আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পড়ালেখা

আমি যা বিশ্বাস করি না... তা বলতেও পারি না! পড়ালেখা সফিক এহসান আমরা প্রায়ই শুনে থাকি এবং শুনে শুনে বলেও থাকি- আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী নয়... এখনও অনেক ত্রুটি রয়েছে... বাস্তবমুখী নয়... ইত্যাদি! এসব শক্ত শক্ত কথার অর্থ না বুঝলেও আমরা যারা শিক্ষার্থী তারা ঠিকই বুঝি- পাঠ্য বই মুকস্ত করা যে কী কঠিন! বইয়ের কঠিন কঠিন পড়াগুলো মুকস্ত করতে করতে বোধহয় কম বেশি আমরা সবাই ভেবেছি- পড়ালেখা জিনিসটা যে কে আবিষ্কার করেছে!!! ঐ ব্যাটাকে পেলে... বিশেষ করে পরীক্ষার আগে। সেদিন ফেসবুকে একজন জানালো- সে নিউটন ও আইনস্টাইনকে পেলে ধরে করা ধোলাই দিবে! কারণ, পরদিন তার ফিজিক্স পরীক্ষা। কিন্তু যত কঠিনই হোক আর যত কষ্টই হোক না কেন- লেখাপড়া আমাদের ঠিকই করতে হয়। কারণ, “পড়ালেখা করে যে- গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে। ” নিছক প্রবাদ হলেও কথা সত্য।

লেখাপড়া না করলে সমাজে খ্যাতি-যশ-সম্মান পাওয়া দুষ্কর। সবাই তো আর টমাস আলভা এডিশন-স্টিভ জবস্-বিল গেটস্ হয় না! তাই আজকে আমরা আলোচনা করব কিভাবে পড়ালেখা করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে শুরুতেই বিজ্ঞজনদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কারণ, এতো বড় প্রতিশ্রুতি দেবার মত বড় কোন ব্যক্তিত্ব আমি নই। আরেকটি কারণ- এই লেখাটি শুধুমাত্র ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য, “বিজ্ঞজনদের জন্য নহে”! শুধু বিনয়ের সাথে নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডটা বলতে পারি- ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পুরো অটোমোবাইল ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশের মধ্যে ৬ষ্ঠ হয়েছিলাম।

আর কলেজে নিজ ডিপার্টমেন্টের ফার্স্ট বয়। (চান্সে নিজের ঢোলটা পিটিয়ে দিলাম!) অবশ্য “ফার্স্ট বয়” ছিলাম -এটা নিয়ে আমি কখনও গর্ব করি না। বরং আমার কাছে ফার্স্ট বয়/ফার্স্ট গার্ল পদবীটা খুবই লজ্জ্বাকর এবং রিতিমত অপমানজনক! কেন? সেটা পড়ে বলি। আপাতত যে জিনিসটা আলোচনা করব তা যদি তুমি পরীক্ষার তিন মাস আগ থেকেও চর্চা করো, আমার দৃঢ় বিশ্বাস- তোমার পরীক্ষা বহুগুণ ভাল হবে। [বিফলে মূল্য(?) ফেরত!] * “পরীক্ষার লিখতে হবে” -এই চিন্তা বাদ দাওঃ আমার কথা বিদঘুটে শোনালেও কিছু করার নেই।

বিলিভ ইট অর নট কথা সত্য! ভাল পড়া শোনা করতে চাইলে সর্বপ্রথম মাথা থেকে দূর কর- এই পড়াটা/বিষয়টা পরীক্ষার খাতায় লিখতে হবে। * ভাল/বেশি নাম্বার পাওয়ার চিন্তা বাদঃ না, প্রিন্টে ভুল আসেনি! তুমি যা দেখছো তাই লিখেছি। পরীক্ষায় ভাল/বেশি নাম্বার পেতে হবে এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল। প্রশ্ন জাগতে পারে- তাহলে এতো কষ্ট কিসের জন্য? লজিক হচ্ছে- ভাল নাম্বার পাওয়ার “চিন্তা”-এর নামে আমরা যেটা করি সেটা আসলে দুঃচিন্তা বা টেনশন। টেনশন কখনও কোন কাজে আসে না।

