আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মফিজ পাগল এবং ইসলামবিদ্বেষী হয়ে সেলিব্রিটি হওয়ার আজব হিড়িক



ছোটবেলায় আমরা রচনায় পড়েছি ‘সময়ের মূল্য’। ওই রচনায় বেশ ভালো করে উপস্থাপন করা হতো সময়ের মূল্য কতটুকু। ডাক্তারদের ভাষায়—স্বাস্থ্যই সম্পদ; যার নাকি স্বাস্থ্য নেই, তার কোনো মূল্য নেই।
তবে আমাদের সমাজে অনেক কিছুই মূল্যবান মনে করা হয়? কিন্তু কোনটা বেশি মূল্যবান, আজ পর্যন্ত কোনো সমাজবিজ্ঞানী তা আবিষ্কার করতে পারেননি।
সম্রাট বাবর মনে করতেন, সবচেয়ে বেশি মূল্যবান বস্তু হচ্ছে তার জীবন।

জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই হতে পারে না। তাই সম্রাট বাবর তার ছেলে হুমায়নের জন্য তার জীবনটা উত্সর্গ করেছেন।
আসলে এতগুলো বিষয় একসঙ্গে কি মূল্যবান হতে পারে?
বলা যেতে পারে, এগুলো একটা আরেকটার পরিপূরক।
তবে এখন ভয়ঙ্কর আরেকটা মূল্যবান সম্পদ কিছু বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন ব্লগারদের মাথায় বারবার হোঁচট খাচ্ছে।
তা হলো সেলিব্রিটি।

সেলিব্রিটি যেন তাকে হতেই হবে। সেলিব্রিটি না হতে পারলে যেন তার জীবনের বড় কী ক্ষতি হয়ে যাবে। সে সেলিব্রিটি হতে হলে হাজার হাজার মানুষের চোখের জল এবং রক্ত নিয়ে খেলা করতে প্রস্তুত। তবু সে সেলিব্রিটি হতে হবে। তবে এরা হয়তো কখনও একটা রচনা লিখে বসে থাকবে।

তা হচ্ছে সেলিব্রিটি হওয়ার মূল্য।
সেলিব্রিটি হওয়ার জন্য তারা আবিষ্কার করে সো-কলড মুক্তমনা থিওরি। এই মুক্তমনা থিওরি এদের প্রধান হাতিয়ার। এই থিওরি ব্যবহার করে তারা সেলিব্রিটি হওয়ার জন্য এগিয়ে চলে।
তথাকথিত মুক্তমনা থিওরি ব্যবহার করে তারা সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়।

তারা ইসলাম ধর্মের ওপর আঘাত হেনে পরিচিত হয়, কেউ সাজে নাস্তিক।
এখন প্রশ্ন হলো তারা এমন করে কেন বা কেমন করে সেলিব্রিটি হয়?
তাহলে একটা উদাহরণ নিন—
সোনাগাজী ছোট ফেনী নদীর তীরে এক পাগল বাস করত, নাম তার মফিজ পাগলা। সারাক্ষণ সে চিত্কার করে। আর নিজেকে নিজেই বলে, আমি জামাই। মাঝে মাঝে সে দাবি করে সে আমেনার জামাই।

তবে আমেনাটা কে সে জানে না। এই মফিজকে নিয়ে তার মা-বাবা বেশ সমস্যায় আছে। মাঝে মাঝে জনগণের সামনে ল্যাংটা হয়ে যায়। কখনো সে কোনো মানুষকে জড়িয়ে কোলাকুলি করে।
মাঝে মাঝে পথে যাকে দেখবে তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেবে।

ভয়ে কেউ তার কাছে আসে না। তবে ছোট ফেনী নদীর আশপাশের এলাকায় সে খুব পরিচিত। তবে এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, সে ল্যাংটা থেকে মানুষকে গালি দেয়। আর বিয়ে করবে বলে সারা দিন চিত্কার করে। এ নিয়ে পুরো এলাকাবাসী বেশ সমস্যায় ছিল।

তবে কেউ ভয়ে তার কাছে যেত না। তবে দুষ্ট কিছু ছেলে তার কাছে গিয়ে তাকে আরও উসকানি দিয়ে আসে। সোনাগাজীর ভাষায় গুঁতাগুঁতি বলে। অনেক দূর থেকে মানুষ দেখতে আসে এই রহস্যভরা মফিজ পাগলাকে।
একবার ছোট ফেনী নদীর তীরে একটা ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছে।

নদীর পাশে তাই দর্শক অনেক কম। দর্শক কম হওয়াতে আয়োজকরা বেশ চিন্তিত। তারা কিছু বিজ্ঞাপন নিয়েছে। যদি দর্শক না আসে তাদের সব আয়োজন বৃথা।
এই আয়োজকরা বেশ দুষ্ট টাইপের।

তারা একটা গুজব তুলে বসে আছে। তাদের খেলায় নাকি মফিজ পাগলা গান গাইবে। সারা এলাকার মানুষ আশ্চর্য। মফিজ আবার কী গান গাইবে? আরও কিছু ছেলে গুজব প্রচার করছে, মফিজ নাকি ওই খেলায় গোলকিপার হিসেবে থাকবে?
কে শোনে কার কথা? সবার মাঝে যেন কেমন একটা কৌতূহল কাজ করছে।
রোববার বিকাল ৩টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা।

কিন্তু তার আগে দর্শক মাঠে উপস্থিত। তবে তাদের অনেকের খেলা দেখার আগ্রহ নেই, তারা শুধু মফিজের গান দেখার জন্য এসেছে। হাজার হাজার দর্শক। সেদিনের সেলিব্রিটি মফিজ।
তবে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, মফিজ সেদিন মাঠে আসেনি।

