আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ঈশপের গল্প:

ঈশপের গল্প: অরিজিনালঃ কাঁসার কলসি আর মাটির কলসি মোরালঃ সবল প্রতিবেশীর কাছে থাকা যুক্তিসঙ্গত নয়। একালের গল্প – একটি সত্যি ঘটনা: আমি যেই ভাষায় কথা কই হেই ভাষায় এই গল্পডা কমু, মাইন্ড খাইলে আমার কিছু করার নাইজ্ঞা। চলতি বইয়ের ভাষায় গল্প কইতে কেন জানি আমার ভালা লাগে না। চিরকাল অর্থের টানাপোড়নের মইধ্যে চলেছে সংসার, সেই স্কুল জীবন থাইকা শুরু। ছাত্র পড়াইয়া নিজের পড়াশুনার খরচ চালাইতাম।

এর মইধ্যে বেক্কলের মত অল্প বয়সে প্রেমে পড়ি, অন্ধ প্রেম বাঁধ মানে না কোন – একদিন অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না কইরা আমার প্রেমিকাকে নিয়া বিয়ার পিড়িতে বইসা গেলাম, সত্যিকার অর্থে বিয়ের পিঁড়ি নয়, কারণ তখনো বিয়ের বয়স হয় নি (দুজনেই মাইনর)। বন্ধু বান্ধবের সহায়তায় তাকে নিয়ে কোর্টে হাজির হয়ে ফলস জন্মতারিখ কইয়া বিয়ার কাগজে সই কইরা ফালাইলাম - “বেক্কল আর কারে কয়?” তারপর বিয়াডারে আরো পোক্ত করার লাইজ্ঞা কাজী অফিসে গিয়া আবার তিন বারের বদলে তিনশবার কবুল কইয়া ফালাইলাম – “গাধা বলে গাছে ঝুলে”। কাজী বেডায় কয় এত্ত বার কবুল কইতাছেন কিয়াল্লাই? আমি হেতারে কইলাম আমার মনে বড় আশনাই, যত্তবার বেশি কইয়াম তত্ত আমার বিয়া পোক্ত হইব। এই ছেড়িরে ছাড়া আমি বাচুম না। কাজী বেডা দিল হাইসসা, লাভের মাঝে লাভ হইল বেডার সার্ভিস চার্জ নিল না, খালি কাবিননামার সরকারী চার্জের টেকা নিল, আর ফাও বেশি কইরা দোয়া কইরা দিল।

হইয়া গেলাম বন্ধু সমাজে প্রথম লেজকাটা বিয়াইত্তা বেডা। তারপর দুই বাড়ি থাইক্কা দুইজনেরে যথারীতি অর্ধচন্দ্র দিয়া বহিষ্কার – বাবা মায়ে কইল “বিয়া করছস খুব ভালা করছস এলা চইড়া খা, ভালোবাসা জানালা দিয়া পলাইলে বাড়ি ফিরা আহিস”। সংসারের জোয়াল পড়ল কান্ধে। কি আর করি, কয়দিন এই বন্ধু কয়দিন ওই বান্ধবের বাড়িতে কোনমতে লাজলজ্জার মাথা খাইয়া কাটাইয়া দিলাম। তারপর কষ্টেসৃষ্টে অনেক দেন দরবার কইরা বন্ধু বান্ধবের সহায়তায় এক কামরার একখান বাড়ি ভাড়া লইয়া লইলাম।

বাড়ি তো লইলাম, খামু কি? পড়ালেখার কি হইব? যা করে আল্লায় - দুইজনে মিল্লা শুরু করলাম টিউশনি। দিনে টিউশনি কইরা বেড়াই রাইতে একজন আরেকজনরে পড়াই। নাহ এমনে দিন আর কাটে না। একজন (বৌ) শুরু করলাম চাকরী (খুবই ছোটমোটো) সাথে টিউশনি, আরেকজন কোমর বাইন্ধা পড়াশুনা। কষ্টে মষ্টে ডিগ্রী পাশ কইরা ফালাইলাম।

এইবার আমি শুরু করলাম চাকরী আর টিউশনি বৌরে কইলাম কোমর বাইন্ধা পড়াশুনা করতে। হেতানেও দিল ডিগ্রী পাশ। বাহ, ভালোই তো আছি। বকলম থাইক্কা দুইজনেই ডিগ্রী পাশ কইরা ফালাইলাম। একটু সময় বেশি লাগছে, অনেক কাঠখড় পোড়াইতে হইছে - তয় পাশ তো করছি! এইবার শুরু হইল মাস্টার্সের পালা।

