আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ঐ বোনটিকে আমার স্যালূট

প্রিয় বোনটি আমার, তোমায় স্যালূট সমাজ বিরোধী বা প্রথাবিরোধী ক’জন হতে পারে। খুব বেশি জন পারে না, হাতে গোনা কয়েকজন পারে। প্রথাবিরোধীদের আবার বিভক্তও করা যায়; কেউ প্রথা বিরোধী হয় মিডিয়াতে স্থান করে নেওয়ার জন্য, কেউ আবার সত্য এবং ন্যায়ের জন্য। ভিকারুননিসার নির্যাতীত ঐ বোনটি দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতেই পড়ে। সামাজিকভাবে হেয় হবার ভয়ে অনেক মেয়েই হাজার পরিমলের নির্যাতন সয়ে যায় নিরবে।

কিন্তু আমাদের ঐ বোনটি সামাজিকতার ভয়কে জয় করে একজন পরিমলের বিকৃত রুচির সংবাদ জাতিকে জানিয়েছেন। এজন্য তিনি স্যালূট পাবারই যোগ্য। একজন মেয়ে যখন কারো দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হয় তখন পারিবারিকভাবেই মেয়েটিকে বিচার পার্থী হতে নিষেধ করা হয়। পরিবারটি ভয় করে, যদি পরে মেয়েটির বিয়েতে সমস্যা হয়, মানুষে যদি খারাপ কিছু বলে। মানুষে খারাপ বলেও; মানুষে বলে ‘ছিঃ মেয়েটির লজ্জা বলতে কিছু নেই, একটু গায়ে হাত দিয়েছে কি দেই নি তাতে বাড়াবাড়ির কি আছে!’ এখানে নাকি মেয়েটিরই লজ্জা থাকা উচিত, মেয়েটিই নাকি বাড়াবাড়ি করেছে! আমাদের সমাজ কত অসুস্থ, মেয়েদের প্রতি তাদের ধারণা দেখলেই বুঝতে পারা যায়।

এটা কোন সভ্যতা হতে পারে না যে, একজন মেয়ে অন্য একজন পুরুষ দ্বারা নির্যাতীত হবে আর মেয়েটিকে চুপচাপ সহ্য করার উপদেশ প্রদান করা হবে। কিন্তু এটাই ঘটছে আমাদের সমাজে। মেয়েরা বখাটে কর্তৃক নিপীড়িত হয় এবং পিতা-মাতা উল্টা মেয়েটিকেই দায়ী করে। নীপিড়ীত মেয়েটি যখন পিতা-মাতার দিক থেকেও বঞ্চনার শিকার হন, তখন সে নিজেকে পৃথিবীর ঘৃণিত প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে। এভাবে মেয়েটি আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে যায় অথবা তাকে আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে দেওয়া হয়।

অসুস্থ সমাজেও কেউ কেউ না কেউ সাহসী ভূমিকা পালন করা চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে ভিকারুননিসার মেয়েটি এবং তার পরিবার অন্যতম। তারা পরিমল জয়ধরের অপকর্ম নিরবে সহ্য করে নি। ভিকটিম মেয়ে এবং অভিভাবকরা যদি একটু সাহসী ভূমিকা পালন করতে পারে তাহলে পরিমল টাইপের শয়তানদের শয়তানী ধবংস করা সম্ভব। ব্যক্তি পরিমল জয়ধরের শয়তানী জাতির কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে; ভিকারুননিসার ঐ বোন এবং তার পরিবারের সাহসী ভূমিকার কারণে।

সাহসী ভূমিকার জন্য ঐ মিধাবী বোনটিকে আমার স্যালূট। পরিমল জয়ধর এবং তার সঙ্গীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ভিকারুননিসা নূন স্কুলে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে অনেক কথা পত্র- পত্রিকায় এসেছে। উপর মহলকে (কত উপর আল্লাহয় জানেন) কিছু বিনিময় দিয়েই নাকি এখানে লম্পট অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর সত্যতা উপর মহলের আর্ষীবাদপুষ্ট গোপালগঞ্জের ছেলে পরিমল জয়ধর। পরিমলের সাথে আরো কয়েকজন লম্পট শিক্ষক ঐ স্কুলে রয়েছে, অবশ্য ইতিমধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিতও করা গেছে।

প্রিন্সিপাল হোসনে আরা বেগমকেও দায়ি করেছে ছাত্রীরা। ভিকটিম ছাত্রীটি প্রথমে প্রিন্সিপালকে লিখিত অভিযোগই দিয়েছিল কিন্তু ম্যাডাম উল্টো মেয়েটিকেই চরিত্রহীন আখ্যা দেয়। কিন্তু কে চরিত্রহীন এখন তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো, পরিমল জয়ধরসহ দায়ি ব্যক্তিদের দৃষ্টামূলক শাস্তি দিয়ে শিক্ষাঙ্গনকে লম্পটমুক্ত করুন। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.