আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিশি, আমার বউ হবে ?

আমার চোখে ঠোটে গালে তুমি লেগে আছো !! অপু তুমি আসবে তো আজ ? আমার মন বলছে তুমি আসবে আজ ? নিশি কাকে প্রশ্নটা করলো ও নিজেই জানে না । হয়তো আপন মনেই বলল কথাটা । তবে নিশির মনে হচ্ছে আজ ও আসবে । এমনটা মনে হবার অবশ্য কারনও আছে । নিশির সেই পরিচিত অনুভুতিটা ফিরে এসেছে ।

সকাল থেকেই এমনটা হচ্ছে । বারবারই মনের ভিতর সেই চিরো চেনা অনুভূতিটা ওর মনকে ছুয়ে যাচ্ছে । আর বলছে আজকে সে আসবে আজকে সে আসবে ! নিশি এই অনুভূতিটার সাথে খুব ভাল করে পরিচিত । অপুর সাথে যতবার দেখা হয় ঠিক তার কিছুক্ষন আগে থেকেই ওর এই অনুভূতিটা শুরু হয় । আগে মনে হত হয়তো এমনিতেই এমনটা হয় কিন্তু ও পরীক্ষা করে প্রমান পেয়েছে এমনটা সত্যিই হয় ।

অপু কাছাকাছি আসলেই নিশির এই অনুভূতিটা শুরু হয় । অথবা কিছুক্ষনের মধ্যে দেখা হবে এমনটা হলেও এই অনুভূতিটা এসে হাজির হয় । কিন্তু আজকে বোধহয় নিশির এই অনুভূতিটার কোন মানে নেই । অপু কিভাবে আসবে ? নিশি এখন ওর গ্রামের বাসায় । ঢাকা থেকে কতটা দুরে ।

অপু কিভাবে আসবে ? তবুও একবার খোজ নেবার জন্য মোবাইলটা হাতে নিল । নো নেটওয়ার্ক । এখানকার এই এক সমস্যা । মোবাইলে নেটওয়ার্ক একদম থাকে না । কথা বলতে গেলে বাজারের কাছাকাছি যেতে হয় ।

নিশির বাড়ির বাইরে যেতে একদম ইচ্ছা করে না । নিশির অনুভূতিটা সেই সকাল বেলা শুরু হয়েছে । আর এখন প্রায় দুপুর । অপু আসলে এতোক্ষনে চলে আসতো । ও হয়তো আসবে না ।

তবুও নিশির অনুভূতিটা লেগেই রইল । নিশি আলমারি থেকে নীল রংয়ের শাড়ীটা বের করল । শাড়ীটা পরবে কিনা ঠিক বুঝতে পারল না । অপু যদি চলেই আসে তাহলে এই শাড়ীতে ও দেখে নিশ্চই খুব খুশি হবে । অপু খুশি হবে ! এ কথা মনে হতে নিশির মন এমনিতেই ভাল হয়ে গেল ।

খুব যত্ন করে ও শাড়িটা পরতে শুরু করল । কয়দিন থেকেই বন্ধু মহলে গুঞ্জন চলছে যে অপু নিলিকে প্রপোজ করবে । আরে প্রেমের প্রপোজ না । বিয়ের জন্য প্রপোজ । ওরা দুজন সেই কবে থেকে একসাথে ।

নিশির থেকে দুই বছরের সিনিয়ার অপু । নিশির অনার্স শেষ হতে না হতেই অপুর চাকরি হয়ে গেল । এখন কেবল ঘর সাজানোর পালা । কিন্তু নিশি একটা মেয়ে হয়ে কিভাবে বলে ! বিয়ের কথাটাতো অপুরই বলা উচিত্‍ । চাকরির প্রথম বেতন দিয়ে অপু নিশিকে নিল শাড়ি কিনে দিল ।

