আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিজেকে অনলাইনে নিরাপদ রাখুন, সর্বক্ষণ ।সক্রিয় থাকুন সামাজিক যোগাযোগে

উড়ে যাই, উড়ে যাই, উড়ে উড়ে যাই. . . আপনার নাম, আপনার সব তথ্য প্রচার, বিলি বা সার্বক্ষনিক ব্যবহার করছে অন্য কেউ। বিশাল সাইবার জগতে চারদিকে বিস্তৃত আপনার তথ্য। অথচ আপনি তো পাবলিক প্রপার্টি বানাতে চান নি! তারপরও! হ্যাঁ, সময় যতোই যাচ্ছে অনলাইনে তথ্য রাখা ও নিজের অনলাইন লাইফস্টাইল নিরাপত্তা নিয়ে যুক্ত হচ্ছে নানা শংকা। জীবনের চলায় খাওয়া, পড়া, ঘুম, চিন্তা, ভ্রমণ সবকিছুতে আপনাকে জড়িয়ে আছে অনলাইন, ক্রমেই তা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপি বড় বড় প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এমনকি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য হ্যাকিংয়ের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

বেশ কিছু ক্ষেত্রে লাখ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি হয়েছে, হচ্ছে, আরো অনেক হবেও হয়তো। অনলাইনে দিন যাপনের হৃদ্যতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের স্পর্শকাতর, ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদে রাখার বিষয়টাই আরো বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু সে দিকটি বিবেচনা করে ব্যক্তিগত তথ্যসহ নিজের পরিপূর্ণ প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হচ্ছে অনলাইন বা ইন্টারনেট থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন থাকা। কিন্তু যেহেতু দিনের স্বাভাবিক কার্যসূচির মতোই অনলাইনকে ঘিরে নানা কাজ বাড়ছে, ইন্টারনেট থেকে প্রস্থান ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। ইন্টারনেট শপিং ও গেমসের বাইরেও নিজের আইডি বা লাইসেন্স নবায়ন, ফোন বা ক্রেডিট কার্ডের বিল প্রদান, ব্যাংকের একাউন্ট চেক করা, অর্থ লেনদেন, ক্রেতার সাথে যোগাযোগ, বিপণনসহ এমন অনেক কিছুই আছে যেগুলো ইন্টারনেটে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ বিশাল ক্ষেত্র এখন নানা সন্দেহ, অবিশ্বাসের দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছে। সাইবার জগতে নিজের নানা কাজ খুঁজে নিতে তৈরী হচ্ছে নিত্যনতুন করা-না করা এমন দ্বন্ধ। আপনি নিজের প্রিয় মুভি, নাটক বা অভিনেত্রী, অভিনেতার নাম তালিকা করছেন বা আপনি নিজের লোকেশন চিহ্নিত করে দিচ্ছেন-ফেসবুকে এমনটা আপনি সাইন করার পরই আনমনে করে নিয়েছেন। কিন্তু আপনার হয়তো জানা হবে না--আপনার এসব তথ্য নিয়েই নতুন ভাইরাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন শুরু হয়ে গেছে। আপনি ঐসব তথ্য দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেসব বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা ধরনের বিজ্ঞাপনের জন্য হয়তো নিজের বা নিজের বন্ধুদের হয়েই সাইন ইন করে রাখলেন।

ফেসবুক এগুলোর সাথে সম্পর্কিত। সামাজিক যোগাযোগ জগতের রাজা এই ফেসবুক প্রাইভেসি এডভোকেসি গ্রুপগুলোর জন্য একটি তথ্যভান্ডার। এগুলো নিয়েও চলে অনেক কর্ম। ওয়েবসাইটগুলো নিজেরাই গ্রাহকের তথ্য বিভিণ্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল অংকের অর্থ নিয়ে বিক্রি করে দেয়। গ্রাহকের রুচি, শিক্ষা, চাহিদা, ইচ্ছা, সম্পর্ক, অবস্থান এসব বিষয় নিয়ে বিপণন গবেষনা, পণ্য বাজারজাতকরণ এগুলো অনেক আগে থেকেই চলে আসছে।

এখন সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো এসব তথ্যের জন্য অনেক বেশি নির্ভরশীল বলে প্রমাণিত হচ্ছে। সে কারণে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যে, আপনি নিজের প্রয়োজন ও গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য ঠিক করে নেবেন। যারা নেটে সম্ভাব্য পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না তাকে অন্তত কয়েকবার ভাবা উচিত আদৌ তিনি সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহার করবেন কিনা। ব্যক্তিগত সব ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নিজের ব্যক্তিগত আইডি, আর্থিক বিষয়ের তথ্য সব সময় অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে রাখা উচিত ---যতটুকু সম্ভব। সিকিউর ইউর ওয়েব ব্রাউজার: যেকোন সাইট ভিজিট করার আগে আপনি ইন্টারনেট এক্সপ্রোরার, ফায়ারফক্স বা ক্রোমে ও অন্য ব্রাউজারে গিয়ে অসংখ্য প্রাইভেসি সেটিংস নিজেই ঠিক করে নিতে পারেন আপনার নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী।

