আমি হাজী মানুষ এগুলা একদম অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। এখন তাহলে যাই । তুমি ঘুমাও। অনেক রাত হইছে।
এতক্ষন দরজার পাশে দাড়িয়ে থেকে রুকাইয়া সব শুনছিল । মোল্লা চলে যাবার পর ভাতের গামলা নিয়ে রুকাইয়া গোলাপের ঘরে ঢুকল।
গোলাপ ভাই আমি সব শুনছি । দেখছেন হারামিটা এইসব কি বইলা গেল।
থাক এইসব বাদ দাও ।
দেখি আজ কি রান্না করেছ ?
তেমন কিছু না ভাইজান । আজকে শুধু আলু ভর্তা । বাজারে এখন মাছ ,সবজী, চাল,ডাল, তেল এমন কি কাঁচা মরিচের যেই দাম তাতে কইরা আমাগর মত মানুষের এখন বাইচা থাকাটাই একটা কষ্টের ব্যাপার হইয়া গেছে । তার উপর বেতন পাইনা আজ কয় মাস হইয়া গেছে । আজ বহু কষ্টে ছয়শ টাকা সুপার ভাইজাররে কইয়া আনছি।
হেয় আমারে কইছে যা ছয়শ টাকা দিলাম । আজ রাইতে অফিসে আহিস পুরা তিন মাসের বেতন একবারে নিয়া যাইস।
তুমি রাজী হয়ে গেলে।
রাজী না হইয়া উপায় আছে ! ভাত না খাইলে খামু কি আর থাকুম কই। আমাগর মত মানুষের জীবনে বাঁচতে হইলে অনেক কিছু না পারলেও সহ্য কইরা নিয়া চলতে হয়।
এখন আর কথা বইলেন না। আমার হাতে সময় খুব কম । তারাতারি খাইয়া লন । শুধু আপনের লগে আজ দুইটা শেষ ভাত খামু বইলা অপেক্ষা করতাছিলাম।
শেষ ভাত খাওয়া মানে !
আইজকার পর থাইকা আমি আমার এই কলঙ্কের মুখ আপনারে আর দেখাইতে পারমুনা ভাইজান।
সেকি তুমি কাদছ কেন ! এই দেখ দেখি এত সুন্দর করে কাজল দিয়ে সেজেছ। সব ধুয়ে গাল বেয়ে ভেসে পরছে।
রুকাইয়া কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল। গোলাপ অনেক ক্ষণ বাক রুদ্ধ হয়ে বসে রইল। ঠিক ভেবে উঠতে পারলনা কি করা যায় ভেবে।
একটা সিগারেট ধরিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে পরল।
চারদিকে পুলিশ তন্য তন্য করে খুঁজছে গোলাপ ভাইকে । কোথাও পাওয়া গেলনা । সাংবাদিক নওমি এসেছে তমিজুদ্দিন মোল্লার গার্মেন্টসে সুপার ভাইজার খুনের উপর একটা রিপোর্ট করতে । দারোয়ান বলেছে রাতের বেলা গোলাপ ভাইকে গার্মেন্টস থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছে ।
সেই থেকে সবাই সন্দেহ করছে এই খুনের পেছনে গোলাপ ভাইয়ের হাত আছে। রিপোর্ট করে নিয়ে যখন নওমি বের হল বাইরে রুকাইয়া তার কাছে এসেও কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারলনা ।
এই ঘটনার ঠিক কয়েক দিন পর চারদিকে বিভিন্ন গার্মেন্টসে শ্রমিকদের বেতন বোনাস নিয়ে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হল । রোজ পুলিশের সাথে সংঘর্ষ আর মালিক পক্ষের হয়রানি চলতে লাগল লাগাতার। অনেকে কর্মী ছাটাই হল।
তাতে রুকাইয়ার চাকরী টাও গেল । সে এখন সেই আন্দোলনের নেত্রিত্ত দেয় সামনে থেকে। গন গ্রেপ্তার আর গার্মেন্টস ভাংচুর শুরু হয়ে গেল পুরো দস্তুর। সরকার মালিক পক্ষের লোকদের শাসিয়ে দিল যেন বেতন বোনাস ঠিক মত পরিশোধ করে ছাটাই কৃত কর্মীদের আবার নিয়োগ দেয়া হয়। এরই মাঝে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে একদিন গোলাপ ভাই মাঝ রাতে রুকাইয়ার সাথে দেখা করতে এলো।
রুকাইয়া এখন আর তমিজুউদ্দিন মোল্লার সেই মেসে থাকেনা । এখন যেখানে সে থাকে সেখানে আরও কিছু মেয়ে একসাথে একটা বাড়িতে রুম ভাড়া করে থাকে।
আপনি এতদিন ছিলেন কোথায় ? আর পুলিশ আপনারে হন্যে হইয়া খুজতাছে । আপনি চইলা যান ।
চলে যাব রুকাইয়া ।
তুমি কেমন আছ ?
ভাল নাই। আপনার জন্য আমার মনটা খুব কান্দে।
শোন আমি খুব ভাল আছি । তোমার সাকিলেরে চেনা আছে ?
