আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভিকারুননিসা, আম্বিয়া আপা ও মৌলোবাদ

২০০৮ সাল ... । আমি তখন ভিকারুননিসায় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। আমরা কিছু বন্ধু মিলে ঠিক করলাম মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি আবেদনপত্র জমা দিব। আম্বিয়া আপা তখন আমাদের ক্লাস টিচার। আবেদনপত্র জমা দেয়ার কথা প্রিন্সিপাল আপার কাছে কিন্তু তারপর ও আমরা আম্বিয়া আপাকে পত্রটি দেখিয়ে নিব ঠিক করলাম।

দেখালামও । আপা রাজি হোলেন এবং খুব খুশি হোলেন । নিজেই আমাদের নিয়ে গেলেন প্রিন্সিপাল আপার কাছে ( তখন রোকেয়া আপা )। তারা আবেদনপত্র গ্রহণ করে রেখে দিতে পারতেন, বলতে পারতেন চেষ্ঠা করব। তা না করে ওখানেই আমাদের বলা হল তোমাদের অনুমতি দেয়া হল অনুষ্ঠান আয়োজনের, আমাদের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগীতা পাবে।

পেয়েছিও । অনেক রকম বাধা এসেছে, " ওরা ছোটো মানুষ কি বলতে কি বলে ফেলবে, পলিটিক্স নিয়ে আসবে " এ ধরনের কথাও শুনেছি। অথচ রোকেয়া আপা আম্বিয়া আপারা মোটামুটি যুদ্ধ করে আমাদের অনুমতি দিলেন। পরবর্তীতে আমাদের অনুষ্ঠান অনেক সফল হয়। আর আম্বিয়া আপা কি গর্বিতই না ছিলেন "আমার মেয়েরা এই অনুষ্ঠান করেছে"- কতবার আপার মুখে শুনেছি এই কথা.......................।

কোনোদিন আপার কাছে কোনো সাহায্য চেয়েছি কিন্তু পাইনি এইরকম ঘটনা মনে করতে গিয়ে মাথা নষ্ট করে ফেললাম কিন্তু মনে করতে পারলাম না। ২০০৮ এই আমার এক বন্দ্ধুর বিয়ে হোয়ে গেলো এবং ঘটনা জানাজানিও হোলো। ভিকারুননিসার নিয়ম কোনো বিবাহিত মেয়ে এই কলেজে পরবেনা। ওর T.C. হয়ে যেতো। একমাত্র আম্বিয়া আপার জন্য ও এই কলেজ থেকে HSC দিতে পেরেছিলো।

আপা আমিতো জানি আপনি কিভাবে একটি মেয়ের জীবণ বাঁচিয়েছিলেন। ২০১১ সাল। আমরা কলেজে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি ক্লাব খুলেছি। প্রথম কর্মশালা হোলো মূল শাখায়। আলী যাকের বক্তা।

কর্মশালাটা ছিলো স্কুলের এবং হচ্ছিলো স্কুল অডিটোরিয়ামে। আম্বিয়া আপার সাথে আমার এটা নিয়ে কথা হয় নাই। একবার আসতে বলার কথাও মাথায় আসে নাই। আসার কথা মন্জু আপা (ক্লাবের সমন্বয়ক) ও প্রিন্সিপালের ( হোসনে আরা) । ঐদিন কলেজেরও একটা অনুষ্ঠান ছিলো তাই আর প্রিন্সিপাল আসেন নাই।

আমি দেখলাম আম্বিয়া আপা আসলেন, ছোটোছোটো বাচ্চাদের সাথে বসলেন আর মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনলেন। আজকে শুনলাম আপা জামাত, মৌলবাদী । জানতাম না এসবই মৌলবাদের লক্ষণ...................। আপা জামাত আর সব নোংরা রাজনীতি-ব্যবসায়ীগুলা সব মুক্তিযোদ্ধা। আমরা সবাই জানি আপা কোনোদিনও প্রিন্সিপাল হতে চান নি।

ক্ষমতার লোভ আপার কোনোদিন ও ছিলোনা। দরকারও ছিলোনা। শুধু চেয়ারে বসলেইতো আর ক্ষমতা পাওয়া যায় না, এর জন্য লাগে সাহস লাগে ছাত্রীদের শ্রদ্ধা ভালোবাসা। এর সবই আপার ছিলো , তাই ছিলো ক্ষমতাও। যে চেয়ারে আপা কোনোদিন বসতে চাননি শুধুমাত্র আমাদের জন্য ভিকারুননিসার জন্য সেই চেয়ারে বসে আপাকে এইভাবে অপমানিত হতে হোলো ।

আজকে আপা মৌলবাদী । আপা আমাদের ক্ষমা করে দেবেন... ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.