সেটিংসের প্রেফারেন্সগুলো বুঝে নিজের সাচ্ছন্দ্য বোধ করার উপযোগী অবস্থায় সেটা সেট করে নিতে হবে। স্টে প্রডেন্ট ডিউরিং রেজিস্ট্রেশন: যেকোন সাইটে নিজের ইমেইল দিয়ে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে বললে সেখানে কিছু টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস থাকবে। আপনার নিজের কোনো কিছুতে আপত্তি বা অস্বস্তি থাকলে সেটাকে ভালো করে দেখে পড়ে নেয়া উচিত। আপনি হয়তো রেজি করে ফেলবেন যেটা আপনি আদৌ চাননি, যেমন নিয়মিত তাদের নানা বিষয়ের নিউজলেটার, ইমেইল এমনকি আপনার সব ধরনের তথ্য অন্য কোন তৃতীয় পক্ষের সাথে শেয়ার করার বিষয়েও আপনি সেখানে একমত হয়ে গেলেন। এখানে যদি দেখা যায় এ ধরনের কোনো টার্মস অব কন্ডিশনসই কোনো সাইটে প্রয়োজন পড়ে না, সে ধরনের সাইটে না যাওয়া ও দূরে থাকাই সবচেয়ে ভালো।

বিকল্প ইমেইল রাখুন: অনেকে বিভিন্ন পাবলিক সাইটে রেজিস্ট্রেশন, ব্রাউজ বা তথ্য জানা , নেয়ার জন্য আলাদা একটি ই-মেইল ব্যবহার করেন, যে ইমেইলের তথ্য অন্যরা ইচ্ছে করলে সেখান থেকে পেতে পারে। সেটার সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ইমেইলটি পৃথক। অনাকাঙ্খিত ইমেইল ও নোটিফিকেশন কমাতে এটা একটা উপায় হতে পারে। তবে, অনেক সময় সেই মেইলটি দেখাশুনার জন্যও সময় বাড়তি ব্যয় করার দরকার হবে। পাসওয়ার্ড কে নিরাপদ রাখুন : পরিচিত শব্দ, নিজের নাম, ক্লাস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত শব্দ, হোম টাউন এ ধরনের সাধারণ শব্দ দিয়ে পাসওয়ার্ড সেট ানা করে একটু দীর্ঘ পাসওয়ার্ড সেট করুন।

সেখানে নাম্বার, শব্দ, আপার, লোয়ার কেস একসাথে এডজাস্ট করতে পারেন। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোনো সাইটে না ব্যবহার করাই ভালো্ আপনি হয়তো দিনে অনেক সাইটে যাবেন, যেখানে রেজিস্টার করতে বলবে, নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন, রেজিস্টার করে তথ্য জানবেন, নাকি রেজিস্টার না করেও তথ্য পাওয়া সম্ভব। হলে রেজিস্টার করার চিন্তা করবেন না। পাসওয়ার্ড মনে রাখতে বেশি সমস্যা মন হলে প্রয়োজনে একটা লিস্ট বানাতে পারেন, রাখতে হবে নিরাপদে। নিজের সামাজিক যোগাযোগের সাইটে নজর রাখুন: প্রায় সব সামাজিক যোগাযোগের সাইটে প্রাইভেসি সেটিংস অপশন থাকে যেখানে নিজের সাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী আপনার তথ্যগুলো শেয়ার করার মাত্রা নির্ধারণ করে রাখতে পারবেন।

কোনো সাইটের ডিফল্ট বা সাধারণ সেটিংসই যে নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করবে তেমনটা নয়। এছাড়া আপনি নিজে যখন নতুন কোনো তথ্য, ছবি বা শেয়ারিং বিষয় বা আপনার প্রোফাইলে যুক্ত করছেন সেটা সেই সামাজিক যোগাযোগের সাইট কোম্পানি বা অন্যরা তাদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারেন। এটাও মনে রাখতে হবে। ওয়াইফাই সংযোগ ব্যবহারে সতর্কতা : আপনি যখন পাবলিক বা ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হবেন তখন নিজের অতি ব্যক্তিগত যেমন অর্থ লেনদেন, সরকারি কাজ এ ধরনের বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের কাজ পরিহার করবেন। এমনকি আপনি যদি শুধু ব্রাউজও করেন, নিরাপদ ব্রাউজার ইউজ করার চেষ্টা করবেন।

ফেসবুক, টুইটারের মতো সাইটগুলো নিরাপদ নেটওয়ার্কে বা এইচটিটিপিতে ব্রাউজ সাপোর্ট করে, তবে সেটা নিজের একাউন্ট সেটিংসে আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে। ভাইরাস ও ম্যালওয়ার প্রতিরোধ : যেকোন ধরনের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে নিজের সাইবার জগত নিরাপদ রাখার জন্য সর্বশেষ বিভিন্ন প্রটেকশন সফটওয়্যার ইনস্টল করে রাখুন। নতুন ধরনের ভাইরাস ও ম্যালওয়ার প্রতিনিয়ত আসছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই আপনার সব তথ্য ট্র্যাক করতে পারে, অনলাইন চলাফেরার তথ্যও পেয়ে যায় এমনকি আপনার কম্পিউটারের সব তথ্য একসেস করার জন্যও এসব সাইবার আক্রমণ অনেক সহজ। নিজের জন্য সব সময় আপডেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করাই শ্রেয়।

সাইবার ওয়ার্ল্ডের বিশাল ভুবনে সবার আগে দরকার তাই সব সময় নিরাপদে থাকুন অনলাইনে !... [রিডার্স ডাইজেস্টের সেপ্টেম্বর'২০১১ সংখ্যায় প্রকাশিত ব্লুমবার্গ এশিয়া'র প্রডিওসার এবং সাইবার এক্সপার্ট হংকংয়ের স্ট্যান ই এর ''সেফগার্ডিং ইউর সিক্রেটস অনলাইন'' অবলম্বনে]  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.