আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমার হুমায়ুন

ও কারিগর, দয়ার সাগর, ওগো দয়াময় চান্নি পসর রাইতে যেন আমার মরণ হয়। বৃহস্পতিবার রাত কি চান্নি পসর ছিল? “খান এন্ড ব্রাদাস কোম্পানির মালিক খান সাহেব আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তাকে যথেষ্ট বিরক্ত মনে হল। তিনি নন্দিত নরকে উপন্যাসের প্রুফ আমার দিকে এগিয়ে বললেন, বই ছোট হয়েছে বড় করতে হবে। আমি বললাম, আমার গল্পতো এতটুকু।

খান সাহেব বললেন উপন্যাস ফর্মা হিসাবে লিখতে হয়। ফর্মা বুঝেন তো? ষোল পৃষ্ঠায় এক ফর্মা। আপনি একটা উপন্যাস লিখলেন তিন ফর্মা নয় পৃষ্ঠা। বাকী সাত পৃষ্ঠায় আমি কি করব? কাগজ কলম নিয়ে বসেন। এখানেই ঠিক করেন।

আমি বললাম, কোন জায়গাটা বড় করব বুঝতে পারছি না। খান সাহেব বললেন একটা কোর্ট সিন নিয়ে আসেন। উকিল মন্টুকে জেরা করছে এই রকম। এই হুমায়ুন সাহেবকে কাগজ আর কলম দে। আমি ফর্মা মিলানোর জন্য খান সাহেবে সামনেই উপন্যাস বড় করতে শুরু করলাম।

উত্তেজনায় শরীর কাপঁছে। তাহলে সত্যি সত্যি আমার বই বের হচ্ছে?” হুমায়ুনের লেখায় এই হল তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের পিছনের গল্প। যেমন তিনি বলপয়েন্ট এ বলেছেন। নন্দিত নরকে সেই তো হুমায়ুনের শুরু। অবশ্য তার প্রথম লেখা উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার।

নন্দিত নরকে পড়ে চোখ ছলছল করেনি এমন পাঠক কি আছে? “আমি তার কাছেই দাড়িয়ে আছি। নীল রঙের চাদরে ঢাকা রাবেয়ার শরীর নিস্পন্দ পড়ে আছে। একটা মাছি রাবেয়ার নাকের কাছে ভনভন করছে। রাবেয়া হঠ্যাৎ করে বলে উঠল, পলাকে তো দেখছি না। ও খোকা, পলা কোথায় রে? আমাদের চারিদকে উদ্গি্ন্ন হয়ে পলাকে খুঁজল সে।

আর কি আশ্চর্য বেলা ন’টায় চুপচাপ মরে গেল রাবেয়া। তখন চারিদিকে শীতের ভোরের কি ঝকঝকে আলো। ” কি আশ্চর্য বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১ টার দিকে চুপচাপ মরে গেলেন আমাদের হুমায়ুন। মাত্র 64 বছর বয়সে। এ কি বিশ্বাস করা যায়? নন্দিত নরকে তিনি আবার লিখতে চেয়েছিলেন।

মন্টুকে তিনি এবছর আবার স্মরন করেছিলেন। 3রা জানুয়ারী। প্রথম আলো পত্রিকায় লিখলেন – “আমার জীবনের প্রথম উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরকে। সেই উপন্যাসের একটি চরিত্র মন্টু তার বোন রাবেয়ার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে একটি খুন করে। জজ সাহেব তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

অসহায় পরিবারটির কিছুই করার থাকে না। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আশায় বুক বাঁধে। রাষ্ট্রপতি ক্ষমাভিক্ষা দেন না। মন্টুর ফাঁসি হয়ে যায়। উপন্যাসের রাষ্ট্রপতি নির্মম, কিন্তু বাস্তবের রাষ্ট্রপতিরা মমতা ও করুণায় আর্দ্র।

তাঁরা ভয়াবহ খুনিকে ক্ষমা করে দেন। শুধু ফাঁসির হাত থেকে বাঁচা না, মুক্তি। এখন গলায় ফুলের মালা ঝুলিয়ে ট্রাক মিছিল করে বাড়ি ফিরতেও বাধা নেই। নিহত ব্যক্তির স্ত্রী রাষ্ট্রের কাছে দুটি প্রশ্ন করেছেন: ১. প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর পিতার হত্যার বিচার চাইতে পারেন, আমার পিতৃহারা সন্তানেরা কেন বিচার চাইতে পারবে না? ২. রাষ্ট্রপতির স্ত্রী আইভি রহমানের হত্যাকারীদের যদি ফাঁসির আদেশ হয়, তিনি কি তাদের ক্ষমা করবেন? নিহতের বিধবা স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মতোই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর অবশ্যই রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার অধিকার আছে।