আসল ব্যাপার হল রিল্যাক্সলি পড়। পড়লেই লেখা ভাল হবে। লেখা ভাল হলেই নাম্বার বেশি আসবে। এর জন্য আলাদা করে চিন্তা করার দরকার নেই। * শেখার/জানার জন্য পড়াঃ এবার আসা যাক- তাহলে পড়ব কিভাবে? আজ থেকে যা-ই পড়বে, মাথায় শুধু একটা জিনিস রাখবে- এটা আমি জানা/শেখার জন্য পড়ছি।

* মুকস্ত নয়- স্মৃতিস্থঃ কোন পড়া/টপিক মুকস্ত করার চেষ্টা কর না। কারণ, মুকস্ত মানে মুখের আয়ত্ত্বধীন করা। এটা বেইনের টেম্পোরারি মেমোরিতে থেকে যায়। অনেকটা কম্পিউটারের “র‌্যাম”-এর মত! যথাযথ ভাবে সেভ করা না হলে রিস্টার্ট দেবার পর আর পাওয়া যায় না। তোমার জীবনে এমন অনেক পড়া মুকস্ত করেছো- যার সবই এখন ভুলে গেছ! তারচেয়ে বরং স্মৃতিস্থ কর।

অর্থাৎ, হার্ড ডিস্কে সেভ কর! এটা সারাজীবন থেকে যাবে। কিভাবে? ঠিক আছে- সহজ করে দিচ্ছি। * গল্পের বই/পেপার পড়ার মত করে পড়াঃ আমার কাছে স্মৃতিস্থ করার সর্বোত্তকৃষ্ট উদাহরণ মনে হয়- গল্পের বই বা পেপার পড়ার ব্যাপারটা। আজকে সকালে তুমি পেপারের যে হেডলাইন বা খেলার পাতা বা বিনোদন বা কৌতুক বা রাশিচক্র পড়েছ (কেউ কেউ অবশ্য “পাত্র/পাত্রী চাই” কলাম খুব মনযোগ দিয়ে পড়ে!) সেটা কিন্তু ঠিক মনে আছে। এমন কি শেষ যে গল্পের বইটি পড়েছিলে সেটার প্রত্যেকটা ঘটনাও পরিষ্কার চোখে ভাসছে! কিন্তু খেয়াল করে দেখ- কাল রাতের পড়াটা হয়তো তোমার মনেই নেই! এর কারণ আর কিছুই না, আগের চারটি প্যারা।

আমরা যখন একটা গল্পের বই/পেপার পড়ি তখন সেটা পরীক্ষার খাতায় লিখতে হবে, ভাল নাম্বার পেতে হবে বা মুকস্ত করতে হবে- এজন্য কিন্তু পড়ি না। বরং যেহেতু এটা পড়ে মনে রাখা খুব জরুরি না তাই পড়িও অনেক আরামসে-রিল্যাক্সলি-ঠান্ডা মাথায়-মজা নিয়ে-আগ্রহ নিয়ে-পায়ের ওপর পা তুলে-বুকের নিচে বালিশ দিয়ে-নিশ্চিন্তে...! আর মজার ব্যাপার হচ্ছে- এগুলোই ব্রেন যতœ করে মাথায় রেখে দেয়! তাছাড়া যখন একটা গল্প পড়ি তখন গল্পের চরিত্রগুলো আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমরা সেই গল্পের মধ্যে ঢুকে পড়ি। গল্পের চরিত্রগুলোর সাথে হাসি-কাঁদি... আর এটাই হল মনে রাখার কৌশল! যদি পাঠ্য বইয়ের পড়াগুলোকে গল্পের মত করে পড়া যায়, তাহলেই কাজ হয়ে যাবে। পড়াকে গল্প বা ঘটনা বানিয়ে নাও।

