আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা : ফেসবুকে কোরআন অবমাননার ছবি, রামু পটিয়া টেকনাফে বৌদ্ধমন্দিরে হামলা

আমরা হেরে যাইনি। এশিয়া কাপ না জিতলেও তোমরা আমাদের হৃদয় জয় করেছ। আমরা গর্বিত সহিংসতার পেছনে সরকারের মদদ: খালেদা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এক যুবকের পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার প্রতিবাদে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ১১টি বৌদ্ধমন্দির ও ১৫টি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। ভাংচুর করা হয়েছে আরও দুটি বৌদ্ধমন্দির এবং শতাধিক বসতঘর। কক্সবাজারের রামু উপজেলার হাইটুপী গ্রামের উত্তম কুমার বড়ুয়া নামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এক যুবক সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ফেসবুকে ‘কোরআনের ওপর মহিলার দুটি পা’, ‘আল্লাহ শব্দের বিকৃতি’ ও ‘পবিত্র কাবা শরিফে কেউ নামাজ পড়ছেন, কেউ পূজা করছেন’—এমনসব ছবি পোস্ট করার পর শনিবার রাতে মৃদু বিক্ষোভ হঠাত্ একঘণ্টার মধ্যেই তীব্রতর হয়ে ওঠে।

শনিবার রাত ৯টা থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে এসব অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববার ভোর থেকে রামুতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ধর্মীয় স্থাপনায় সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পটিয়ায় বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। টেকনাফে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর গুলিবর্ষণে ২০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পুরো কক্সবাজার জেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রামুর ওই ঘটনাকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি আনছার হোসেন, টেকনাফ প্রতিনিধি তাহের নঈম, রামু প্রতিনিধি সোয়েব সাঈদ, পটিয়া প্রতিনিধি এ টি এম তোহা ও স্টাফ রিপোর্টারদের প্রতিবেদনে বিস্তারিত: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়েবসাইটে পোস্ট করা সেসব ছবির প্রতিবাদে রামু উপজেলায় ১১টি বৌদ্ধ মন্দির ও ১৫টি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ভাংচুর করা হয় আরও দুটি বৌদ্ধমন্দির এবং শতাধিক বসতঘর। শনিবার রাত ৯টা থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে এসব অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওইসব এলাকায় দমকল বাহিনীর গাড়ি ও দমকল কর্মীদেরও যেতে দেয়নি বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৫টি মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর উত্তম বড়ুয়া পলাতক থাকলেও তার মা ও বোনকে পুলিশ নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়েছে। উত্তম কুমার বড়ুয়া রামু সদরের বড়ুয়া পাড়া চেরাংঘাটা এলাকার সুদত্ত বড়ুয়ার ছেলে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানান, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গতকাল সকাল ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রামু সদর ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ওই যুবকের দুঃসাহস অবিশ্বাস্য, নজিরবিহীন ও পরিকল্পিত।

তারা বলছেন, পদ্মা সেতু, হলমার্ক কেলেঙ্কারিসহ নানা ঘটনায় বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তার পারদ যখন দু্রত নিচে নামছে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে বিরোধী দল যখন তীব্র আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সরকারের প্রতি জনগণের দৃষ্টিকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য দেশি-বিদেশি কোনো শক্তির মদতে পবিত্র কোরআন অবমাননার মতো অকল্পনীয় ঘটনা ঘটানো হয়েছে। রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, পুলিশের আইজিপি হাসান মাহমুদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার সিরাজুল হক খানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে রামু চৌমুহনী স্টেশন চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সভায় মন্ত্রীদ্বয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। শনিবার রাতে মিছিল-সমাবেশ চলাকালে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চালান রামু-কক্সবাজার আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল। তিনি উত্তেজিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম।

কেউ দোষ করলে তাকেই শাস্তি পেতে হবে। তাই বলে অন্যের ওপর হামলা বা ক্ষতি করবেন না। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ নারী-পুরুষ অভিযোগ করেছেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে উত্তেজিত জনতা বৌদ্ধপল্লীগুলোতে মিছিল-সমাবেশ করলেও পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। এতে উচ্ছৃঙ্খল জনতা বেপরোয়া হয়ে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সুযোগ পেয়েছে। এমনকি পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরও দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি।

