আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমরা কি খাচ্ছি-৬

তারাঁদের ইসকুলে আমি এক লবন চাষীর ছেলে,ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ! সে আমার মা... বাজারে ভেজাল ফার্মফ্রেশ দুধ আকিজের বশির ও আগোরার নিয়াজকে আদালতে তলব ঢাকা: ঈদ ও রমজান সামনে রেখে বাজার ছেয়ে ফেলেছে আকিজের ভেজাল ফার্মফ্রেশ পাস্তুরিত তরল দুধ। দফায় দফায় রাসয়নিক পরীক্ষায় এ দুধে ভেজাল ধরা পড়েছে। আদালতে মামলা হয়েছে কিন্তু দুধটির বাজারজাতকরণ বন্ধ রাখেনি আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। আর এতে সহায়তা করে যাচ্ছে রহিম আফরোজ কোম্পানির সিস্টার কনসার্ন আগোরা। আকিজের প্রধান শেখ বশিরউদ্দীন আহমেদকে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারী এবং আগোরার প্রধান নিয়াজ রহিমকে ভেজাল খাদ্য বিক্রয়ের অপরাধে দায়ী করেছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।

এ অপরাধে এ দুজনকে আগামী ২৮ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ওই দিনই এ মামলার রায় দেওয়া হবে। কিন্তু এ অবস্থায়ও ভেজাল দুধ বাজারজাত করা বন্ধ রাখেনি আকিজ। আগোরার আউটলেটগুলোতে এবং অলিতে গলিতে দোকান-পাটে হরদম বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকর ফার্মফ্রেশ। আদালত সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২৫ আগস্টা বেলা ১২টায় ৬৯ মগবাজারের আগোরা সুপার শপ থেকে আকিজ কোম্পানির ফার্মফ্রেশ ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত তরল দুধ আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নমুনা সংগ্রহকারী কুটি মিয়া।

তিনি আগোরার স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ ওয়াসিমের কাছ থেকে এ নমুনা সংগ্রহ করেন। কুটি মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ওই দুধ যথাযথব্যবস্থায় সংগ্রহ করে বেলা দেড়টার মধ্যে ডিসিসির জণস্বাস্থ্য পরীক্ষণাগারে রাসয়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রাসয়নিক পরীক্ষার পর ডিসিসির পাবলিক অ্যানালিস্ট গোলাম সারোয়ার ৩১ আগস্ট ২০১০ তারিখে ডিসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মর্কতার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তিনি ওই প্রতিবেদনে বিশুদ্ধ খাদ্য বিধি ১৯৬৭ অনুযায়ী পরীক্ষিত দুধে ভেজাল বলে রিপোর্ট দেন। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান শেখ বশিরউদ্দীনকে এক নম্বর আসামি ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়াজ রহিমকে দুই নম্বর আসামি করে বিশুদ্ধ খাদ্য আইন ১৯৫৯ (সংশোধিত ২০০৫) এর এর ৬ এর (১) ও (৭) ধারায় মামলা করেন ডিসিসির ফুড অ্যান্ড স্যানিটেশন ইন্সপেক্টর ফখরেউদ্দীর মোবারক।

বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে দায়ের করা এ মামলার পাবলিক প্রসিকিউটরও তিনি। আদালতে দায়ের করা প্রসিকিউসনে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত আসামিরা বিশুদ্ধ খাদ্য আইনে ৪৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। পাবলিক অ্যানালিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিক্ষীত দুধে আপেক্ষিক গুরুত্ব ১০২৮ - ১০৩২ এর স্থলে পাওয়া গেছে ১০৩০। দুগ্ধ চর্বি যেখানে থাকার কথা সর্বনিন্ম ৫ ভাগ সেখানে তা আছে মাত্র ২.৫ ভাগ। দুগ্ধচর্বি বিহীন দুগ্ধজাত কঠিন বস্তু থাকার কথা কমপক্ষে ৮.৫ ভাগ, অথচ আছে ২.২ ভাগ।

এতে বিশুদ্ধ খাদ্য বিধিমালা ১৯৬৭ মতে পরিক্ষীত পণ্যটি ভেজাল হিসেবে উৎপাদিত হয়েছে এবং বাজারজাত হয়েছে। মামলার পর আসামি প্রতিষ্ঠান আকিজ আদালতে ফ্রেশ দুধ সংগ্রহ করে তা পুনঃপরীক্ষার আবেদন জানায়। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেন এ শর্তে যে আসামি পক্ষ এর সব ব্যয়বহন করবে। ২০১১ সালের ৪ মে এ নির্দেশ দেন খাদ্য আদালত। ১৫ মে ২০১১ সালে নমুনা সংগ্রহে নামেন আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) ও সহ-ব্যবস্থাপক।

তার সঙ্গে ছিলেন, ডিসিসির নমুনা সংগ্রহকারী কুটি মিয়া এবং ফুড এন্ড স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ফখরুদ্দীন মোবারক। তারা ২৩৯ বড় মগবাজারের চিত্রাঙ্গন জেনারেল স্টোর থেকে ফার্মফ্রেশ পাস্তুরিত তরল দুধের নমুনা সংগ্রহ করেন। তবে সূত্র জানায়, নমুনা সংগ্রহ বিঘ্নিত করতে ওই দিন পুরো রমনা এলাকায় ফার্মফ্রেশ সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। সংগৃহীত দুধ আবারও যথাযথ ব্যবস্থায় জমা দেওয়া হয় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে। আদালত তা পুনঃপরীক্ষার জন্য পাঠান ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ডেইরি সায়েন্সের প্রধান প্রফেসর ড. হারুনুর রশীদের কাছে।

এ পরীক্ষায়ও ফার্মফ্রেশ দুধটি ভেজাল প্রমানিত হয়। এরপরও আকিজ কোম্পানি আবারো পরীক্ষার আবেদন জানালে আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। আগামী ২৮ আগাস্ট এ মামলার রায় ঘোষিত হবে। মামলা সংশ্লিষ্টরা বলেন, আদালতের রায়ে ফার্মফ্রেশ ভেজাল তা নিশ্চিত হবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এতকিছুর পরেও আকিজ ও আগোরা ফার্মফ্রেশ বাজারজাত করা অব্যাহত রেখেছে।

ভেজাল দুধ খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরাসহ অনেকেই। আদালতে গচ্ছিত ফার্মফ্রেশের প্যাকেটে দেখা যায়, ব্যাচ নম্বর আছে, উৎপাদনের তারিখ আছে, কিন্তু নেই মেয়াদাত্তীর্নের তারিখ। প্যাকেটের জোড়ার নিচে লেখা আছে উৎপাদনের ৭দিনের মধ্যে ব্যবহার করা উত্তম। কিন্তু কথাটি এমন জায়গা লেখা আছে কোন গ্রহাকেরই নজরে আসবে না। বাংলাদেশ সময় ০৯২৪ ঘণ্টা, জুলাই ২৩, ২০১২ আরএম/এমএমকে View this link ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।