একজন দিনে চাকরী করি আর সইন্ধ্যার ক্লাসে পড়ি, আরেকজন দিনের ক্লাস করি আর সইন্ধ্যা থেকে শুরু করি টিউশনি টানা রাইত ১০-১১টা পর্যন্ত। যাউজ্ঞা এমনে এমনেই একদিন দেহি দুনিয়াডারে কলা দেহাইয়া দুইজনে মিল্লা এক সাথে একই বছর মাস্টার্স পাশ দিয়া ফালাইছি, কত্ত যে কষ্ট করছি দুইজনে তাও কিন্তক আমগো ভালোবাসার একটুও কমতি পড়ে নাই, বাবা মায়ের কথা মত ভালোবাসা জানালা দিয়া পলায় নাই, বরং খোলা জানালা দিয়া জ্যোৎস্না আইসা চান্নিতে ভইরা গেছে আমাগো দুইজনের জীবন। খুশি আর দেহে কেডা? এইডা-তো কইলাম আমগো দুইজনের গল্প, সত্যিকারের গল্প কিন্তুক এইডা –বানাইনা কোন কিছু মনে কইরেন না কইল। এইবার আসি ঈশপের গল্পের মোরালে, ডিগ্রী পড়াকালীন সময়ে ধুন্ধুমার বড়লোক দুই চাইরটা বন্ধু জুটছে কইত্থেকে জানি, কপালের ফেরে, হেরা তহন থাকত আমি যেই মহল্লায় বাস করি সেই একই মহল্লায়। চায়ের দোকানে পরিচয়, তার থাইক্কা বন্ধুত্ব।

শালারা এক এক দিন এক এক স্টাইলের জামা পইড়া আহে, আর আমগো তহন মাত্র ৩সেট জামা, একটা ধুইয়া পড়ি, আরেকটা শুকাইতে দেই, একটা হইল হাতের পাঁচ। হেরা দেহি দুই তিন মাস পর পর নতুন মডেলের হুন্ডা লইয়া ঘুরে, আবার ছয় মাস পর পর গাড়ির মডেল চেঞ্জ করে। আমি দেহি আর বেক্কল হইয়া যাই। ঘটনাডা কি? এইগুলানের বাবা-মা তো সাধারণ ঘরের, জাতি বড়লোক-তো একটার বাবা-মাও না। তয় কেমবাই এত্ত টেহা হইল? একদিন জিগাইলাম কিরে তরার ঘটনা কি ক দেহি, সাতরাজার ধন পাইছস নি কোনো? উত্তর শুইন্না বেক্কল হইয়া গেলাম।

হেরা হেই বয়স থাইক্কাই শুরু করছে চোরাকারবারি ব্যবসা। পুঁজি ছাড়া ব্যবসা - খালি ধরা খাইলে পুলিশের বাঁশ-ডলা খাইতে হইব। আমারে প্রস্তাব দিল তুই বেটা এত্ত কষ্ট কইরা পড়াশুনা করতাছস কেন, তর কি লাভ হইব? পড়াশুনা শেষ কইরা হেই তো কোনোহানে কেরানীর চাকরিতে ঢুইক্কা চাকরগিরি শুরু করবি। আমাগো লাইনে চইল্লা আয়। তরে তিন মাসে হুন্ডার নিশ্চয়তা আর এক বছরে গাড়ির নিশ্চয়তা দিতাছি।

আমি শুইনা খাবি খাইতে লাগলাম। ঈশপ বাবাজীর গল্পের কতা মনে হইয়া গেল। কইলাম দোস্তরা তোরা আমার বন্ধু হইছস ভালা কতা তয় আইজ থাইকা তোগো লগে সম্পর্ক শেষ, আমারে আর বন্ধু মনে না করলে খুশি হইয়াম। তগো লগে পুলিশের বাড়ি খাইলে আমার হাড্ডি-গুড্ডি সব গুড়া হইয়া যাইব। তরা থাক তোগো মত আমারে আমার মত থাকবার দে।

তরার লোহার জাহাজের গায়ে আমার কাঠের ডিঙ্গি নৌকা ভিড়ানোর কোন খায়েশ নাই। অনেক বাকবিতন্ডা হইল তবু শেষপর্যন্ত আমি এরার লগে বন্ধুত্বের ইতি ঘটাইলাম। তিন মাস পরের ঘটনা – বেবাকগুলা খাইল ধরা, সোনা চোরাচালানীতে, বিচার হইল যথারীতি। কোর্টে প্রমাণিত হইল তাগো কুকর্ম। পাঁচ বছরের জেলের ঘানি টানতাছে এক এক জন।

ধর্মের কল আসলেও বাতাসে নড়ে। হায়রে আমার সবল টেকাওয়ালা প্রতিবেশী বন্ধু – তর থাইক্কা দূরে ছিলাম বইলা বাইচ্চা গেছি। লোভে পাপ, পাপে জেল, জেলে পুলিশের রোলারের ডলা। জীবনডা ছেড়াবেড়া। অসৎ উপায়ে অর্জিত টেকাপয়সার গুষ্টি মারি - দরকার নাই বাবা এমুন বড়লোক হওয়ার।

কষ্ট করলে কোন না কোন সময় কেষ্ট মিলব – আমি এই মতে বিশ্বাসী। অনেক কষ্ট করছি জীবনে, জানামতে সৎ থাকার চেষ্টা করছি সবসময়। তার বিনিময়ে যে সম্মান আজো পাইতাছি তার কোন মূল্য হয় না। আমি বিশ্বাস করি – “কাজ তা যতই ছোটই হোক না কেন; নিষ্ঠার সাথে করে গেলে একদিন তার সুফল মিলবেই। “ ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১১ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।