লোক টাকে আসলে তেমন একটা চিনতাম না। ছোট ছিলাম, অতশত বুঝতাম না। বই পাগল বলতে ছিলাম তিন গোয়েন্দা সিরিজের। লিখতেন রাকিব দা।
আমার মত অনেকের হয়তো ছোটবেলার একটা খুব ভালো সময় গেছে তিন গোয়েন্দার সাথে।
স্কুল থেকে ভাড়া বাচিয়ে হেটে এসে সপ্তাহে একটা দুটা বই কিনতাম। বাজেট কম, তাই পেপার ব্যাক ই ভরশা। আর সিঙ্গেল বই গুলো কেনা হত না তেমন। কিনতাম ভলিউম , এতে ৩ টা বই একসাথে দেয়া থাকতো। বেশ সস্তা।
বই নিয়ে বাসায় এসে ,লুকিয়ে রাখতাম। আম্মু ও পছন্দ করতেন তো, উনার হাতে পরলে রাতের আগে আমি আর পাচ্ছি না এই ভয়ে। দুপুরে খেয়েদেয়ে উপর হয়ে শুয়ে শুরু করতাম। পড়তে পড়তে কিভাবে জানি হারায় যেতাম গল্পে। কখন কোন যায়গায় নিজেকে ওদের একজন ভেবে নিতাম বোঝা হয়ে উঠতো না।
এভাবে মন্দ চলছিলো না। বাদ সাধলেন সেবা(সেগুন বাগান) প্রকাশনীর কাজি আনোয়ার হোসেন। তার লেখাও কিছুটা বড় হয়ে গিলেছি গ্রোগাসে। কোন একটা অজানা কারনে রাকিব দা তিন গোয়ন্দা লেখা ছেরে দিলেন। আমরা নিয়মিত রা অবশ্য আগেই টের পাইলাম, যখন অন্য আরেক জনের লেখা রাকিব হাসানের লেখা বলে চালিয়ে দেয়া হলো।
ভলিউম ৫০ এর কিছু পর থেকে হয়তো, এতদিন পরে মনে নাই। আর একসময় প্রকাশ করেই দেয়া হলো তিন গোয়েন্দা লিখছেন শামসুদ্দিন নওয়াব।
প্রথমেই বলবো, জনাব শামসুদ্দিন নওয়াবের লেখা পরে আমার যা মনে হতো। কোন একটা ইংলিশ থার্ড ক্লাস মুভির স্ক্রিপ্ট আক্ষরিক ভাবে বাংলায় অনুবাদ করে দেয়া হইছে। ভালো আর পুরাতন পেটে যা হজম করাও মেজাজ খারাপ করা জন্ম দেয়।
কয়েকটা বই পড়ে অনেক টা অভিমান নিয়েই বাদ দিলাম। বেশ কটা চিঠি লিখছিলাম রাকিব দাকে। উনি পান নি হয়তো।
রহস্য পত্রিকায় একটা বই এর বিজ্ঞাপন দেখছিলাম “বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল” নামের। রহস্য সবসময় টানে আমাকে।
কোন কারনে পড়া হয়ে উঠে নি বই টা। পেলাম গত পরশু। লেখকের নামের যায়গায় দেখলাম “শামসুদ্দিন নওয়াব”। আর বই টা পড়ার পরে আজকে বলবো, শামসুদ্দিন নওয়াব স্যার, আপ্নে লেখক না, আপনে সাংবাদিক। কোন ভুলে আর কোন কুক্ষনে যে আপনে কলম হাতে নিছলেন আল্লাহ মালুম।
সামুতে সেবার সাথে আছেন এমন কেউ আছেন নাকি ? থাকলে রাকিব হাসান কে জানায় দিয়েন তো ভাই কষ্ট করে, তাকে তার সেই ছোট পাঠক গুলো বড় হয়েও অনেক মিস করে, ভুলে যায়নি।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।