কঠিন ও রসহীন সাবজেক্টগুলো (যেমন, গণিত, বিজ্ঞান)-কে মনে কর পেপারের কোন মজার ফিচার। কিংবা কোন মজার ধাঁ ধাঁ! এবার পেপার পড়ার মত করে শ্রেফ জানার জন্য কৌতুহল নিয়ে পড়। দেখবে মনে রাখা কত সহজ হয়ে গেছে! * লাইন গুনে গুনে পড়াঃ এতো কিছুর পড়েও কিছু কিছু পড়া আছে বর্ণনামুলক। এগুলো দিয়ে গল্প বানানো কঠিন। মাঝখান থেকে কিছু অংশ বার বার ভুল হয়ে যায়।

যেমন- প্যারাগ্রাফ, রচনা (বিশেষ করে ইংরেজি)। এক্ষেত্রে প্রথমেই প্যারাগ্রাফটির কয়টি লাইন আছে গুনে নাও (সাধারণতঃ ১০/১২ লাইন হয়)। এবার দেখ প্রথম তিন লাইনে কী আছে। পরের তিন লাইনে কী বুঝিয়েছে? তারপর কোন বিষয়ে আলোচনা করেছে? কী বলে শেষ করলো- একটু খেয়াল কর। প্রয়োজনে বঙ্গানুবাদ করে নাও।

দেখবে সংখ্যার সাথে লাইনগুলো জুড়ে গেছে! এখন আঙ্গুলের কর গুনলেই কত তম লাইনে কি লেখা ছিল মনে পড়ে যাবে। বড় বচনার ক্ষেত্রে কতগুলো প্যারা, কোন প্যারায় মোটামুটিভাবে কয় লাইন, কত তম প্যারাটির নাম কি- একবার ভাল করে চোখ বুলিয়ে নাও। (মুকস্ত করার দরকার নেই! স্রেফ ভাল করে দেখে নাও। ) দেখবে পুরো রচনাটাই “এট এ গ্ল্যান্স”-এ চোখের সামনে ভাসছে। এখন আর কোন প্যারাই বাদ যাবে না।

গেলেও আঙ্গুল গুনেই বের করে ফেলা যাবে- কোন প্যারাটির পর কোন প্যারা আসবে! বিশ্বাস না হলে চেষ্টা করেই দেখো- ব্যাপারটি কত সহজ! এটি কিন্তু সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক একটি পদ্ধতি। মানুষের ব্রেইনের গঠনই এমন যে- এটি শব্দ/অক্ষর বাচক জিনিসের চেয়ে সংখ্যা বাচক জিনিসগুলো বেশি মনে রাখতে পারে। আর তাই কোন সংখ্যার সাথে কোন ঘটনা/লাইন/শব্দ জুড়ে দিলে পরবর্তীতে ঐ সংখ্যাটির কথা মনে করলেই ঐ লাইন বা ঘটনা মনে পড়ে যায়। প্রমান চাও? দেখো- রোল নং ৭। মনে করার সাথে সাথে তোমার ক্লাসে যার রোল ৭ তার পুরো প্রোফাইল চোখের সামনে ভেসে উঠেছে! এজন্যই অনেক ক্লাস টিচার মাঝে মাঝে কোন কোন স্টুডেন্টকে রোল নাম্বার ধরে ডাকে! কারণ, নামের (শব্দ) চেয়ে রোল (সংখ্যা) মনে রাখা অনেক সহজ! (বিশ্বাস হলো এবার?) * অর্থ বুঝে পড়াঃ কি পড়ছি তা না বুঝলে কখনোই সেটা স্মৃতিস্থ হবে না।

তাই ইংরেজি বা যে কোন কঠিন বিষয় পড়ার আগে সহজ বাংলায় অনুবাদ করে নাও। শব্দ/জিনিসটা সম্পর্কে ভাল করে জানো। প্রয়োজনে টিচার বা ডিকশনারীর সাহায্য নাও, দেখবে সহজে মনে থাকবে। * অল্প করে পড়, নিয়মিত পড়ঃ কখনোই অতিরিক্ত প্রেসার নিয়ে বেশি বেশি পড়ার দরকার নেই। জোর করে কখনও পড়াশোনা হয় না।