আমিও এই দুই প্রশ্নের উত্তর শোনার জন্য অপেক্ষা করছি। প্রশ্নের উত্তর শোনার পরপরই নন্দিত নরকে উপন্যাসটি নতুন করে লিখব। ” – হুমায়ুনের সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া হয়নি। জাতীয় প্রয়োজনে আমরা আর তার দু/ দশ লাইনে বলে ফেলা আমাদের অসম্ভব মনের কথা আর দেখতে পাব না। নন্দিত নরকে আবার নুতন করে লিখে যেতেও পারলেন না।

তিনি চলে গেছেন। পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছেন। আর ফিরবেন না। আর কোনদিন ফিরবেন না। আদালতের ভিতরে প্রিয়তমেষুর উকিলের মত ধর্ষনের কেস কেউ লড়তে গিয়ে এমন সাহসী উক্তি আর কোন পাতায় পড়া হবে না - “হয়তবা আমি বলতে পারি কেস উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

যদি সেদিন সে তা উঠিয়ে না নিত তাহলে আজ এই মেয়েটি ধর্ষিত হত না। মাননীয় আদালতের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি আমরা কি তৃতীয় একটি মেয়েকে ধর্ষিতা হবার ক্ষেত্র প্রস্তুত রাখব নাকি রাখব না। আমার বক্তব্য এই পর্যন্তই। ” গতকাল তার অবস্থার অবনতির কথা পত্রিকায় পড়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম “ফিরে আসতেই হবে..। ” কৃষ্ঞপক্ষের অরুও মুহিবকে ফিরাতে চেয়েছিল - “অরু দু’হাতে মুহিবের ডান হাত ধরে আছে।

সে খুব স্পষ্ট করে ডাকল, ‘ এই তুমি তাকাও। তোমাকে তাকাতেই হবে। আমি সব কিছুর বিনিময়ে তোমাকে চেয়েছিলাম। তোমাকে পেয়েছি, আমি তোমাকে চলে যেতে দেব না। তোমাকে তাকাতেই হবে।

তাকাতেই হবে। ” মুহিব তাকায় নি। আমাদের হুমায়ুনও তাকালেন না। তার এক ভক্তের কথায় সাড়া দিলেন না। ভক্তদের দিকে আর কখনো তাকাবেন না।

আমরা আর তাকে কখনোই একুশের বইমেলায় দেখব না। দেখব না অটোগ্রাফ শিকারীদের সেই দীর্ঘ লাইন। ইশ! আজ রোববার নাটকের সুজা খন্দকারের মত হুমায়ুন যদি কফিন থেকে বেরিয়ে বলত ” আমি কি মারা গেছি?”। সুজা খন্দকার মানে সাদেক আলী চলে গেছেন। চলে গেছেন হুমায়ুন ফরিদীও।

সেই হুমায়ুনের নাটকের মাষ্টার। যে বানরের অঙ্ক কষতে চেয়েছিল বাশ বেয়ে উপরে উঠে। আমরা সে সব অদ্ভুদ কান্ডকারখানা দেখে হেসেই চলেছি। কতশত বার যে হেসেছি হাবল্ঙগার বাজারে ” বিবাহ করব না, লোজ্জা লাগে” শুনে। পৃথিবীতে তৃতীয় বিশ্বের একটা গরীবদেশের মানুষদের কত সহজেই না জীবনের সকল দুঃখ ভুলিয়ে হাসিয়ে চলেছেন যুগের পর যুগ।

“মারের মধ্যে ভাইটামিন আছে”, “সৈয়দ বংশের পোলা, চুরি করতে পারি রিকশা চালাইতে পারব না”, “দিলাম ঘুটা”, “তুই রাজাকার” “চুন্নি”, “মোবারোক”, “কাদের”, “মামা” কত শতই না চরিত্র। শুধু কি হেসেছি সব সময় হুমায়ুন দেখে? এই সব দিন রাত্রির “টুনি”, কোথাও কেউ নেই এর “বাকের ভাই” কিম্বা আগুনের পরশমনি সিনেমার শেষ দৃশ্য। আগুনের পরশমনির মত মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে এমন ছবি কি আর আছে? আগুনের পরশমনি উপন্যাসের শেষ দৃশ্যে বদিউল আলম বাচঁতে চেয়েছিল – “মাত্র পাচঁ মিনিট গিয়েছে। সময় কি থেমে গেছে? কে একজন ছিল না যে সময়কে থামিয়ে দিয়েছিল? কি নাম যেন? মহাবীর থর? না অন্য কেউ? সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আবার সাদেকের মুখটা ভাসছে।

