আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকারঃ একটি র্ভাচুয়াল রিয়্যালিটি

এস.এম.সৈকত নির্বাহী পরিচালক, সিরাক-বাংলাদেশ ও মহাসচিব, জাতীয় ভোক্তামঞ্চ। বাংলাদেশে ভোক্তার অধিকার বিষয়টি একটি কাগুজে কথা অর্থাৎ একটি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি বা পরা-বাস্তব বিষয়। কারন এটি বোঝা যায় কিন্তু ধরা যায় না এমন কিছু। গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রে জনসাধারনের স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করণে কঠোর ভাবে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইনগুলো অনুসরণ করা হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে অনেক উন্নত দেশ ভোক্তা অধিকার সংরণের বিষয়টি গুরুত্ব দিলেও এ বিষয়ে জাতিসংঘের ভোক্তা-অধিকার সংরণ নীতিমালা ঘোষণার সাথে সাথে বিষয়টির আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি মেলে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপান ১৯৬৮ সালে, থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকা ১৯৭৯ সালে, ভারত ১৯৮৬ সালে,পাকিস্তান ১৯৯৫ সালে, নেপাল ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ১৯৯৯ সালে ভোক্তা-অধিকার সংরণ আইন পাশ করে। এভাবে বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ভোক্তা অধিকার সংরণ বিষয়টি সারা বিশ্বে আন্দোলন আকারে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ এই সারিতে শামিল হয় ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরণ আইন ২০০৯ প্রণয়ন করার মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন হলো, এই আইন প্রণয়নের ফলে পূর্বের জনজীবন আর বর্তমান পরিস্থিতি কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে, আর সেটি ধনাত্বক না ঋণাত্বক। প্রসঙ্গত আইনটি প্রণয়নের পূর্বে এ দেশে ভোক্তা অধিকার ছিল কিনা তা একটু স্পষ্ট হওয়া দরকার।

ড্রাগ এ্যাক্ট ১৯৪০, এসেনশিয়াল কমোডিটিস এ্যাক্ট ১৯৫৭, এসেনশিয়াল কমোডিটিস (স্টোরেজ, কিপিং এন্ড ডিসপোজাল) অর্ডার ১৯৭৩, দি পিউর ফুড অর্ডিন্যান্স ১৯৫৭, বিশেষ মতা আইন ১৯৭৪, বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্টুরেন্ট অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট অর্ডিন্যান্স ১৯৮৫ এই আইন ও বিধানগুলির দ্বারা সংরতি হতো ভোক্তার অধিকার। এ রকম এক ডজনেরও বেশী আইন ভোক্তা-অধিকার সংরণের জন্য ব্যবহৃত হতো কিন্তু এগুলোর সঠিক প্রয়োগ হতো না। কিন্তু বহুল প্রতিীত এই ভোক্তা অধিকার সংরণ আইন ২০০৯ কি গণমুখী হয়েছে, এর প্রয়োগ কি ভোক্তা-বান্ধব? জীবনের অধিকারের ত্রেটি ব্যাপক। তবে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন ধারনে ‘সহায়ক পরিবেশ’ একটি পূর্বশর্ত। রাষ্ট্রের মালিক জনগণের জন্য এই সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব খোদ রাষ্ট্রের।

আর সরকার দেখবে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে ভোক্তার চাহিদা এবং প্রাপ্তির অধিকারের সাথে প্রাপ্ত সেবা ও পণ্যের মান ভোক্তা-সহায়ক পর্যায়ে ধরে রাখা। ভোক্তা অধিকার আইনের বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, অস্পষ্ট বিধির আড়ালে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী-উৎপাদনকারীর স্বার্থ সংরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঔষধ শিল্প এবং বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবাকে এই আইনের অধীনে কোন কার্যকর স্থান দেয়া হয়নি। যেমন, ধারা- ৭২ এর অধীনে ঔষধ বিষয়ক বিশেষ বিধান-০১ শিরোনামে বলা হয়েছে-ঔষধে ভেজাল মিশ্রণ বা নকল ঔষধ প্রস্তুত করা হইতেছে কিনা অনুসন্ধান করিয়া উদঘাটন করিবার মতা ও দায়িত্ব মহাপরিচালকের থাকিলেও উহাদের বিষয়ে কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহন বা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা যাইবে না। আবার ধারা- ৭৩ এর অধীনে বেসরকারী স্বাস্থ্য পরিসেবা পরিবীণ (১) শিরোনামে বলা হয়েছে, বেসরকারী খাতে পরিচালিত স্বাস্থ্য পরীা করিয়া পরিলতি ত্র“টি বিচ্যুতি উদঘাটন করিবার মতা মহাপরিচালকের থাকিবে।

