আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ফরেক্স এর পরিভাষা

change in real ফরেক্স এর নিজস্ব একটি পরিভাষা ও শব্দসমাহার আছে। ফলে, ফরেক্স এর অনন্যা বিষয় শেখার আগে আপনাকে অবশ্যই এর পরিভাষা ও শব্দসমাহার সম্পর্কে জানতে ও মনে রাখতে হবে। ফরেক্স এর নিজস্ব পরিভাষার প্রাথমিক শব্দসমাহারঃ ক্রস রেট(Cross rate): ২টি বৈদেশিক মুদ্রার পারস্পারিক বিনিময় মূল্য। সহজভাবে, এটি হল যে কোন একটি দেশের মুদ্রার তুলনায় অন্য আরেকটি দেশের মুদ্রার মূল্যহার। একে মুদ্রার উদ্ধৃতি (currency quote) ও বলা হয়।

এই হার শুধুমাত্র উল্লেখিত ঐ ২টি মুদ্রার মধ্যকার পারস্পারিক মূল্যহার। এর সাথে অন্য কোন দেশের মুদ্রার কোন রকমের সম্পর্ক নেই। উদাহরনস্বরূপ, আপনি যখন বাংলাদেশের পত্রিকায় বা টিভি তে ইউরো ও ইউএসডি এর ক্রস রেট দেখছেন, তখন তা শুধু তাদের নিজেদের মূল্যর তুলনামুলক হার যার সাথে বাংলাদেশের টাকার কোনই সম্পর্ক নেই। বিনিময় হার(Exchange rate): একটি মুদ্রার বিপরীতে অন্য একটি মুদ্রার দাম। যেমন, ইউরো/ইউএসডি= ১।

৩২৩২ বলতে বঝায় যে ১ ইউরো সমান ১। ৩২৩২ ইউএসডি। পিপস()ঃ যেকোনো মুদ্রার মূল্য পরিবর্তন এর ক্ষুদ্রতম একক। একে পয়েন্ট ও বলা হয়। যেমন, ইউরো/ইউএসডি এর ক্ষেত্রে ১ পিপ হল ০।

০০০১ এবং উএসডি/জেপিওয়াই এর জন্য তা ০। ০১। লব্ধ হার(Leverage)ঃ আপনার প্রকৃত মূলধনকে কয়েক গুণ বৃদ্ধি করার কৌশল কে বলা হয় Leverage। আপনার লেনদেন এর সীমা যদি হয় ১০০ ডলার এবং আপনি ১০ঃ১ Leverage করেন তবে আপনার বিনিয়োগের জন্য ১০০০ ডলার হল। আবার আপনার যদি প্রকৃত মূলধন বা লেনদেন এর সীমা ১০০০ ডলার হয় এবং আপনি ১০০ঃ১ Leverage করেন তবে আপনি ১০০০০০ ডলার এর সমপরিমান কেনাবেচা করতে পারবেন।

এখন কিভাবে বুঝবেন আপনার Leverage কত? মনে করুন আপনার লেনদেন এর বর্তমান সীমা হল ১০০০০ ডলার যা দিয়ে আপনি এক লট উএসডি/জেপিওয়াই মুদ্রা-জোড় কিনলেন যার দাম পরল ১০০০০০ ডলার। এখানে আপনি যে দাম দিয়ে প্রাথমিক ক্রয় এর কাজটি করেছেন তাকে আপনার বর্তমান সীমা এর পরিমাণ দিয়ে ভাগ করলেই আপনার Leverage কত তা জানতে পারছেন যা এখানে ১০ঃ১। অথবা একই সীমাতে আপনি এক লট ইউরো/ইউএসডি মুদ্রা-জোড় কিনলেন যার দাম পরল ১৫০০০০ ডলার, ধরুন ইউরো/ইউএসডি=১। ৫০০০। আপনার Leverageএখানে ১৫ঃ১।