হ্যাঁ আছে। ওই দোকানদার সাকিলের কথা বলতাছেন ?
হুম আমি ওদের গ্রামের বাড়িতে আছি ।
ছেলেটা খুব ভাল। তুমি কিছু জানতে চাইলে ওর কাছে জানতে চেয়েও। ঠিক আছে রুকাইয়া আমি এখন যাই তাহলে। দেখি যদি পারি সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে এলে তোমাকে এসে নিয়ে যাব । আমি একটা কাজ পেয়েছি।
তাই ভাইজান কি কাজ?
সেটা এখন বলা যাবেনা । তুমি ভাল থেক। আমি চললাম।
ভাইজান আপনি নিজের প্রতি খেয়াল রাইখেন । আপনি অনেক শুকাইয়া গেছেন।
যেদিন আমারে আইসা আপনি নিয়া যাইবেন তারপর দেইখেন আমি আপনার কত যত্ন করি।
এখন যাই রুকাইয়া । ভালো থেক সাবধানে থেক।
প্রতিদিনের মত আজকেও গার্মেন্টসে কাজ চলছে । সবাই ভীষণ ব্যাস্ত।
রুকাইয়া আপন মনে সেলাইয়ের কাজ করে যাচ্ছে। আজ তার মনটা অন্য রকম এক ভালো লাগায় ভরে আছে। চোখে রঙ্গিন স্বপ্ন তার। সেই নতুন জীবনের স্বপ্ন যেন সে বুনে চলেছে সুতার বুননের প্রতিটি পরতে পরতে। হয়ত তার বোনা এই স্বপ্নের মায়া ভরা জামা পড়ে কেউ ঘুরে বেড়াবে আপন সুখে।
কিন্তু তার নাম জানবেনা যে তার বোনা জামা পড়ে ঘুরে বেড়াবে। জানবেনা কেউ। এমন সময় চারদিকে হঠাৎ ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠল। আগুন লেগেছে । সবা চিৎকার করে ছোটা ছুটি করছে একটু যদি বাঁচতে পারে কোন ভাবে।
কিন্তু প্রবেশ পথেই আগুন লেগে যাবার কারনে বিকল্প কোন পথ কেউ পেলনা অনেকে ছাঁদের উপর থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ল। কেউ হয়ত তাতে বেঁচে গেল কিন্তু এত উপর থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে বেঁচে থাকাটা প্রায় অসম্ভব । কিন্তু বাকিরা সেই বদ্ধ বিল্ডিঙের ভিতর পুড়ে কয়লার মত ভস্ম হয়ে গেল। আগুনের তাণ্ডব বেড়েই চলল। দমকল বাহিনী আসতে আসতে আগুন নেভানোর কাজ অনেক সময় নিয়ে শেষ হল দমকল বাহিনীর পর্যাপ্ত পরিমান সরঞ্জাম না থাকায়।
খবরটি পেতে গোলাপের কাছে বেশী সময় লাগল না । কিন্তু এই ভস্ম পুড়ে যাওয়া কয়লা দেহ অবশেষ থেকে গোলাপ চিনতে পারলনা কে তার রুকাইয়া । শুধু নীরব নিথর নিস্তব্ধ বাকরুদ্ধ হয়ে দাড়িয়ে রইল গোলাপ সমস্ত লাশের সামনে । চারদিকে শুধু বিলাপ করা কান্না আর আহাজারি। এই লাশের ভিড়ে দেখা গেল ক্যামেরা নিয়ে হাঁটছে নওমি তার চোখেও অশ্রু ঝরছে।
কি রিপোর্ট করবে সে । হয়ত লিখতে হবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারনে এই আগুন লেগেছে । তারপর কিছু প্রতিবাদী আর সহমর্মী মুলক কিছু লেখা কিছু নিছক সান্তনা, কিছু মিছে আশ্বাস আর তদন্ত কমিটির তদ্বির মুলক লেখা ব্যাস এইত। কিন্তু অনেক রহস্য যা চিরতরে এই কয়লার সাথেই কয়লা হয়ে মিশে যাবে লোক চক্ষুর অন্তরালে কোন এক রহস্য হয়ে। নওমি কে দেখতে পেয়ে গোলাপ ভাই সেখান থেকে চলে এলো কিছু ঘৃণা , ক্ষোভ আর অব্যাক্ত অনেক প্রতিবাদ স্মরন করে।
একবার তমিজুদ্দিন মোল্লার মেসে যাওয়া দরকার। শেষবার এর মতন দেখা করা দরকার গোলাপ ভাইয়ের তমিজুদ্দিন মোল্লার সাথে। আজ সময় এসেছে আজ তার হাতে অনেক প্রমান আছে সত্যকে প্রকাশ করে তমিজুদ্দিন মোল্লাকে রাজাকার উপাধি থেকে মুক্তি দেবার।
ছবিটি চুরি করা হয়েছে ঘুড্ডির পাইলটের আঁকা স্কেচ থেকে
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।