রাত তিনটায় ঘটনাস্থলে আসেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. জয়নুল বারী, পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও বসতঘর পরিদর্শন করেন। রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল বলেন, পবিত্র কোরআন অবমাননার বিষয়টি দুঃখজনক। কিন্তু এ নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশে কিছু মহল উদ্দেশ্যমূলক এসব তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। তিনি হামলা চলাকালে বারবার বলার পরও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি; তাই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার রাত একটার দিকে রামুর চৌমুহনী-চেরাংঘাটা সড়কে লাল চিং সাদা চিং নামের দুটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে মন্দির দুটি পুড়ে যায়। রাত সোয়া একটায় জনতা রামু চৌমুহনীর উত্তর পাশের বড়ুয়া পাড়ায় প্রায় ১৫টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া প্রায় ৫০টিরও বেশি বসতঘর এবং দোকানপাট ভাংচুর হয়েছে। রাত দেড়টায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও বিজিবি এবং রাত ২টায় সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উপজেলা ও থানা প্রশাসনের অবহেলাকে দায়ী করে জানান, যথাসময়ে উত্তেজিত জনতাকে প্রতিরোধের পদক্ষেপ নেয়া হলে এত অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটত না। বৌদ্ধ নেতা ও রামু উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া জানান, উত্তেজিত জনতা ১১টি মন্দির ও ১৫টি বসতঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে প্রায় শতাধিত দোকানপাট। আগুনে পুড়ে যাওয়া মন্দিরগুলো হচ্ছে, পশ্চিম মেরংলোয়া গ্রামের কেন্দ্রীয় সীমাবিহার, উত্তর শ্রীকুল গ্রামের সাদাচিং ও লালচিং, মৈত্রী বিহার, অপর্ণাচরণ বৌদ্ধ বিহার, উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামের প্রজ্ঞামিত্র বনবিহার, সীমাঘর, লালচিং, বিমুক্তি ভাবনা বিদর্শন কেন্দ্র, উখিয়ারঘোনা গ্রামের তেজবন বিহার ও লট উখিয়ারঘোনা গ্রামের আর্য বংশ বৌদ্ধ বিহার। ভাংচুর করা হয়েছে, চেরাংঘাটা বড় ক্যাং ও উত্তর ফতেখারকুল গ্রামের বিবেকারাম বৌদ্ধ বিহার।

অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া বসতঘর ও দোকান মালিকরা হলেন, অতিন্দ্র বড়ুয়া, ফকির ড্রাইভার, জুনু বড়ুয়া, অতিমোহন বড়ুয়া, তাফুরু বড়ুয়া, অঞ্জলী বড়ুয়া, জুনু বড়ুয়া (২), ফুরুক বড়ুয়া, তোফান বড়ুয়া, নিকাশ বড়ুয়া, শশিবালা বড়ুয়া, জুনু বড়ুয়ার দোকান, আব্বুলু বড়ুয়া, নিরঞ্জন বড়ুয়া প্রমুখ। এদিকে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিকভাবে এসব হামলা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও মহাজোটের নেতারা এজন্য ‘মৌলবাদীদের’ দায়ী করেছেন। অবিমৃষ্যকারী যুবকের বিরুদ্ধে কোনো কথা না বলে তারা প্রতিবাদী জনতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর রামুর ঘটনায় বিএনপির এমপি ও মৌলবাদীরা জড়িত বলে মন্তব্য করে বলেছেন, যারা বৌদ্ধ বিহারসহ বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তাদের দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওপর এ হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তাদের কৃতকর্মের বিচারের হাত থেকে রক্ষার জন্য মরণকামড় হানার চেষ্টা করছে। দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে এ গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, চট্টগ্রামের পটিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘এটা কোনো সাম্প্রদায়িক বা হানাহানির ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক ও সুপরিকল্পিত একটি ঘটনা।

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একটি কুচক্রীমহল ষড়যন্ত্রমূলক গুজব ছড়িয়ে ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই গোষ্ঠীর স্থানীয় কয়েকজন শীর্ষ নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এটা ঘটান। তাদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ’ শিল্পন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া বলেছেন, একটি কুচক্রীমহল এ হামলা চালিয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের বিচার হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে, ভিন্ন রাজনীতির কিছু নেতাকর্মিসহ উগ্র মৌলবাদীরা মন্দির ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। এদেশে সব সম্প্রদায়ের ধর্ম পালনের সমঅধিকার রয়েছে। পাশাপাশি ধর্মে মর্যাদা রক্ষা করাও সব সম্প্রদায়ের লোকদের সমদায়িত্ব। কিছু ব্যক্তির সামাজিক সাইটের বিষয়টিকে নিয়ে যারা বৌদ্ধ বিহারসহ বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তাদের দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বৌদ্ধ পল্লীতে সংগঠিত মন্দির ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং ভাংচুরের ঘটনা দেখার পর আয়োজিত এ সংক্ষিপ্ত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এসব কথা বলেছেন।