বড়জোর বই নিয়ে বসে থাকা হয়- কিন্তু সেই পড়া কোন কাজেই আসে না। বরং মজা নিয়ে পড়, নিয়মিত পড়। প্রয়োজনে অল্প পড়- কিন্তু নিয়মিত পড়। বারে বারে পড়। এ ব্যাপারে রাসুল (সঃ) এর একটি হাদিস বলি।

কোরআন শরীফ পড়ার ব্যাপারে তিনি এভাবে বলেছেন- “কোরআন ততক্ষণ পড় যতক্ষণ ভাল লাগে (মনযোগ থাকে)। ভাল না লাগলে (মনযোগ না থাকলে) বন্ধ করে উঠে পড়। ” এটা যে কোন কিছু পড়ার ব্যাপারেই প্রযোজ্য। * অন্যকে শেখানোঃ মনে রাখার অন্যতম মজার কৌশল হচ্ছে নিজে পড়ে তা অন্যকে শেখানো। ক্লাসের অন্য কাউকে যখন বুঝাতে যাবে তখন সে কিছু বুঝুক না বুঝুক দেখবে তুমি নিজে আরও ভালো ভাবে বুঝে গেছো! এমন অনেক বিষয় আছে যা নিজে পড়ার সময় ভাল করে বুঝিনি।

কিন্তু অপরকে বুঝাতে/শেখাতে গিয়ে নিজের কাছে আরও পরিষ্কার হয়ে গেছে। বিশেষ করে গণিত বা গাণিতিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এটি বেশি উপযোগী। এব্যাপারে একটা বৈজ্ঞানিক রিসার্চের কথা বলা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে- আমরা যা পড়ি তার ১০%, যা শুনি (রেডিও) তার ২০%, যা দেখি (ছবি) তার ৩০%, যা দেখি ও শুনি (টেলিভিশন) তার ৫০%, বলার সময় যা বলি (আলোচনা) তার ৭০% এবং কিছু করার সময় যা বলি তার ৯০% পরবর্তী সময়ে মনে থাকে। * গ্রুপ স্টাডি বা নিজেরা আলোচনাঃ কাজেই দেখা যাচ্ছে- একা একা পড়াশোনা করার চেয়ে যদি কয়েকজন মিলে পঠিত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যায় তাহলে আলোচ্য বিষয়টি বেশি মনে থাকে।

কারণ, আলোচনার সময় একই সাথে পড়া-শোনা-দেখা সবই হয়। এক্ষেত্রে যে খুব ভাল ছাত্রদের সাথে স্টাডি করতে হবে তা না। ক্লাসের সবচেয়ে দুর্বল ৩/৪জন স্টুডেন্টও যদি একত্রে বসে কোন বিষয়ে আলোচনা করে- দেখা যাবে কিছুক্ষণ পরে বিষয়টা সবাই আগের চেয়ে অনেক বেশি আয়ত্ত্ব করতে পেরেছে। আর ভাল করে বুঝে নিয়ে আলোচনা করলে তো কোন কথাই নেই। অল্প সময়ের মধ্যেই অসাধারণ ফল পাওয়া যাবে।

* সবার চেয়ে ভাল নয়, সব থেকে ভাল পরীক্ষা দাওঃ কখনোই পরীক্ষায় সবার থেকে ভাল লেখার বা বেশি নাম্বার পাবার প্রতিযোগীতায় নেমো না। এটা একটা অসুস্থ প্রতিযোগীতা! বরং তুমি তোমার জীবনের সেরা পরীক্ষাটি দাও। সব সময় চেষ্টা কর “বেটার দ্যান বিফোর”; আগের চেয়ে ভাল করার। প্রতিযোগীতা যদি করতেই হয় তো নিজের সাথে কর। মনে মনে বল- আমি যা শিখেছি তার সর্বোচ্চটা এই পরীক্ষায় দেব।

সেটা যত ছোট পরীক্ষাই হোক না কেন। দেখবে আপনা আপনিই তুমি সেরা হয়ে গেছ। * ফার্স্ট বয়/গার্ল নয়, ভাল ছাত্র/ছাত্রী হবার চেষ্টা করঃ একটা ক্লাসে সবাই ফার্স্ট হবে না। এই সহজ সত্যটা মেনে নাও। জীবনে ফার্স্ট হওয়াটা খুব জরুরী না।

