আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভিকারুননিসা নুন স্কুলেও ছাত্রলীগের কালো থাবা, ভিকিকে বাচান।

আমরা হেরে যাইনি। এশিয়া কাপ না জিতলেও তোমরা আমাদের হৃদয় জয় করেছ। আমরা গর্বিত চলতি বছর থেকেই ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিতে শতভাগ 'বোন কোটা' বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ফোরাম। তবে ভিকারুননিসা কর্তৃপক্ষ বলছে, তিন শতাংশ থেকে তিন গুণেরও বেশি বাড়িয়ে এ বছর 'বোন কোটা' ১০ শতাংশ করা হয়েছে। 'বোন কোটা' এর বেশি করা হলে কোমলমতি শিশুদের বঞ্চিত করা হবে।

এমন কথা মানতে নারাজ ভিকারুননিসার অভিভাবক ফোরাম। শতভাগ 'বোন কোটা' এ বছর থেকেই পূরণের দাবিতে গতকাল রোববার কয়েকশ' অভিভাবক ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের সঙ্গে তার কক্ষে গিয়ে দেখা করেন। জানা গেছে, তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের পরিচয়ে কিছু তরুণও ছিল। এ সময় অধ্যক্ষ তাদের জানান, 'বোন কোটা' এর বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়। এরপরই অভিভাবকদের একাংশ অধ্যক্ষকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করেন।

এমনকি দাবি পূরণ না হলে তার প্রাণনাশসহ স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমন ঘটনার পর গতকাল ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ রাজধানীর রমনা থানায় এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ ব্যাপারে অভিভাবক ফোরামের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য আজ ভিকারুননিসায় লটারি। 'বোন কোটা' নিয়ে অভিভাবক ফোরাম ও ভিকারুননিসা কর্তৃপক্ষ দৃশ্যত মুখোমুখি অবস্থানে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ মঞ্জুআরা বেগম সমকালকে জানান, একশ' ভাগ 'বোন কোটা' পূরণের দাবিতে অভিভাবক ফোরামের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুুর রহিম রানার নেতৃত্বে দেড় শতাধিক অভিভাবক গতকাল রোববার কলেজে প্রবেশ করেন। ৩০-৪০ জন অভিভাবক তার কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় তাকে গালমন্দ করেন। কোটা পূরণ না হলে তারা সব শিক্ষককে উচিত শিক্ষা দেওয়ার হুমকি দেন। বরখাস্তের হুমকি দেন। এমনকি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন।

অধ্যক্ষকে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিভাবক ফোরামের সভাপতি মোশাররফ হোসেন সমকালকে বলেন, একশ' শতাংশ 'বোন কোটা' পূরণের দাবিতে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে রোববার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আমাদের কথা আমলে নেননি। এরপর সেখানে উচ্চবাচ্য ও তর্ক-বিতর্ক হয়। এ ঘটনার পর অধ্যক্ষ থানায় জিডি করলে পুলিশ তাদের ডেকে নেয়। ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ জানান, গত বছর থেকে ভিকারুননিসার ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর লটারি হয়ে থাকে।

এতে যাদের নামে ওঠে, তাদের ভর্তি করা হয়। আগে 'বোন কোটা' তিন শতাংশ ছিল। অভিভাবকদের দাবির পর ওই কোটা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। এ বছর প্রথম শ্রেণীতে ১ হাজার ৮৪ জনকে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হবে। ভর্তির প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।

এতে এ বছর ৭৮১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যাদের বোন বর্তমানে ভিকারুননিসায় পড়ছে। অভিভাবকদের দাবি, এ বছর 'বোন কোটায়' লটারি ছাড়াই সেই ৭৮১ জনকেই ভর্তি করতে হবে। ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ আরও জানান, ৭৮১ জনকে 'বোন কোটায়' ভর্তি করা হলে সেটা হবে অন্যায় ও অনৈতিক। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী শূন্য আসন সাপেক্ষে সহোদরাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা আছে। তাই লটারিতে সহোদরাকে দু'বার সুযোগ দেওয়া হয়।

এর আগেও ভর্তি পরীক্ষার নম্বরে সহোদরাদের ৫ নম্বর 'গ্রেস' দেওয়া হতো। একশ' শতাংশ 'বোন কোটা' পূরণ হলে অন্যদের বঞ্চিত করা হবে। রমনা থানার ওসি শাহ আলম সমকালকে বলেন, ভিকারুননিসার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর অধ্যক্ষ থানায় জিডি করেন। অভিভাবকদের থানায় ডেকে বলা হয়েছে, ভর্তি নিয়ে সেখানে কোনো বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা যাবে না। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আজ (সোমবার) ভিকারুননিসায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

উৎসঃ সমকাল ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের মহাবিপদ  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.