আর মফিজকে দাওয়াতও দেয়া হয়নি। দাওয়াত দিলে কি মফিজ বুঝত? আর সে কি ল্যাংটা আসত নাকি ভালো কাপড় পরে আসত, তা কে জানে? পরে দর্শকরা বিরক্ত হয়ে অনেকে চলে গেছে, আবার কেউ ওই ফুটবল খেলাটা উপভোগ করেছে।
এবার আসি ইসলামবিদ্বেষী হয়ে তারা কেন সেলিব্রিটি হতে চায়?
আমরা ৫ মে থেকে শিক্ষা নিতে পারি। একশ্রেণীর কুরুচিপূর্ণ ব্লগার ইসলামবিদ্বেষী মিথ্যা, বানোয়াট এবং অকথ্য ভাষায় ধর্মকে গালি দিয়ে লেখা পোস্ট করে তারা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত হেনে তারা নাম কামিয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ যে আন্দোলন করেছে, তা হচ্ছে ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে। কিন্তু হেফাজতে ইসলামের এই আন্দোলনে তাদের শাস্তি হয়েছে কিংবা না হয়েছে, কিন্তু তারা আজ সেলিব্রিটি।
এই আন্দোলনের ধারায় তারা পরিচিত হয়েছে। হজরত মোহাম্মদ (সা.) এবং সাহাবিদের গালি দেয়ার উদ্দেশ্যই খুব সম্ভবত হচ্ছে, দেশে একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগুক। আর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগলেই তারা সফল।

ফলে তারা নাম কামিয়ে নিতে পারবে। হ্যাঁ প্রিয় পাঠক, তারা নাম কামিয়ে নিয়েছে। তারা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বলতে পারবে, আমরা এটা করছি, সেটা করছি।
তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, সরকার যেন এই বিষয়ে নির্বিকার? কি জানি, কত মানুষের রক্তের দাগ রয়ে গেছে ঢাকা শহরের অলিতে-গলিতে। কিন্তু এতে এই (কা)-পুরুষদের কিচ্ছু আসে-যায় না।

ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত হেনে তারা আজ সেলিব্রিটি, তাদের আর কী চাওয়া?
কাজি নজরুল ইসলাম প্রায় একটা কথা বলতেন। যে কথাটি একবার তার বন্ধুকে দেয়া একটা চিঠিতেও বলেছেন— বন্ধু এক ফোঁটা চোখের জল কত ফোঁটা রক্ত দিয়ে কিনতে পাওয়া যায়? কাজি নজরুল খুব আক্ষেপ করে এই কথা বলেছেন। কিন্তু তখনকার সময়ে এ কথার মর্মবেদনা মানুষ না বুঝলেও এখন মানুষ বোঝে।
ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারগুলো কী করে বুঝবে বাঙালিদের এক ফোঁটা চোখের জলের মূল্য? তারা কখনও বুঝবে না বাঙালিদের চোখের জলের মর্মবেদনা। তারা জানে না আর কত মায়ের বুক খালি হলে তাদের সেলিব্রিটি হওয়া সম্পন্ন হবে?
আরেকটা উদাহরণ দিয়ে শেষ করি—
তসলিমা নাসরিনকে এখন সবাই চেনেন।

এই তসলিমা নাসরিন ইসলাম ধর্মকে নিয়ে অতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় সবাই তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। ধর্মপ্রাণ মুসুলমানদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে সে ভারত চলে গেছে। এই ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করায় তসলিমার লাভ কী হলো হয়তো অনেকে প্রশ্ন করবেন। তসলিমা নাসরিন ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করায় সে মিডিয়ার সামনে আসার যোগ্যতা পেয়েছে। সে পরিচিত হয়েছে।

এখন সে কোনো বই লিখলেই তার বই কেনার জন্য আগে থেকে সিরিয়াল দিয়ে রাখে। আচ্ছা এই সেলিব্রিটি হয়ে তাদের লাভটা কী? যে সেলিব্রিটির মাঝে দেশপ্রেম নেই, এসব হাজার হাজার সেলিব্রিটি ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেলে কী আসে-যায়? কিচ্ছু আসে-যায় না।
যে সেলিব্রিটি হওয়ার নেশায় পড়ে কেউ মানুষের রক্ত নিয়ে খেলা করতে শেখে, এই সেলিব্রিটি সত্যি ঘৃণিত। চিরদিন ঘৃণাভরে তাদের স্মরণ করবে জাতি।
এবার চিন্তা করুন মফিজকে নিয়ে, যে অধিকাংশ সময় ল্যাংটা থাকে।

আজকে যদি মফিজ ব্লগ লেখা শুরু করে, তাহলে সে খুব দ্রুত পরিচিত হতে পারবে। কারণ সে কোনো একসময় ল্যাংটা ছিল? তাই অতি উত্সাহী পাঠক তার ব্লগ পড়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে। তবে একজন মফিজ পাগলা সেলিব্রিটি হলে জাতির কিচ্ছু আসে-যায় না। বরং লাভ হবে। কিন্তু যারা চোখের জল নিয়ে খেলা করে সেলিব্রিটি হয়, তাদের থেকে আমরা কী আসা করতে পারি?
ব্লগ-ফেসবুকে এসব ব্লগার পরিচিত হওয়ার জন্য যে আপত্তিকর মন্তব্য করে, তাদের কোনো ধরনের আন্দোলন ছাড়া যদি সরকার গ্রেফতার করে, তাহলে এই সেলিব্রিটি হওয়ার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।


তবে যুগে যুগে এসব কুরুচিপূর্ণ দেশবিরোধী সেলিব্রিটি আরও বাড়তে থাকবে, এই নেশায় যারা পড়েছে যদি তাদের উপযুক্ত শাস্তি না হয়।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।