পরিমান/প্রান্ত(Margin): যে কোন অবস্থানের বা কাজের জন্য আপনার মূলধন এর প্রান্তীয় পরিমাপ থাকে। এটি ২ ধরনের হয়ে থাকে যথা- ব্যবহারযোগ্য ও ব্যবহৃত(Free and Used)। ব্যবহৃত প্রান্ত হল আপনার আপনার লেনদেন করার ফলে মূলধনের যে অংশটুকু বর্তমানে খাটানো আছে। এবং ব্যবহারযোগ্য সীমা হল এই অবস্থায় যে পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ এর জন্য অবশিষ্ট আছে। আপনার যদি ১০ ডলার থাকে এবং ১০০ঃ১ Levarage থাকে তবে আপনার সীমা হল ঐ ১০ ডলার পর্যন্ত।

আপনি ঐ পরিমাণ অর্থের সমপরিমান যেকোনো মুদ্রা-জোড় কেনাবেচা করতে পারবেন যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনার অব্যবহৃত অর্থ এবং লেনদেনকৃত মোট মুদ্রামান এর যোগফল ১০ ডলার এর কম না হয়ে যায় অর্থাৎ আপনার গ্রহণযোগ্য সীমা ১%। কেউ লেনদেন শুরু বা শেষ অথবা চালু রাখার সময় যদি মূল্য পরিবর্তন বা অন্য কারনে তার লেনদেনকৃত মুদ্রা ও মূলধনের মোট মূল্যমান যদি তার ব্যবহারযোগ্য সীমা এর নীচে চলে যায় তবে ব্রোকার তাকে একটি “Margin call” বা সতর্ক সঙ্কেত দেয় যা তাকে কোন লেনদেন বন্ধ বা আরও অর্থ ঐ হিসাবে বিনিয়োগে বাধ্য করে। সাধারনত, ব্রোকাররাই উক্ত অবস্থায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যেমন কোন লেনদেন বন্ধ করা বা অনুরূপ কিছু করে থাকে। ব্যাপ্তি(Spread): কোন মুদ্রা-জোড় এর জন্য প্রস্তাবিত এবং গৃহীত মূল্য এর পার্থক্য কে তার ব্যাপ্তি বা Spread বলে। একে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য এর পার্থক্য ও বলা জেতে পারে।

এটি হচ্ছে ব্রকারের মুনাফা যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৩পিপস হয়ে থাকে। ধরুন, এর বিক্রয়মূল্য= ১। ৩২৩০ এবং ক্রয়মূল্য ১। ৩২৩৩। অর্থাৎ এর স্প্রেড হল ৩পিপস।

এখন আপনি যদি এই দরে ইউরো/ইউএসডি ক্রয় করেন তবে আপনাকে অন্তত ৩ পিপস বৃদ্ধির জন্য অপেক্ষা করতে হবে নাহলে আপনি ব্যাপ্তির জন্য ঐ ৩ পিপস এর সমপরিমান অর্থ হারাবেন। সবচেয়ে পরিচিত ও বড় মাপের মুদ্রা-জোড় এর সংক্ষিপ্ত তালিকাঃ এবার বুঝব ফরেক্স এর মুদ্রা-জোড় গুলর মূল্য কিভাবে উদ্ধৃত করা হয়ঃ ট্রেডিং করার পূর্বেই আমাদের বুঝতে হবে ফরেক্সএর মুদ্রা-জোড় গুলর মূল্য কিভাবে লেখা হয়। প্রথমেই লক্ষণীয় যে, এখানে মুদ্রার কেনাবেচা করা হয় জোড় হিসাবে যেমন ইউরো/ইউএসডি, উএসডি/জেপিওয়াই ইত্যাদি। এর কারন হল, আমরা যখন লেনদেন করি তখন আসলে একটি কুদ্রা কিনি এবং আরেকটি মুদ্রা বিক্রয় করি। এখন আমি যদি ইউরো/ইউএসডি ক্রয় করি এবং এরপর ইউরো এর মূল্য ইউএসডি এর বিপরীতে বৃদ্ধি পায় তবে আমি লাভবান হব।

