আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিশিকে বললাম তোমার জন্য একটা বদনা গিফট এনেছি

ভাবনার জালে বন্ধী,তুমি-আমি পাশের বাসার কুদ্দুস আর আমি ছোটবেলা থেকেই একজন আরেকজনের প্রাণপ্রিয় শত্রুপক্ষ। আমি যা কিছুই করিনা কেনো সে সেখানে বাগড়া দেবেই। আর আমাকে ডিঙ্গিয়ে তাকে হিরো হতেই হবে। আমাদের বাসার বাথরুমের ছিটকিনি ভাঙ্গা ছিল। তাই আমরা সবাই বাথরুমে গেলে গান গাইতাম যাতে অন্যরা সতর্ক থাকে, হুট করে আতিথ্য গ্রহণ না করে।

এতে আমার সুবিধা হল, আমার গানের গলা নিয়মিত রেওয়াজে উন্নতি লাভ করল। বন্ধুমহলে নব্য গায়ক হিসেবে আমার সুনাম দিনদিন বেড়ে যাচ্ছিল। কুদ্দুসের আমার এই প্রতিভার বিকাশ সহ্য হয়নি। সেও আমার মত গায়ক হবার লোভে তাদের বাড়ির বাথরুমের ছিটকিনি ভাঙ্গলো এবং তার বাবার হাতে এই অপরাধে বেধড়ক মার খেলো। তবুও সে খুশি হল, যাক এইবার তার সঙ্গীতের প্রতিভার বিকাশ আর কেউ আটকাতে পারবেনা।

কিন্তু হায়! তার বাবা আমার বাবার মত মহান কিপটা নন। তাই তার সঙ্গীতচর্চার অপমৃত্য সেখানেই হল। তাদের বাথরুমের ছিটকিনি ওইদিনই ঠিক করা হল। আরে বাবা, তোর বাবার কি সলিমুল্লাহ সাহেবের মত বিশাল কিপটা মন আছে? সলিমুল্লাহ সাহেব আমার পিতার নাম। যাইহোক, সেদিন থেকে আমি বুঝেছি কুদ্দুস আমাকে কখনো ক্লিন ব্যাম্বু দিবেনা।

তার ব্যাম্বুতে অনেক শাখা-প্রশাখা থাকবে। তবুও কুদ্দুসকেই আমি ভালোবাসি। মানে বিপদে তার কাছেই ছুটে যাই। কিছুদিন আগে আমার গার্লফ্রেন্ড নিশি আমাকে ছাগল বলেছিল। এরপর আমি যখন রহিমদের খোঁয়াড়ে ঢুকে ছাগলচোর হিসেবে খেতাব পেয়ে যাচ্ছিলাম, কুদ্দুস আমাকে উদ্ধার করে।

সে সবাইকে জানিয়ে দেয়, আমার দৌড় মুরগী চুরি পর্যন্ত। ছাগল চুরি আমার দ্বারা হবেনা। তাই আমাকে মুরগী চোর ডাকা হোক। এরপর থেকে বন্ধুমহলে আমি মুরগীচোর হিসেবে খেতাব পেলাম। তবু বাঁচলাম।

ছাগল চোরের চেয়ে মুরগীচোর নামটা সুন্দর। মীনা কার্টূনের মুরগী চোরটার কথা মনে পড়ে। আমার ছোটবেলায় ফেবারিট ছিল। নিশি এই নাম শুনে রাগ করেছিল। আমি পাত্তা দেইনাই।

মেয়ে মানুষতো, আমার জনপ্রিয়তায় জেলাস ফিল করছে। কই কুদ্দুস রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে কেউ ডাক দেয়? আমাকে তিনমাইল দূর থেকে দেখলেও বন্ধুরা মুরগীচোর বলে ডেকে উঠে। নিশি আমাকে গতকাল একটা টাই গিফট করেছিল। টাই গিফট পেয়ে মনে অনেক কষ্ট পেয়েছি। সে আমাকে গলায় দড়ি পরাতে চায়! আমি কি গরু-ছাগল? আমি প্রথমে বুঝিনাই।