কিন্তু উপধারা-২ এ বলা হয়েছে যে, উপধারা-১ এর বিধানের অধীন বেসরকারী স্বাস্থ্য পরিসেবা খাতে পরিলতি একটি বিচ্যুতির বিষয়ে প্রতিকার মূলক কোন ব্যবস্থা মহাপরিচালক গ্রহণ করিবেন না। তিনি সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করিবেন মাত্র। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশে সাধারণ ভোক্তার ব্যাপক হয়রানির জায়গা হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ। এ বিষয়ে আইনে যা করা হয়েছে তার কোন মানেই হয় না। এমনিতেই আইনে বলা হয়েছে তিগ্রস্ত ভোক্তা নিজে মামলা করতে পারবে না, করবেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

কিন্তু এই বিধির মাধ্যমে মহাপরিচালকেরও হাত- পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ দাড়ায় যে, ভেজাল মিশ্রন, নকল ঔষধ কিংবা বেসরকারী স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করে তিগ্রস্ত হলে ভোক্তার প্রতিকারের কোন সুযোগই নেই এই ভোক্তা অধিকার সংরণ আইন ২০০৯ এ। অর্থাৎ জরমযঃ ঃড় জবফৎবংং বলতে কিছু রইল না এ অংশে। খাদ্য নিরাপত্তা আর খাদ্যের নিরাপত্তা বিষয়টি এক নয়। খাদ্যের উপাদানে যা থাকা প্রয়োজন তা অনুপস্থিত থাকলে বা কোন মিশ্রণ খাদ্যের নিরাপত্তা বিঘিœত করে।

পান্তরে বিপদের সম্মুখীন হয় জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা। কিছু নামসর্বস্ব খাদ্য দ্র্ব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেদারসে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে রং ও রাসায়নিক মেশানো ফলের জুস সহ অন্যান্য পানীয়জাত পণ্যের। বেশীরভাগেরই নেই ন্যূনতম মানের নিশ্চয়তা। প্রায়ই ভ্রাম্যমান আদালত জব্দ করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাঁকানো হচ্ছে আম, পেঁপে, আনারস, কলাসহ অন্যান্য ফল।

সাদা ও আকর্ষনীয় দেখানোর জন্য ইউরিয়া নামক রাসায়নিক মিশানো হচ্ছে মুড়ি তে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বিষাক্ত খাদ্য খেয়ে সবচেয়ে বেশী তিগ্রস্ত হবে শিশু ও গর্ভবতী নারীরা। উচ্চ রক্তচাপ, কিডনী-র সমস্যা, হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েকগুন বেড়ে যাবে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত এ সকল খাদ্য গ্রহন করার কারনে। কাপড়ের রং মেশানো খাবার বা ফাস্টফুড গ্রহন করার ফলে শিশুদের স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা এবং বুদ্ধিমত্তা হবে বাধাগ্রস্ত। আশংকা করা যায়, একটি পঙ্গু জাতিতে পরিণত হব আমরা।

