আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শিরোনাম খুঁজে পাচ্ছি না !

ব্লগিং হোক আগামীর... রাস্তার পাশে সবুজ ঘাসের উপর দাড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি এক যুবক উর্দ্ধশ্বাসে আমার দিকে দৌড়ে আসছে। যুবকটিকে আমি চিনতে পারলাম। উগ্রস্বভাবের ছাত্রনেতা। চোখে মুখে আতংক।

ঠিক আমার পায়ের দুই হাত সামনে এসে হুমড়ি খেয়ে পরলো। চারিদিক থেকে বৃষ্টির মতো কাঠের চেলা, হকিস্টিক, রড পরতে লাগলো ঐ যুবকের শরীরের উপর। ভদ্রলোকের হাতে রড, হকিস্টিক, চেলা কাঠ থাকার কথা না। এরাও নিশ্চয়ই ছাত্রনেতা। কে একজন বলে উঠল, "মাথায় মারিস না !" মাথায় মারার উপায়ও ছিল না, অভিজ্ঞ এই যুবক জানে, মারের সময় মাথা দুই হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।

মাটি কোপাতে অত আরাম লাগে না। তবে মানুষ কোপাতে ঐশ্বরিক আনন্দ। তৃপ্তিতে সকলের মুখ চকচক করছে। নিশ্চয়ই এরাও কোনো একদিন ঐ যুবকের জায়গায় ছিলো। একসময় উত্তেজনা কিছুটা থিতিয়ে গেল।

রিক্সা ডেকে দূর্বল রক্তাক্ত শরীরটা নিয়ে আক্রমনকারীরা রওনা হলো মেডিকেলের দিকে। শরীরের ঘা হয়তো শুকাবে, পরিস্কারও হবে। কিন্তু আক্রমনকারীদের হাত যে নোংরা হলো সেটা পরিস্কার হবে কি? ঐ যুবকের শরীরটা সরে যেতেই সবুজ ঘাসের উপর লাল রক্তের ছোপ চোখে পরলো। আমার অপছন্দের একটা মিশ্রন, সবুজের উপর লাল। তবে সেটা জাতীয় পতাকা হলে ভিন্ন কথা।

জাতীয় পতাকা পছন্দ করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। মানুষের অর্জন সম্মানের সাথেই দেখতে হয়, তা যতটাই ম্লান/ধুলিসাৎ হয়ে যাক। পাশ কাটিয়ে সরে যাই আরেক জায়গায়। এক অল্পবয়স্ক ছিনতাইকারী ধরা পরেছে। মাথা বাদ দিয়ে ঘাড় থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত বেদম মার চলছে।

একটা আস্ত ক্রিকেটের ব্যট ভেঙে দুটুকরা হলো। ব্যট নির্মাতারা জানেন কিনা জানিনা, কিন্ত আমি এখন জানি মানুষের হাড় ক্রিকেট ব্যটের চেয়েও শক্ত! আশ্চর্য ব্যপার তার পুরো শরীর কাঁদছে, ঝরঝর করে রক্ত পরছে। কিন্তু তার চোখ কাঁদছে না। হয়তো চোখে কোনো অসুখ আছে বেচারার। পরেরদিন ছেলেটার মা এসে বিলাপ শুরু করলো।

তার নেশাখোর ছেলের লাশ দাফন করার খরচ তার নেই। কিছু দেয়া হলো। পাঁচ কান করে পুলিশের কানেও গেল খবরটা। কিন্তু এতবড় একটা ছাত্রনিবাসে পুলিশের করার কিছু থাকবে এটা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিও আশা করবে না। তার উপর এরা ছাত্র, দেশের সংখ্যালঘু একটি অংশ যারা পড়াশোনা করে ডিগ্রী পাওয়ার দরুন সচেতন নাগরিকের মর্যাদা পেয়েছে, প্রথম শ্রেনীর।

আর ছেলেটা নেশাখোর-ছিনতাইকারী এবং সবচেয়ে বড় কথা দরিদ্র। আমাদের অবশ্যই বাস্তববাদী হতে হবে ! কিছুদিন থেকেই জনৈক ব্যক্তি আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, মানুষকে ঘৃনা করা ঠিক না ! মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ হয়ে মানুষকে ঘৃনা করা স্ববিরোধিতা এবং স্বজাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। আমি করতে চাইও না। তাহলে এখানে আমার একটা প্রশ্ন আছে।

আজ প্রথম আলোর প্রথম পাতা দেখিয়ে বেশ কয়েকজন বলার চেষ্টা করলো, দেখেছেন কি নিষ্ঠুর ! এটা কি স্ববিরোধীতা/স্বজাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না? আমি তো এই ছবি দেখে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাই নি। আমি তো জানি মানুষ নিষ্ঠুর। যারা মানুষকে ঘৃনা করেন না, তারা কেন একে আজ নিষ্ঠুর বলছেন? আর তর্কের খাতিরে যদি বলতে চান এরা আপনার স্বজাতির না, তাহলে এদের (আক্রমনকারীদের) "মানুষ" মর্যাদা কেড়ে নেয়া উচিৎ। কিছু শব্দের সাথে চন্দ্রবিন্দু যোগ করতে হয়। এটাই নিয়ম।

যেমন - "তারা" না বলে "তাঁরা"। চন্দ্রবিন্দু দিলে সম্মান বাড়ে ! যেমন - একজন প্রধানমন্ত্রী। এরকম অনেক উদাহরন আছে। সম্মানিত নন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই আসলে মুশকিল ! মানুষ নিজেকে সম্মানিত ভাবতে চায়। সম্মানিত করতে চায়।

সেরা প্রমান করতে চায়। শুধু একটা চন্দ্রবিন্দু দিলেই সেরা হওয়া যায় কি? সম্মান বাড়ে কি? যারা সম্মানিত হওয়ার যোগ্য নন, তাদের চন্দ্রবিন্দু কেড়ে নেয়া উচিৎ নয় কি? এসব বলার অধিকার হয়তো আমার নাই। আমি তো মানুষকে মানুষই মনে করি না। মানববিদ্বেষী লোক বিবেকের ভূমিকায় অভিনয় করলে মানায় না।  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।