মৃত মানুষদের কথা এখন আমি ভাবতেই চাই না। কিছুতেই না। আমি ভাবতে চাই জীবিত মানুষদের কথা। মার কথা ভাবতে চাই। বোনের কথা ভাবতে চাই এবং এই মেয়েটির কথাও ভাবতে চাই।

রাত্রি। কি অদ্ভুত না। ” হুমায়ুন কি বাচঁতে চেয়েছিলেন? কিছুদিন আগেও তিনি তার প্রিয় স্বদেশ ঘুরে গেলেন। আট মাস পরে ফিরে কি আনন্দের বহিঃপ্রকাশ না দেখালেন। প্রচন্ডভাবে বাচঁতে চেয়েছিলেন তিনি।

তার প্রিয় নুহাশ পল্লীতে আর ফেরা হবে না। নুহাশ পল্লীর ভৌতিক কান্ডকারখানা আর জানা হবে না। হয়ত পল্লীর ভুতগুলোরও মৃত্যূ ঘটবে। নান্দাইলের ইউনুসের দেখা পাওয়া যাবে না। চোখের আসাদুজ্জামান নূর চোখ তোলার অপেক্ষায় থাকবে না।

খাদকের সেই আস্ত গরুর খাওয়ার চ্যালেন্জ! ‘দেবী’র মত আর কোন ভৌতিক গল্পের দেখা আমরা পাব না। যখন গিয়েছে ডুবে পন্চমীর চাদঁ!!! পাব না মিসির আলীকে। মিসির আলী আর লজিক দেখাবেন না। “মিসির আলী বললেন আমি যদি আপনাকে ভয় পাই, তা হলে লজিক বলছে- আপনিও আমাকে ভয় পাচ্ছেন? হ্যা লজিক অবশ্যি তাই বলে। হ্যা মিসির আলী সাহেব, আমি আপনাকে ভয় পাচ্ছি।

মিসির আলী সিড়ির গোড়ায় কাটাঁতারের গেটে হাত দিলেন এবং মনে মনে বললেন তোমার কোন অস্তিত্ব নেই। You do not exist. তিনি আবারও তাকালেন। বারান্দায় কেউ নেই। ফাকাঁ বারান্দায় সুন্দর জোছনা হয়েছে। ” পুনর্জন্ম থাকলে মিসির আলী হয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন হুমায়ুন।

আমাদের হুমায়ুনের নারী চরিত্রগুলো মিসির আলীকে আর বিরক্ত করবেন না। “হিমু” – আর খালি পায়ে পথে হাটবে না। আহ! হিমু। এও কি ভাবা যায়। হিমু আর হাটছে না ঢাকা শহরের রাস্তায়।

জোসনা দেখতে বাদলকে নিয়ে জঙ্গলে ছুটে চলছে না। শতাব্দী স্টোর থেকে রূপার কাছে আর কোন ফোন যাবে না। মাজেদা খালা। খালু। হাসপাতালে শুয়ে হুমায়ুন কি হিমুর মতই চিন্তা করত? “জনদরদি দেশনেতা হিমু সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল সন্ধায় তাকে দেখতে যান। কিছুক্ষন তার শয্যাপাশে থেকে তার আশু আরোগ্য কামনা করেন। মন্ত্রী পরিষদের কয়েকজন সদস্যও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বনমন্ত্রী, তেল ও জ্বালানী মন্ত্রী, ত্রান উপমন্ত্রী। হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানাচ্ছেন – হিমু সাহেবের শারীরিক অবস্থা এখন ভালো।

হিমু সাহেবের ভক্তদের চাপে হসাপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালা কতৃপক্ষ তাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছেন, তারা যেন হিমু সাহেবকে বিরক্ত না করেন। হিমু সাহেবের দরকার পরিপূর্ণ বিশ্রাম। তার শরীরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বুলেটিন প্রতিদিন দুপুর বারোটায় প্রকাশ করা হবে। ” হুমায়ুন নেতা ছিলেন না।

ছিলেন না অভিনেতা। শুধু লেখনী শক্তির জোরে বাংলাদেশের আপামর জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের নামীদামী লেখকরা ভেবে কূল কিনারা করতে পারতেন না কিসের জোরে হুমায়ুনের বইয়ের প্রথম মূদ্রন হয় ত্রিশ হাজার কপি। এক সপ্তাহের মধ্যে সে মূদ্রন শেষ হয়ে ত্রয়োদশ, চতুর্দশ মুদ্রনে পৌছায়। বিশতম মূদ্রনো ঘটেছে।