জরুরী হচ্ছে ভাল ছাত্র/ছাত্রী হওয়া। আর সে তত ভাল স্টুডেন্ট যার জানার আগ্রহ যত বেশি। ক্লাসে সব সময় এক্টিভ থাক। সব কিছু বুঝতে চেষ্টা কর, শিখতে চেষ্টা কর। শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত সংগত প্রশ্ন কর (অবশ্যই অবান্তর প্রশ্ন না!) এতে শিক্ষকরা বিরক্ত হলে হোক, সেটা তার সমস্যা।

অবশ্য যে কোন ভাল শিক্ষক স্টুডেন্ট এর জানার কৌতুহলকে সব সময়ই স্বাগতম জানায়। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ২য় সেমিস্টারে আমাদের একজন তরুণ হিন্দু স্যার বাংলা পড়াতেন। (স্যার আমি খুব লজ্জ্বিত কারণ, আমি আপনার নামটা পর্যন্ত ভুলে গেছি। আমাদের ব্রেইন বড় অদ্ভুদ! আমার খুব ইচ্ছা ছিল কলেজে থাকতে একদিন আপনার পা ছুঁয়ে কদমবুসি করার। অজ্ঞাত কারণে সেটাও করা হয়নি।

এই লেখার মাধ্যমে আপনাকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। ) স্যার একদিন ক্লাসে বলেছিলেন- শিক্ষকদের কাজ ছাত্রদের পড়ানো নয়। পড়ার পরিবেশ তৈরি করে দেয়া। পড়াটাকে মজার ও আকর্ষণীয় করে তোলা। পড়া/শেখাটা স্টুডেন্ট-এর নিজের দায়িত্ব।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাস্তবে সেরকম শিক্ষকের খুব অভাব। তাই বলে ছাত্র হিসেবে তো আর আমরা বসে থাকতে পারি না! আমরা শেখার চেষ্টা করব। শিখতে চাওয়ার মধ্যে লজ্জ্বার কিছুই নেই। না জানাটা একদমই কোন অপরাধ নয়, বরং জানতে না চাওয়াটাই ভয়ঙ্কর অপরাধ! তাই নিজেকে গুটিয়ে না রেখে সর্বদা জানার চেষ্টা কর। ফার্স্ট হওয়ার কোনই দরকার নেই।

তুমি যা তুমি তাই হও। পৃথিবীর কোন বিখ্যাত ব্যক্তিই ছাত্র জীবনে ক্লাসের ফাস্ট বয়/গার্ল ছিলেন না! থাকলেও হাতে গোনা। কাজেই শুধু মুকস্ত করে খাতা ভরে লিখে হায়েস্ট মার্ক পেয়ে ফার্স্ট হয়ে কোন লাভ নেই। আমার দেখা ও শোনা মতে স্কুল-কলেজের বেশির ভাগ ফার্স্ট বয়/গার্লরা কর্ম জীবনে খুব বড় কিছু হতে পারে না। যারা শুধু বই মুকস্ত করে ফার্স্ট হয় তারা খুব বড়জোর ভাল বেতনের একটা চাকরি পায়।

ব্যাস ঐটুকুই, এর বেশি কিছু না! ব্যবহারিক জীবনে এরা একটা স্টুপিড ছাড়া কিছু নয়। আমাদের দেশটা এইসব স্টুপিড ফার্স্ট বয় দিয়ে ভরে যাচ্ছে। আমাদের আর নতুন কোন ফার্স্ট বয় দরকার নেই। প্রিয় লেখক ডঃ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার বলেছিলেন- একজন বিখ্যাত ব্যক্তি দিয়ে কি হয়? কিছুই হয় না। কিন্তু একশজন ভাল মানুষ দিয়ে দেশের চেহারাটাই পাল্টে ফেলা যায়।