গত বছর উচ্চ আদালত এক রায়ে বলেছেন- খাদ্যে ভেজাল মিশ্রনকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদন্ড যা বিশেষ মতা আইনের ২৫ (২) ধারা অনুযায়ী একটি আমলযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু এ ধরনের অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমণ্বয়ের অভাব এবং কিছু পর্যবেণ কার্যক্রমের বিচ্ছিন্নতার সুযোগে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক রং মিশিয়ে বিক্রয় করে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সরকারের আরো কঠোর অবস্থান জরুরী। বিশেষ করে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারী সংগঠণের মাঝে সমণ্বয় সাধন একটি অপরিহার্য বিষয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভেজাল খাদ্যের নীরব বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে দূরারোগ্য ক্যান্সার সহ নানা ব্যাধিতে।

বাঁসি খাদ্য, ফাষ্ট ফুড, ড্রিংকস্ দিনের পর দিন একইভাবে রেখে আকর্ষন করা হচ্ছে শিশুদের। বিষাক্ত রং মেশানো কেক, মানবদেহের জন্য অনুপযোগী ও তিকর রাসায়নিক এজেন্ট সম্বলিত কোমল পানীয় ছাড়াও মৃত পশু পাখির মাংসের তৈরী খাবারও বাজারজাতকরণ করা হচ্ছে দেদারসে। অন্যদিকে প্রতিদিনই এই সকল পণ্যের বাজারজাতকরনের জন্য লোভনীয় বিজ্ঞাপন বাবদ কোটি কোটি টাকা খরচ করছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। করপোরেট সোসাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) এর নামেও চলছে পণ্যের প্রমোশনাল কার্যক্রম। কমপিটিশন পলিসির মাধ্যমে বিদেশী পণ্যের সাহয্যে দেশীয় কৃষিজ পণ্যকে বাজার থেকে প্রতিস্থাপনের হোলিখেলা চলছে।

বেশীর ভাগ েেত্রই ঐ সকল বিদেশী পণ্য আমাদের দেশের বিএসটিআই কর্তৃক অনুমোদন ছাড়াই বাজারে আসছে। ফলে তিগ্রস্ত ভোক্তারা না পাচ্ছে দেশীয় কর্তৃপরে সহায়তা না পারছে বিদেশী কোম্পানীকে ধরতে। সারাবিশ্বে যখন চলছে ভোক্তা অধিকার বাস্তবায়নের আন্দোলন, তখন আমাদের সাধারন ক্রেতা ভোক্তা জনগন জানেই না ভেজাল খাদ্য গ্রহন করে তিগ্রস্ত হলে কি প্রতিকারের সুযোগ তাদের আছে, বা কোন আইনে। দেশীয় পণ্যকে উৎসাহিত করণে কৃষককে তাঁর উৎপাদিত পণ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে হবে। এ েেত্র বানিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়কে সমণ্বিত পদপে গ্রহনের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।

দেশের বার্ষিক জাতীয় বাজেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ল্য রাখা হয় যেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার স্থিতিশীল থাকে। আর এ েেত্র সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করে রাজনৈতিক চাপ কিংবা ভবিষ্যৎ মতার সুযোগ। কারন জনগণ প্রতিদিন তাদের রোজগারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দ্রব্য ক্রয় করার সময়ই যাচাই করে বাজার সহায়ক কিনা। বাজারে দ্রব্যমূল্য হাতের নাগালে না থাকলে জনরোষ বাড়ে। গত বছর জুলাই মাসের বাজার পর্যবেণে দেখা যায়, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, ডাল, চিনি, শাক-সবজি, তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার দ্রব্যের মূল্য বেড়ে দূর্লভ অবস্থানে পৌছেছে ।

রমজানকে সামনে রেখে এক শ্রেণীর মজুতদার, অসাধু ব্যবসায়ী জনগনকে জিম্মি করে ভোগ্যপণ্য মজুত করে রেখেছে। বাস্তবিক অর্থে, এখন ৫০০ টাকায়ও মাঝারি আকারের মধ্যবিত্ত সংসারের একদিনের খাবার চলছে না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য মতেই এক সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজিতে চালের দাম বাড়ে দুই থেকে চার টাকা। ২৬ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরের মোটা চাল বিক্রি হয়েছে ৩২ টাকায়। ৩৪ থেকে ৩৮ টাকা দরের নাজির শাইল ৪০ থেকে ৪২ টাকা, ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরের মিনিকেট ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