গতকাল দুপুর ২টায় রামু চৌমুহনী স্টেশনে আয়োজিত সভায় পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি দ্বারা সংগঠিত বিহারের ও বসতঘর পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। শিল্পীমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ এদেশের সম্মানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নষ্ট করতে কিছু স্বার্থান্বেষী ও উচ্ছৃঙ্খল সংগঠন উঠেপড়ে লেগেছে। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত এ সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেয়া যাবে না।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ অঞ্চলের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে পুনরুদ্ধার করা হবে। পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আইজিপি হাছান মাহমুদ, বিভাগীয় কমিশনার সিরাজুল হক খান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নওশের আলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক আহমদ, উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, কক্সবাজার পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ সিআইপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, সোনালী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা নাজনীন সরওয়ার কাবেরী প্রমুখ। পটিয়ায় বৌদ্ধ বিহারে হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ : সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পটিয়া হঠাত্ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বৌদ্ধ যুবক কর্তৃক কোরআনের ওপর পা রাখার ছবি ফেইস বুকে পোস্ট করার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের পটিয়ার কোলাগাঁও ইউনিয়নের লাখেরা অভয় বিহার (বৌদ্ধ বিহার), কোলাগাঁও দুর্গাবাড়িসহ ৫টি মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ফেইস বুকের দৃশ্যটি ওয়েস্টার্ন মেরিনের শ্রমিকদের দৃষ্টি আকর্ষিত হলে ধর্মপ্রাণ শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ সময় শ্রমিকরা দলবদ্ধ হয়ে পাশের বৌদ্ধপাড়ায় হামলা চালায়। তারা সেখানে অবস্থিত বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর করে। ফেরার পথে কোলাগাঁও হিন্দুদের দুর্গাবাড়ি, আরেকটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপদে যার যার বাড়িতে অবস্থান করছে। ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়ার এমপি সামশুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রামের ডিআইজি, পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকেয়া পারভীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) নাজমুল আহসান, র্যাব-৭-এর কোম্পানি কমান্ডার এএসপি সাখাওয়াত হোসেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল দুপুর ১২টায় এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি ওখানকার বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের ন্যক্কারজনক হামলা, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের সংবাদের এমনিতেই বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

এছাড়া মোহাম্মদকে (সা.) ব্যঙ্গ করে আমেরিকার তৈরি চলচ্চিত্র ও ফ্রান্সে তৈরি কার্টুন প্রকাশের প্রতিবাদে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বিক্ষোভের মধ্যে বৌদ্ধ ভিক্ষুর কোরআনের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য ফেইস বুকে দেখে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকেয়া পারভীন ও সার্কেল এএসপি নজরুল ইসলাম আমার দেশ-কে জানিয়েছেন, স্থানীয় লোকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হলেও কারা ওয়েস্টার্ন মেরিনের শ্রমিকদের উসকানি দিয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে ওয়েস্টার্ন মেরিন কর্তৃপক্ষ দোষীদের বিচারসহ পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। রামুতে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন : রামুতে বৌ্রবসতি মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও মৌনমিছিল করেছে বৌ্র ধর্মাবলম্বীরা। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এলাকায় মানববন্ধনে তারা হামলায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

সর্বস্তরের বৌ্র সমাজের ব্যানারে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌ্র সমিতির চেয়ারম্যান অজিত রঞ্জন বড়ুয়া, মহাসচিব আদর্শ কুমার বড়ুয়া ও বৌ্র ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি স্বজন বড়ুয়া, বৌ্র সমিতি মহিলার সভানেত্রী লিলি বড়ুয়া প্রমুখ। টেকনাফে বিক্ষোভরত জনতার ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ, আহত ২০ : টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি মহুাম্মদ তাহের নঈম জানান, ফেসবুকে কোরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সন্ধ্যায় টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর ওপর পুলিশ গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান, ৮ বছরের এক শিশু, ৩ পুলিশ কনস্টেবল, সংবাদ কর্মীসহ ২০ জন গুলিবিদ্ধ সহ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং লম্বাবিল, হোয়াইক্যংয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসলমানরা রামু এলাকায় শনিবার রাতে ফেসবুকে কোরআন অবমাননার ঘটনার প্রতিবাদে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে হোয়াইক্যং স্টেশনে পৌঁছলে আরও প্রায় কয়েক হাজার জনতা জড়ো হয়।

মিছিলটি হঠাত্ পশ্চিমদিকে মোড় নিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার পাহাড়ের গহীনে লাতুরীখোলা নামক এলাকার পাশাপাশি বড়ুয়া ও হিন্দুপাড়ার দিকে গেলে বড়ুয়া ও পুলিশ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। তখন পুলিশ-জনতা মুখোমুখি হলে একজন চাকমা পুলিশ গুলি চালায়। এতে আমতলীর আবুল কাশেমের ছেলে মো. জাহেদ (১৮), লম্বাবিলের মিয়ার ছেলে মো. জালাল (১৬), স্থানীয় জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. করিম (১৮), আবদুল হাকিমের ছেলে মোস্তাক (২৫), মো. আলমের ছেলে পুতিয়া (৮), নুরুল আলমের ছেলে মো. হোছন (১৮), নুরুল ইসলামের ছেলে হাছান আলীসহ (১৮) গুলিবিদ্ধসহ আরও ৭/৮ জন আহত হয়। এছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান নূর আহমদ আনোয়ারী, ৩ পুলিশ কনস্টেবল, সংবাদকর্মী রমজান উদ্দিন পটলসহ ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ খবর হোয়াইক্যং স্টেশনে পৌঁছলে উত্তেজিত লোকজন ট্রায়ার জ্বালিয়ে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে ব্যারিকেড দেয়।

প্রায় ১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ছিল। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই বখতিয়ার আহমদ জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা ৪টি হিন্দু ও ১টি বড়ুয়ার বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৯-৩০) তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছিল।  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.