বলল -আগামী শুক্রবার বিকেলবেলা তুমি এই শাড়ীটা পরে বড় পুকুর পাড়ে আসবে । তোমার সাথে জরুরী কথা আছে । -কিন্তু আমিতো শাড়ী পরতে পারি না । -এই জন্য তো সাত আগে বললাম । এই সাত দিন ধরে চেষ্টা করবে ।

তাহলে হয়ে যাবে । নিশির মনে মনে খুব খুশি হল । যদিও ও খানিকটা চিন্তিত যে ঠিক মত শাড়ি পরতে পারবে তো । আর খুশি হল অপুর এরকম সিনেমাটিক মন মানষিকতা দেখে । প্রথম যেদিন অপু নিশিকে প্রপোজ করে তার সে কি প্রস্তুতি ।

নিশি অবশ্য আগেই বুঝতে পেরেছিল যে অপু ওকে পছন্দ করে । আর অপুকেও অপছন্দ হবার কোন কারন ছিল না । ঠিক যেদিন ভালবাসি বলবে তার আগের দিন অপু নিশির কাছে ফোন দিয়ে বলল -তোমার কি কোন সাদা রংয়ের সেলোয়ার কামিজ আছে । নিশি খানিকটা অবাক হয়েছিল । সিনিয়র একটা ভাইয়ার কাছ থেকে এমন একটা প্রশ্ন খানিকটা অন্য রকম শোনালো ।

তবুও বলল -আছে ভাইয়া । কেন বলুন তো ? -কালকে ঐ ড্রেসটা পরে হলগেটের পুকুর পাড়ে আসবে প্লিজ । বিকাল পাঁচ । -কিন্তু .. নিশি কিছু বলতে গেল । কিন্তু অপু ওকে খুব করে রিকোয়েস্ট করাতে ও রাজি হয়ে গেল ।

পরদিন পুকুর পাড়ে পৌছাল যথা সময়ে । অন্যদিন এখানে লোকজন থাকে কিন্তু আজ কেমন জানি ফাঁকা মনে হল নিশির কাছে । ঠিক পাঁচটার সময় অপু এসে হাজির । নিশি যেমন ধবধবে সাদা সেলোয়ার কামিজ পরেছে অপুও পরেছে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবী । সাদা পাঞ্জাবী সত্যি অপুকে কেমন যেন দেব দূতের মত লাগছিল ।

অপুর হাতে ছিল একতোড়া টকটকে লাল গোলাম । ওর সামনে এসে হাটু গেড়ে বসে অপু লাল গোলাপ গুলো নিশির দিকে বলল -আমার এ হৃদয়টা আমি তোমার হাতে তুলে দিলাম । তুমি গ্রহন করবে কি ? তারপর কোথা থেকে এক গাদা গোলাপের পাপড়ি উড়ে এল ওদের দিকে ! আর কোথায় যেন বেহালার সুর বেজে উঠল । সব অপুর প্লান । এতোটাই ফিল্মী এই ছেলেটা ।

নিশির মনে হল এবারও ঠিক ঐ রকম কিছু করবে । এই জন্য ও এই নীল শাড়িটা ওকে কিনে দিয়েছে । পুরো সপ্তাহ জুড়ে নিশি নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে কেবল শাড়ী পরা শিখলো । নির্দিষ্ট দিনে নিশি নির্দিষ্ট জায়গায় হাজির হয়ে গেল । সময় পার হয়ে গেল কিন্তু অপু এল না ।

ফোন করতে গেল কিন্তু ফোন বন্ধ । অপুর ফোন অবশ্য আগের দিন রাত থেকেই বন্ধ ছিল । নিশি ভেবেছিল অপু নিশ্চই স্পেশাল কিছু প্লান করছে তাই ফোন বন্ধ রেখেছে । ঐ দিন হলে এসে ওর কেবল বুক ফেটে কান্না আসছিল । বারবার কেবল এই কথাটাই মনে হচ্ছিল অপু এমনটা কেন করল ? কেন ? অপুর উপর খুব অভিমান হল ।

