আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাসের ক্যাচাল

ব্লগার না পাঠক হওয়ার চেষ্টায় আছি ক্যাচাল আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংগ হয়ে দাড়িয়েছে। ক্যাচাল শুধু ব্লগেই ঘটে না। মাঠে-ঘাটে, অফিস-আদালতে সব জায়গায়ই ক্যাচাল। বাসের মধ্যে ঘটা এমনি দুটি ক্যাচালময় কাহিনী দেওয়া হল। ঘটনা ১: বাসে যাতায়াত করা কি যন্ত্রনার সেটা বাসে ভ্রমণ করা লোক মাত্রই জানেন।

সেদিন ক্লাস শেষ করে বাসে উঠে বাদুড়ের মত ঝুলতে ঝুলতে বাসায় আসছিলাম। বাসে উঠার সময়ই দেখেছিলাম মহিলা সিটে দুইজন ছেলে বসে আছে। যাই হোক, পরের স্টপিজে তিনজন মহিলা বাসে উঠলেন। যেই ঘটনা হওয়ার কথা ছিল অবধারিতভাবে তাই ঘটল। একজন মহিলা সিট ছেড়ে উনাদের উঠতে বললেন।

উনারা বললেন উনারা কিছুতেই সিট ছেড়ে উঠবেন না। কারণ, উনারা সিটে আগে বসেছেন। তাছারা, দেশে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার। মেয়েদের জন্য আলাদা কোন সিটের দরকার নাই। শুরু হয়ে গেল ঝগড়া।

ঝগড়া শুধু উনাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বলতে গেলে পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ল ঝগড়া। পুরো বাস দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে দু-একজন ছাড়া বেশিরভাগই ওই ছেলেদের পক্ষ নিলেন । চিল্লাচিল্লি আর শোরগোল এতটাই চরমে গিয়ে পৌছল যে, ড্রাইভার বাস থামিয়ে বাস এক-সাইডে দাড় করিয়ে রাখলেন।

ব্যাস। এবার পুরো বাস এক হয়ে গেল। সবাই মিলে ড্রাইভারের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলেন। যারা এতক্ষণ চুপ ছিলেন তারাও অশ্লীল ভাষায় চিল্লাচিল্লি শুরু করলেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল যে দুইজনের জন্য এত ঝগড়া উনাদের মধ্যে একজন নিজের সিট ছেড়ে ড্রাইভারের কলার ধরে মারতে গেলেন।

উনার সিট ছাড়া দেখে অন্য ভাইয়াটাও সিট ছেড়ে উঠে দাড়ালেন। বাস স্টার্ট নিল। এবার আর মহিলা সিটে ভাইয়ারা বসলেন না। মনে হল পুরো ঘটনার জন্য নিজেরাই আংশিক লজ্জা পেলেন। পেছনের দিক থেকে একজন লোক বললেন- দেশটার যে কি হবে! ঘটনা ২: কয়েকদিন আগের ঘটনা।

বাসে করে বাসায় আসছিলাম। আমার সামনের সিটে এক ভাইয়া বসে ছিলেন। হঠাত করে একটি মেয়ে বাসে উঠল। বাসে কোন সিট ছিল না। ভাইয়া উনার সিট ছেড়ে দিলেন।

মেয়েটি ভাইয়াকে অনেক ধন্যবাদ জানালেন। উনাদের কথোপকথন শুরু হল। বেশ জোড়েই উনারা কথা বলছিলেন। কথোপকথনের মাঝে ভাইয়া আপুকে উনার মোবাইল নম্বর দিলেন। কথাক্রমে বুঝলাম আফামণি সাইফুরসে ভর্তি হবেন।

ভাইয়ার মনে হয় সাইফুরসে পরিচিত কেউ ছিল। কাউকে ফোন করে এমন চিল্লায়ে চিল্লায়ে কথা বলছিলেন যেন তিনি মাইকে ভাষন দিচ্ছেন। ফোন রাখার পর তিনি জানালেন যে সাইফুরসে ভর্তি কোন সমস্যাই না। নামমাত্র টাকাতেই তিনি আফামণিকে ভর্তি করিয়ে দিবেন। ঘটনা শুইনা আফামণি মনে হইল যার পর নাই খুশি হইলেন।

তাহারা হিন্দি ছবির বিভিন্ন নায়ক-নায়িকা নিয়ে উচ্চ স্বরে আলোচনে করছিলেন। উনারা মনে হয় ভুইলা গেছিলেন উনারা বাসে। এর মাঝে আমার একবার মনে হইল আমিও ওই ভাইজানকে বলি আমার লাইগা সাইফুরসে আইএলটিএসের একটা ব্যবস্থা করতে। ফাউ একটা কোর্স করতে পারলে অসুবিধা কি!! যখনই বলতে যাব তখনই দেখি পাশের এক আঙ্কেল অত্যন্ত উত্তেজিত ভাষায় কথা বলা শুরু করলেন। কেন ভাইয়া আর আফা বাসের মধ্যে চিল্লাচ্ছিলেন এটার জন্য উনি ব্যফুক রাগান্বিত হইলেন।

বেশ কিছুক্ষণ ঝাড়ি মারলেন তিনি। ভাইয়া আর আফামণি উভয়েই সব ঝাড়ি নিরবে সহ্য করলেন। ক্যাচাল লাগল তখনই যখন আঙ্কেল বললেন ওই মেয়ের বাপ-মা কেন এইরকম ফালতু মেয়ের জন্ম দিয়েছেন। আফামনি তখন কানতে শুরু করলেন আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কি জানি বলতে লাগলেন। উনার কান্না দেইখা ওই ভাইয়াও চিল্লাচিল্লি শুরু করলেন।

চিল্লাচিল্লি পুরো বাস-ময় ছড়িয়ে পড়ল। এবারে বাসের পেছনের অংশ সমান দুইভাগে বিভক্ত হল। এক ভাগ আঙ্কেলের পক্ষে আরেক ভাগ ভাইয়া আর আফামনির পক্ষে। বিরাট ক্যাচালে কার কি লাভ হল সেটা না বুঝলেও কন্টাকটারের যে লস হইছে এই ব্যাপারে কুনু সন্দেহ নাই। মাঝে তিনি যখন একবার ভাড়া নিতে আসছিলেন তখন তিনি হাতাহাতি দেখে আর ভাড়া চাওয়ার সাহস পান নাই।

পাঠকগণ মনে করতে পারেন ভাইয়ার সাথে আঙ্কেলের হাতাহাতি। আসলে তা না!! ভাইয়ার এক সাপোর্টারের সাথে আঙ্কেলের এক সাপোর্টারের হাতাহাতি! যাই হোক, আঙ্কেল পরের স্টেশনে পিছনের ভাড়া না দিয়েই দরজা দিয়ে নেমে গেলেন। তারপরের স্টেশনে ওইভাইয়া আর আফামণিও নেমে গেলেন! বাসের ক্যাচাল তাও থামে না। একপক্ষ বলতে লাগল এই যুগের পোলাপানরা সব বদ। আরেকপক্ষ বলতে লাগল ওরা বদ হইলে বাকিদের সমস্যা কি! যাই হোক, আমি নামার আগ পর্যন্ত এই ক্যাচাল চলছিল।

বাস থেকে নামার সময় দেখি হেল্পার আর কন্টাকটারের মন খারাপ। উনাদের কত ভাড়া লস হল কে জানে! ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।