আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শখের মানুষ........

পাগলের মতো এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু পেলেই সংগ্রহ করেছেন। এভাবেই টানা ৬১ বছরের সাধনায় যশোরের শামসুল হুদা গড়ে তুলেছেন আজব এক সংগ্রহশালা। ১৯৫০ সাল। ছেলেটির বয়স সাত বছর।

পড়ে ক্লাস টুতে। মাত্রই শেষ হয়েছে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা। হাতে অফুরন্ত অবসর। খেলে, বেড়িয়েই কাটছে সময়। একদিন খেলার মাঠ থেকে ফিরে শোনে বাবা তার স্কুলের পুরনো বইগুলো বিক্রি করে দেবেন।

কথাটি শোনার পর খুবই মন খারাপ হলো তার। এত দিন ধরে পড়া বইগুলো বিক্রি করে দেওয়া হবে এ কেমন কথা। সঙ্গে সঙ্গে মায়ের কাছে দৌড়ে গেল সে। বলল, 'মা আমি বইগুলো বিক্রি করতে চাই না। এগুলো জমিয়ে রাখতে চাই।

' ছেলের অদ্ভুত আবদার শুনে কিছুটা অবাক হলেও রাজি হলেন মা। শিশুসুলভ এই খেয়ালেই আস্তে আস্তে নানা বিচিত্র জিনিস জমানোর অভ্যাস শুরু হলো। এক সময় এটি হয়ে গেল শামসুল হুদার নেশা। এই নেশার খেয়ালে যশোরের চৌগাছা থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত পাগলের মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। ঈদ এসেছে, সন্তানরা নতুন জামার জন্য আবদার করেছে।

তাদের আবদার পূরণ না করে বাবা বাড়িয়েছেন নিজের কালেকশন। দিন নেই, রাত নেই ঘুরেছেন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল। নতুন জিনিস খুঁজে খুঁজে সংগ্রহ করেছেন তিনি। ১৯৫৭ সালে ট্রেনে চেপে কলকাতায় গিয়ে সোসাইটি হলে থার্ড ক্লাসে সিনেমা দেখেছেন শুধু টিকিট সংগ্রহের জন্য। টার্গেট করে চুরি করেছেন শরৎচন্দ্রের মূল্যবান বই।

১৯৬৬ সালে ঈশ্বরদী রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম থেকে চারআনা দিয়ে কিনেছেন মিনি ডিকশনারি। এভাবেই তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন ৫০ থেকে ৬০ হাজারের বিশাল বিচিত্র সংগ্রহ। শামসুল হুদার যশোর সদর উপজেলার চৌগাছা রোডের বাড়ির ছয়টি কক্ষে পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। চালের ড্রাম, খাট, সোফা, টেবিলে পড়ে আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। মেঝেও ঢেকে দিয়েছে নানা সংগ্রহ।

কি নেই সেখানে_ব্রিটিশ আমলের ম্যাচের পোড়া কাঠি থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরের ঝিনুক পর্যন্ত! রয়েছে ক্ষুদ্রতম কোরআন শরিফ, ডিকশনারি, সোনার মোহর, লটারির টিকিট। এটিই শামসুল হুদা মিউজিয়াম। দীর্ঘ ৬১ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই জাদুঘরটি গড়ে তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক। তাঁর বয়স এখন ৬৭ বছর। এ বয়সেও সংগ্রহের নেশা তাড়িয়ে বেড়ায়।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পেলেই সংগ্রহ করেন। শোয়ার খাটটিতেও বিভিন্ন জিনিস সাজিয়ে রেখেছেন। এলাকায় তিনি 'শামসুল হুদা পিডিয়া' নামে পরিচিত। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষকরাও তাঁর কাছে ছুটে আসেন নানা প্রয়োজনে। বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তাঁদের সাহায্য করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সরকারি কার্যালয়ে তথ্য না পেলে সাংবাদিকরাও ছুটে যান তাঁর কাছে। কেন এসব সংগ্রহ করছেন জানতে চাইলে বললেন, 'আমি নিজের অনুপ্রেরণায় ও শখে এই সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছি। মানুষের জন্য, দেশের জন্য, জাতির জন্য আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জায়গার অভাবে মূল্যবান সংগ্রহ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেউ উদ্যোগী হলে এগুলো দিয়ে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

' সুত্র: কালের কন্ঠ  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।