জোড়ার প্রথমটিকে বলা হয় মূল(Base) এবং পরেরটিকে বলে উদ্ধৃত(Quote/ counter) মুদ্রা এবং এদের মাঝে একটি “/” চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এখন আমি যদি ইউরো/ইউএসডি ক্রয় করতে চাই তবে তাদের বিনিময় হার আমাকে বলবে যে আমাকে কত ইউএসডি(Quote) দিয়ে এক ইউরো(Base) কিনতে হবে। ইউরো/ইউএসডি= ১। ৩২৩২১ হলে বুঝতে হবে ১ ইউরো(Base)কিনতে ১। ৩২৩২১ ইউএসডি(Quote) দিতে হবে।

আবার, আমি যদি ইউরো/ইউএসডি বিক্রয় করতে চাই তবে তাদের বিনিময় হার আমাকে বলবে যে আমাকে কত ইউএসডি(Quote) পাওয়া যাবে এক ইউরো(Base) বিক্রয় করলে। ইউরো/ইউএসডি= ১। ৩২৩২১ হলে বুঝতে হবে ১ ইউরো(Base) বিক্রয় করলে ১। ৩২৩২১ ইউএসডি(Quote) পাওয়া যাবে। আরও সহজভাবে বলি, বেজ(Base)মুদ্রা হল লেনদেন এর ভিত্তি যা আসলে লেনদেন করা হয়।

আমরা কোন মুদ্রা-জোড় কিনলে আসলে তার বেজ(Base)মুদ্রা কিনি তার জোড়ার বিপরীত মুদ্রা দিয়ে এবং কোন মুদ্রা-জোড় বিক্রি আসলে তার বেজ(Base)মুদ্রা বিক্রি করে তার জোড়ার বিপরীত মুদ্রা কিনি। যেমন, ইউরো/ইউএসডি কিনলে আসলে ইউরো কিনি ইউএসডি দিয়ে এবং ইউরো/ইউএসডি বিক্রি করলে আসলে তার ইউরো বিক্রি করে ইউএসডি পায়। ফলে, যায় করি না কেন তা আসলে বেজ মুদ্রাটিকে নিয়েই করা হয়। সাধারনভাবেই, ফরেক্স এর খুব প্রাথমিক কথা হল যে, আপনি যদি মনে করেন বেজ মুদ্রাটির মূল্য তার উদ্ধৃত বা বিপরীত মুদ্রাটির তুলনায় বাড়বে তবে আপনি ঐ মুদ্রা-জোড়টি কিনবেন এবং যদি মনে করেন প্রথম মুদ্রাটির দাম পরেরটির তুলনায় কমবে তাহলে জোড়টি বিক্রি করে দিতে পারেন। ডাক দেয়া(Bid) ও অর্থিত মূল্য(Ask)ঃ ডাক দেয়া(Bid): ডাক দেয়া বা Bid price হল যে দামে ব্রোকার আপনার কাছে থেকে কোন মুদ্রা-জোড় কিনে নেবে।

অর্থাৎ, যে দামে আপনি কোন মুদ্রা-জোড় বিক্রয় করবেন তা হল ডাক দেয়া বা Bid price। অর্থিত মূল্য(Ask): অর্থিত মূল্য বা Ask price হল যে দামে ব্রোকার আপনাকে কোন মুদ্রা-জোড় বিক্রি করে। অর্থাৎ, যে দামে আপনি কোন মুদ্রা-জোড় ক্রয় করবেন তা হল অর্থিত মূল্য বা Ask price। ডাক দেয়া ও অর্থিত মূল্যর ব্যাপ্তি (Bid/Ask Spread): কোন মুদ্রা-জোড় এর ডাক দেয়া বা Bid price এবং অর্থিত মূল্য বা Ask price এর মধ্যে যে পার্থক্য থাকে তাকে ডাক দেয়া ও অর্থিত মূল্যর ব্যাপ্তি (Bid/Ask Spread) বলে। এটি মুদ্রা, ব্রোকার এবং পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.