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তার বিচারে তিনি শ্রেষ্ঠ বিনা প্রতিদ্বিন্দীতায়। ছোট গল্পের হুমায়ুন, ছোটদের হুমায়ুন ( এখনও চোখে ভাসছে হুমায়ুনের পুতুল), , সাইন্স ফিকশনের হুমায়ুন, এলেবেলের হুমায়ুন, আমার ছেলেবেলার হুমায়ুন। হায়! জোছনা জননীর গল্পের মত মুক্তিযুদ্ধের এমন রোমান্চকর উপন্যাস আর লেখা হবে না। লেখা হবে না “মধ্যাণ্য”, “বাদশা নামদার”। কিম্বা তার শেষ প্রচেষ্টা “দেয়াল”।

“অশ্রু গোপন করবার জন্য সে দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল, শুধু জ্যোতিষার্ণিব কেন তুই নিজেও যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাস আমার তাতে কিছুই যাবে আসবে না। আমি ঠিক উঠে দাড়াব। ” অন্যদিনে সফিক উঠে দাড়াতে চেয়েছিল। হুমায়ুন আর কোনদিন উঠে দাড়াবেন না। একথা ভাবতেও পারছি না।

64 বছর এমন কি বয়স চলে যাবার। কত কিছু দেবার বাকী ছিল। কিছুই তো দিলেন না আমাদের। হুমায়ুনের কাছে কখনো যেতে পারি নি। খুব ইচ্ছা ছিল তার একবার সানিধ্য পাবার।

সাজঘরে উপন্যাসের পুষ্পের মত তার পা স্পর্শ করবার। “পুষ্প তার হাত থেকে নোটবুক নিয়ে দ্রুত কি সব লিখে নোটবুক ফেরত দিল। চোখের কালো চশমা খুলে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাল আসিফের দিকে, তারপর সবাইকে হতভম্ব করে নিচু হয়ে তার পা স্পর্শ করল। পরমূর্হতেই এগিয়ে গেল সামনে। মানুষের ভীড় বড়ই বাড়ছে।

” আমি যদি কিছু লিখতে শিখেছি তবে বলব হুমায়ুন আমাকে লিখতে শিখিয়েছে। যদি সাহিত্যর কোন ভাল কিছু পড়তে পেরেছি তবে বলব হুমায়ুন আমাকে পড়তে শিখিয়েছে। হুমায়ূন না পড়লে আমি কোনদিনই বাংলা সাহিত্যর কঠিন কঠিন লেখাগুলো পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতাম না। সমূদ্রের গভীরে যেতে সাহায্যকারী আমাদের সবারই হুমায়ূন। “পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

অনেকের পায়ের শব্দ। নোমান কি আসছে? সে যদি আসে তাহলে তাকে একটা কথা বলে যেতে চাই। কথাগুলো বলার মত শক্তি আমার থাকবে তো? আমি বলব, এই দেখ আমি মরে যাচ্ছি। যে মানুষ মরে যাচ্ছে তার উপর কোন রাগ ঘেন্না থাকা উচিৎ নয়। ” নবনীর শেষ কথাগুলো কি মনে আছে হুমায়ুনের।

আমাদের এই মানুষটির প্রতি কোন রাগ, ঘৃণা কিছুই আর নেই সেকি হুমায়ুন না ফেরার দেশ থেকে তার হাজার হাজার সমালোচনাকারীর আক্ষেপ থেকে, অশ্রু বাষ্প দেখে বুঝতে পারছে। আমার প্রথম স্কুলে যাবার দিন টিচার খাতায় নাম তুলবে বলে জিজ্ঞাসা করল বড় আপা কে তোমার ছোট ভাইয়ের নাম কি? হুমায়ুনের অন্ধ ভক্ত বড় আপা বললো, : হুমায়ুন কবির। :কিন্তু ফরমে তো দেখতে পাচ্ছি আশরাফুল কবির। ধরা পড়ে আমার বড় আপা সেদিন আমার পিতৃপদত্ত নাম পরিবর্তন করতে পারে নি। এরকম অসংখ্য পাগলামী আছে ভক্তদের হুমায়ুনকে ঘিরে।

কতজনই না হলুদ পান্জাবি গায়ে হিমু হতে চেয়েছে। কতজনই না মিসির আলী হতে চেয়েছে। কত জন না শুভ্রকে পাওয়ার বাসনায় নির্ঘুমরাত্রি যাপন করেছে? আমার নাম সংক্রান্ত গল্পটা আজ জানতে পারলাম। হুমায়ুন যখন চলে গেছে দূরে। বহু দূরে।

আমার নাম হুমায়ুন কবির হলে কি এমন ক্ষতি হত? তাতে কি হুমায়ুনের চলে যাওয়া ঠেকাতে পারতাম!! এ অনন্ত চরাচরে স্বর্গমর্ত ছেয়ে সব চেয়ে পুরাতন কথা , সব চেয়ে গভীর ক্রন্দন — ‘ যেতে নাহি দিব। হায় , তবু যেতে দিতে হয় , তবু চলে যায় । ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.