ঠিক সেরকম আমিও বলতে চাই- একজন ফার্স্টবয় দিয়ে কি হয়? কিছুই হয় না। কিন্তু অনেকগুলো ভাল ছাত্র দিয়ে দেশের চেহারাটাই পাল্টে দেয়া সম্ভব। আমি কাউকে ফার্স্ট হতে নিরুৎসাহিত করছি না। কিন্তু শুধু ক্লাসে ফার্স্ট হলেই চলবে না- ফার্স্ট হতে হবে জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায়। ফার্স্ট হতে হবে সততায় আর নৈতিকতায়।

হতে হবে সর্বপরি একজন ভাল মানুষ। শেষ একটা টিপস্ দিয়ে এই লেখা শেষ করব- * পরীক্ষার আগের রাত/শেষ রিভিশনঃ খুব জরুরী এই ব্যাপারটা। শেষ রিভিশনের সময় কখনও সিলেবাসের দিকে তাকাবে না- আর কতটা পড়তে হবে। এতে মনবল কমে যেতে পারে। শেষবারের মত রিভিশন শুরু করার আগে এক মিনিট চুপচাপ সোজা হয়ে বস।

আলতো ভাবে চোখ বন্ধ কর। লম্বা করে একটা দম নাও। আস্তে আস্তে নিশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে সৃষ্টিকর্তার কথা স্মরণ কর। সামগ্রিক প্রস্তুতির জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা জানাও। অন্তর থেকে অনুভব কর- তোমার প্রিপারেশন অনেক ভাল।

এজন্য সৃষ্টিকর্তাও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট। তিনিও তোমার ফেবারে আছেন! এবার নিজেকে সেলিব্রেট কর। নিজেকে বল- ভেরি ওয়েল ডান। আই ডিড মাই বেস্ট! এন্ড আই এ্যাম গোয়িং টু ডু দ্যা বেস্ট। তারপর মনে মনে বল- এখন আমি শেষ বারের মত যা যা পড়ব- ঠিক তাই পরীক্ষায় আসবে।

আর যা পড়তে পারব না, তাও যদি পরীক্ষায় আসে- তবুও আমার সব মনে থাকবে এবং আমি খুব ভাল করে তা লিখতে পারব। সর্বপরি আমি আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ পরীক্ষাটি দিতে যাচ্ছি! এবার চোখ খোল। রিলেক্স মুডে বইয়ের ওপর চোখ বুলাও। গনিত জাতীয় বিষয়গুলোতে সুত্রগুলো ভাল করে দেখ। সময়ের অভাবে সব অঙ্ক না করতে পারলেও সমস্যা হবে না।

রাত না জেগে ঘুমিয়ে পড়। [বি:দ্র: পরীক্ষা হলে ঢুকবার আগে ভুলেও নতুন কোন টপিক মুকস্ত করতে যাবে না। এমনকি প্রশ্নপত্র আউট হলেও না! নিজের প্রতি বিশ্বাস াখ। তুমি যা রিভাইস করেছো শুধু তার উত্তর লিখলেও তোমার পরীক্ষটাই হবে সেরা। তবে পরীক্ষার হলে ফুল এনসার করার চেষ্টা করো।

সময়ের অভাবে কয়েকটার উত্তর খুব ভাল কয়েকটা না লেখার চেয়ে মোটামুটি ভাবে সবগুলোর উত্তর লিখতে পারলে বেশি মার্কস পাওয়া যায়। ] সর্বশেষ সকল ছাত্র/ছাত্রীদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ- তোমার মেধাটাকে টাকার কাছে বিক্রি করো না। একটা ভাল বেতনের চাকরিই জীবনের সব না। তোমার মেধার মূল্য টাকার অঙ্কে মেপো না কখনও। দেশ তোমার কাছে আরও অনেক কিছু আশা করে।

কাজেই এসো সৃষ্টিকর্তা আমাদের যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতটি দিয়েছে সেটাকে একটু ভাল কাজে ব্যয় করি। জীবনে যা শিখেছি যা শিখব, তা একটু হলেও ভাল কাজে, মানবকল্যানে কাজে লাগাই। তাহলেই ছাত্র জীবনের এতো কষ্টের সার্থকতা। ---------- ০ ---------- ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.