পরদিনই নিশি ঢাকা ছেড়ে সোজা গ্রামের বাড়ি । নিশি নীল শাড়িটা পরে পুকুর পাড়ে বসে আছে চুপচাপ । ওর সেই অনুভূতিটা আরো তীব্র আকার ধারন করেছে । নিশির মন বলছে অপু চলে এসেছে । এ কথা ভাবতেই পেছন থেকে ওর ছোট বোনটা ডাক দিল ওকে ।

দৌড়াতে দৌড়াতে ওর কাছে এসে বলল -আপু তোমার এক বন্ধু এসেছে ঢাকা থেকে । তোমাকে ডাকছে । নিশি মধ্যে যে একটা চাপ ছিল সেই চাপটা হালকা হয়ে গেল । সেখানে জড় হতে লাগল চাপা অভিমান । সেদিনের সেই জমা হওয়া অভিমান টুকু যেন ফুলে ফেঁপে আরো বড় হতে লাগল ।

বোনকে বলল -আমি যাবো না । যার ইচ্ছা হয় নিজে এসে আমার সাথে দেখা করুক । ওর ছোট বোনটা চলে গেল । অপুকে নিয়ে এল কিছুক্ষন পরেই । অপুকে দেখে নিশির বুকের ভিতরটা কেমন লাফিয়ে উঠল ।

কতদিন পর অপুকে দেখল ! ইচ্ছা করল এখনই অপুকে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে । কিন্তু নিজের ইচ্ছাটা দমন করল ও । অপু ওর সামনে এসে বলল -এ অধম তোমার ক্ষমা প্রার্থী । নিশি কোন কথা বলল না । মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে বসল ।

অপু আবার ওর মুখের দিকে ঘুরে এসে বলল -একবার আমাকে কি বলার সুযোগ তো দাও । যদি ঐদিন না আসার কারন গুলো তোমার কাছে মনপূত না হয় তুমি যা বলবে আমি তাই করবো । নিশি বলল -আচ্ছা বল কি তোমার কারন ? -তোমার পাশে বসে বলি ? -না যেখানে আছো যেভাবে আছো ওভাবেই বল । -আচ্ছা । দিপুকে তো চেন ? -তোমার ছোট ভাই ? -ঐ দিনটার আগের দিন ওর এপিন্ডিক্স বাষ্ট হয়ে গিয়েছিল ।

বিশ্বাস কর এই খবরটা শোনার পর আমি একটা মিনিটও স্থির থাকতে পারি নি । সোজা চলে গিয়েছিলাম বাসায় । আর এতোই উত্তেজিত ছিলাম যে কথন যে মোবাইল ফোনটা কেউ পকেট থেকে তুলে নিয়েছিল আমি টেরই পাই নি । ওকে নিতে এতোদিন কেবল দৌড়াদৌড়িই করেছি । বিশ্বাস আমি যে কি পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম তোমাকে বোঝাতে পারবো না ।

কেবল এই জন্য আমি আসতে পারি নি । কি আমার থেকে .... নিজেল মনের মধ্যে কথা বলতে গিয়েও নিশি থেমে গেল । ছিঃ ছিঃ কি বাজে একটা কম্পারিজনের কথা বলতে গিয়েছিল । ফ্যামিলি সব সময় অফ লিমিট ! ফ্যামিলির সাথে কখনও কারো তূলনা চলে না । নিশি এবার খানিকটা অভিমানের সুরে বলল -আমি ঐ দিন অনেকক্ষন ওয়েট করে ছিলাম ।

-আমি জানি বেবি ! অপু আর দেরি করল না । নিশিকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরল । কিছুক্ষন পর অপু বলল -আরে তুমিতো আজ নীল শাড়ীটাই পরেছ । দাড়াও এই বলে অপু নিজের পকেট থেকে একটা রিং বের করল । -এটা আমি ঐ দিন থেকেই পকেটে নিয়ে ঘুরছি ।

তারপর নিশির সামনে প্রপোজের স্টাইলে একহাটু নিচ করে বসল । তারপর রিংটা নিশির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল -নিশি আমার বউ হবে ? ফেবু লিংক ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।