খুশি-মনে নিছিলাম। পরে কুদ্দুসকে দেখানোর পর, কুদ্দুস গম্ভীর হয়ে যেতেই আমি শঙ্কিত হয়ে পড়ি। কুদ্দুস বলে, -নিশি এটা তোকে দিছে? -হ্যা। সুন্দর না? - এই জন্যই তোরে আমরা বলদ কই। আইজক্যা নিশি সেটার চূড়ান্ত রুপায়ন করতাছে।

-মানে? -মানে বুঝিস নাই? নিশি তোকে বলদ ভাবে। তাই মজা করে গলায় দড়ি বাঁধতে চায়। সরাসরি দড়ি দিলে তুই কষ্ট বেশি পাবি। তাই টাই দিছে। -কস কি! এখন কি করব? -তুই এটা আমাকে দিয়ে যা।

আমি কাউকে গরু বানাব, এটা দিয়ে। আর তুই এক কাজ কর। নিশিকে তুই একটা বদনা গিফট কর। -বদনা? নিশি রাগ করবে। এইটা কি বলিস! বদনা কিভাবে গিফট করা যায়? -দেখ বদনা না থাকলে, তুই ইয়ে করার পর কি করতি? কিছুই করতে পারতিনা।

এখানে বদনা প্রতীকি। সে যেমন তোকে প্রতীকী দড়ি হিসেবে টাই দিছে। তুই তাকে প্রতীকী ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে বদনা দে। -বুঝাইয়া ক। কিছুই বুঝতাছিনা।

-দেখ, বদনা ছাড়া আমরা অসহায়। তেমনি নিশি ছাড়া তুই অসহায়। এটা একটা প্রতীকী গিফট। এর মাধ্যমে নিশিকে ছাড়া তোর অসহায়ত্ব প্রমান হবে। সে তোকে নিয়ে মজা করতে পারে, কিন্তু তুই তাকে সুন্দর এই গিফট দিয়ে বুঝিয়ে দে তোর ভালোবাসার গভীরতার কথা।

কুদ্দুসের কথা শুনে মনটা ভালো হয়ে গেল। কুদ্দুসের কাছ থেকে পাওয়া সব লাঞ্ছনা ক্ষমা করে দিলাম। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে মনটা আনচান আনচান করছে। এক নিশির সাথে দেখা হবে। টঙ্গী চেরাগ আলী থেকে সবচাইতে দামি একটা প্লাস্টিকের বদনা কিনে নিলাম।

দাম নিল, ৫৮০ টাকা। র‍্যাপিং পেপারে মুড়ে নিলাম। নিশির সাথে দেখা করার জন্য নর্থ টাওয়ারে গেলাম। গিয়ে দেখি নিশি বসে আছে। - কি খবর জান্টুস? নিশির মুখে জান্টুস শব্দ শুনে মনটা উদাস হয়ে গেল।

ইচ্ছে করল, নিশিকে এখুনি বিয়ে করে হনলুলু থেকে হানিমুন সেরে আসি। -ভাল আছি। তুমি কেমন আছোগো জান? -ভাল। হাতে এটা কি? -বদনা -মানে? -তোমার জন্য একটা বদনা গিফট এনেছি। -ভাল।

এই বুদ্ধি তোমাকে কে দিয়েছে? -কুদ্দুস (মুখ ফসকে বলে ফেললাম! কুদ্দুস বারবার মানা করছে, তার নাম না কইতে। এতে নাকি নিশির ভালবাসা কুদ্দুসের জন্যও জাগতে পারে। এখন কি করি!) -হুম। আচ্ছা, আমার একটু কাজ আছে। আমি আজকে যাই।

আর তোমার গিফটা অনেক সুন্দর হইছে। চেয়ার থেকে উঠে এসে নিশি আমাকে একটা চুমু খেলো। আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। নিশিটা কি দুষ্ট! নিশি চলে যাচ্ছে। আমি চেয়ারে বসে নিশির চলে যাওয়া দেখছি।

মনটা উদাস উদাস হয়ে গেলো। গতবার আমি নিশিকে এক প্যাকেট ক্যাডবেরি গিফট করেছিলাম। নিশি অনেক খুশি হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম, চল, দুজনে মিলে খাই। নিশি আরো অনেক খুশি হয়েছিল।

আজো চলে যাওয়া নিশিকে ছুটে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে, "চল, বদনাটা দিয়ে দুজনে মিলে................"  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।