আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সরকারিভাবে সাড়ে ছয় হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় তিনি এ কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সঙ্কট রয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে বিসিএসের মাধ্যমে ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। তখন চিকিৎসক সঙ্কট কিছুটা হলেও কমবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের সমস্যাও সমাধান করা হবে। বিশ্বব্যাংক গাড়িগুলো দিলে উপজেলা পর্যন্ত চিকিৎসকদের গাড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসার যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।
তিনি বলেন, কিছু কিছু হাসপাতালে যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবহার হচ্ছে না।
কার স্বার্থে এ যন্ত্র আনা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় খরচের কয়েকশ গুন টাকা নেওয়া হয় অভিযোগ করে বলেন, ‘রক্ত পরীক্ষায় খরচ হয় মাত্র ২ টাকা। কিন্তু নেওয়া হয় তিন থেকে চার’শ টাকা। কারণ হাসপাতালগুলো পরিচালনা করে ব্যবসায়ীরা।
সবকিছু নিয়ে এভাবে ব্যবসা করতে হবে কেন? এ ধরনের মানসিকতা থেকে সরে আসতে হবে। একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী একটি গার্মেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি হাসপাতালও প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যেখানে চার ঘণ্টা অন্তত চিকিৎসা দেওয়া হবে।
মোহাম্মদ নাসিম জানান, নিয়মনুযায়ী যারা ২ বছর গ্রামে অবস্থান করবে তাদেরকে পুরুষ্কৃত করা হবে। তাদেরকে ভালো জায়গায় বদলি করা হবে।
ভালো সুযোগ সুবিধাও দেওয়া হবে। এজন্য ঢাকায় গিয়ে কোনো তদবির করতে হবে না। ’
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর টয়লেট খুবই অপরিস্কার থাকে। কারণ এখন সুইপার হিসেবে চাকরি নেন রাজনৈতিক কর্মীরা। তারা কাজ করে না।
এখন থেকে সুইপার নিয়োগ দেয়া হবে অভিজ্ঞতা দেখে। এক্ষেত্রে রাজনীতিবিদ এবং বিএমএ নেতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্ত্রী সাবধান করে বলেন, কাজে গাফেলতি কোনোভাবে সহ্য করা হবে না। হোক তা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। কাজে গাফেলতি হলেই বরখাস্ত।
কোনো আন্দোলনের পরোয়া করি না আমি।
স্বাস্থ্যমন্ত্ আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নে কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এসে বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন মজুমদারের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, মহাসচিব ডা. ইকবাল আর্সলান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম বিভাগের সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় কর্মকর্তারা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পরে সাংবাদিক, শিক্ষক ও আইনজীবী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন মন্ত্রী।
।অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।