আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ফারাক্কার ফাটলের কারণে বাংলাদেশে বেশি পানি গেছে, এই ক্ষতি পূরণে বাংলাদেশের ১৭ কোটি ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণ একদিনের হিসি ভারতকে উৎসর্গ করা হলো

সামুতে অর্থহীন অশুদ্ধ বাংলা ও বাংলিশ শব্দ পরিহার করি গতকাল বুধবার বিকেলে দিল্লির ৭ নম্বর রেসকোর্স সড়কে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর সঙ্গে বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতে মনমোহন সিংয়ের কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জির রাজ্য সরকারের অবস্থা অনেকটা একটি দেশের ‘সরকারি’ এবং ‘বিরোধী’ দলের মতো হয়েছে! সাম্প্রতিক ভারতের জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বেশিরভাগে ক্ষেত্রে মনমোহন যে বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বলছেন, মমতা ব্যানার্জি অবধারিতভাবেই তাতে ‘না’ বলেছেন! বিস্ময়করভাবে প্রতিবারই শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার হার মেনেছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এক রাজ্য সরকারের কাছে। মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে আরেকবার ‘তালগাছ’ জিতে নিলেন মমতা ব্যানার্জি। বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা পানি বন্টন থেকে শুরু করে ভারতে বহু কাঙ্খিত লোকপাল বিল, দেশীয় খুচরা বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ, ভারি শিল্পের জন্য জমি বরাদ্দ নীতি ইত্যাদি অনেক বিষয়ে দিল্লির সিদ্ধান্তকে ফাইলবন্দি অবস্থাতেই রাখতে বাধ্য করেছেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে জানতে চান, ফারাক্কা বাঁধের স্লুইসগেটে ফাটলের কারণে বাংলাদেশে অতিরিক্ত পানি চলে গেছে।

এতে পশ্চিমবঙ্গে পানীয়জলের সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত এবং নৌচলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজ্যের এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে? বৈঠক শেষে মমতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনমোহন সিং আমাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে অবহেলার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ’সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, ‘অবহেলা হয়েছে কি না, আমি জানি না। তবে আমি এখন কী করব? খাওয়ার পানি যদি না থাকে, বিদ্যুৎ যদি না থাকে, তবে আমি কী করব! ফারাক্কার কারণে আমরা ধুকছি।

বাংলাদেশ-ভারত বৃহত্তর বন্ধুত্বের স্বার্থে আমরা এই সংকট মেনে নিয়েছি। যা হয়েছে তার ক্ষতি কে পুষিয়ে দেবে?’ অথচ এই ফারাক্কার কারণে আমাদের শষ্য শ্যামলা সোনার বাংলা যে সুস্ক মরুভূমি হতে চলেছে তার জন্য তিনি আদৌ চিন্তিত নন। ফারাক্কার স্লুইসগেটে ফাটল প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গঙ্গা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী শুকনো মৌসুমে ৩৩ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। বাকিটা থাকবে ভারতে। ‘জুনে ক্ষমতায় আসার পর আমরা জানতে পারি, ফারাক্কা বাঁধের স্লুইসগেটে ফাটল ধরেছে।

স্লুইসগেটে ফাটলের কারণে বেশি পানি চলে যাচ্ছে বাংলাদেশে। যেহেতু ফারাক্কা প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকারের, তাই বাঁধে ফাটল ধরেছে জানার পরপরই জুনে বিষয়টি দিল্লির নজরে আনি। অথচ আট মাস পেরোলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ফারাক্কা বাঁধ কর্তৃপক্ষ। ’ তিনি বলেন, ‘গেটে এমনভাবে ফাটল ধরেছে, তাতে ৮৮ শতাংশ পানিই চলে গেছে বাংলাদেশে। এ কারণে হুগলি সেতুর কাছে বার্জ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এনটিপিসির জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বন্ধ হতে বসেছে। ভাগিরথি ও হলদি নদী শুকিয়ে গেছে। আমাদের পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। যেকোনো সময়ে যেকোনো বিপর্যয় ঘটতে পারে। রাজ্যের নৌ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তাদের পক্ষে ভাগিরথি থেকে নৌযান চলাচল করাটা সম্ভব নয়।

পানীয় জলের সংকট, বিদ্যুতের সংকট—সব সমস্যা একসঙ্গে শুরু হবে। ’ আসুন বন্ধুপ্রতিম এই দেশকে পানীয় জলের সংকট, নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে বাংলাদেশের ১৭ কোটি ভাতৃপ্রতিম জনগণ একদিন ভারতের (মমতার) উদ্দ্যেশে হিসি করি! যাতে তাদের পানি সমস্যার সমাধান হয়।  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.