৪০ টাকা কেজি দরের কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা দরে। একই ভাবে বেড়েছে বিভিন্ন প্রকার মুদি সামগ্রীর দাম। এ েেত্র এক বছরে কোনো কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে ১৭৮ শতাংশ। এমন পরিবেশ অবশ্যই ভোক্তার জন্য সহায়ক নয়। দরিদ্র মানুষ তো দূরের কথা, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারাও এখন পরিবারে খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।

বাড়ছে দরিদ্র এবং ভিখারীর সংখ্যা। এদিকে টিসিবির হিসাবেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে অপ্রত্যাশিত হারে। অন্যদিকে সরকার বলছেন- দেশে খাদ্য সংকট নেই। তবে মূল্য এমন লাগামহীন অবস্থায় থাকার কারনে চাল, ডাল, চিনি এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্য দরিদ্র ক্রমশই মানুষের ক্রয় মতার বাইরে চলে যাচ্ছে। যার প্রেেিত সৃষ্টি হচ্ছে একটি কৃত্রিম খাদ্য সংকট এবং এর ফলে অচিরেই দেশে একটি নীরব দুর্ভিরে আশংকা করা যায়।

পরিবহনে ভোক্তার অধিকার একটি অবাক করার মত কথা বাংলাদেশে, কারন এখনো যাত্রী হিসেবেই মূল্যায়ন করা হয়, ভোক্তা হিসাবে না। একজন হকারও যাত্রী, যদিও সে ভাড়া দেয় না, তবে কি ভাড়া না দেয়া হকার আর অর্থের বিনিময়ে ভ্রমনকারী মানুষ এক পর্যায়ে পড়েন? সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের চলাচলে যে কয়টি পরিবহন ব্যবহার করেন তা হচ্ছে রিকশা, সিএনজি, ট্যাক্সিক্যাব ও বাস। রাজধানীসহ সারা দেশে সাধারণ মানুষের পরিবহনের মাধ্যম পাবলিক পরিবহনে অরাজকতা এবং ভাড়া নির্ধারণে অনিয়ম, যাত্রীসেবার নামে প্রতারনামূলক প্রচারনা ছাড়াও পরিবহনভেদে একই গন্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া আদায় এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। সিটিং সার্ভিসের সাইনবোর্ড লাগিয়ে অধিকাংশ বাস মানুষের সঙ্গে চিটিং করছে। এসব বাসে লোকাল সার্ভিসের সেবা দিয়ে আদায় করা হচ্ছে সিটিং বাসের ভাড়া।

স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী মানুষকে বাসে উঠাতে তারা শুধু অনাগ্রহই প্রকাশ করে এই ঝুলে উঠার দৌড়ে পুরুষরা এগিয়ে থাকলেও নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা হচ্ছেন বঞ্চিত। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা আসন সংরণ করা হয় না সকল পাবলিক পরিবহনে। ঈদ, পূজা, পার্বন সহ যেকোন উৎসবের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমনকারীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় উচ্চ ও অস্বাভাবিক রকমের ভাড়া। সরকার পরিবহন ভাড়া ৫০ পয়সা বাড়ালে এসব বাসে বাড়ানো হয় দিগুণ বা তারও বেশি। তার ওপর রয়েছে সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়।

সিএনজি চালিত বাসের পরিবহন ব্যয় ডিজেল চালিত বাসের চেয়ে কম হলেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ডিজেল চালিত বাসের চেয়েও বেশী হারে। যেসব পরিবহনের সেবা নিয়ে মানুষ প্রচন্ড বিরক্ত ও ুব্ধ সেটি হচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাব। কোনো অটোরিকশাই এখন মিটারে চলতে চায় না। মিটারের চেয়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও স্বল্প দূরত্বে তাদের পায়ে ধরেও নেয়া যায় না।

তাই সিএনজি অটোরিক্সা মালিক এবং ড্রাইভারদের কারসাজিতে এখন ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে ১০০ টাকার কমে কোন ভ্রমন করা যায় না। আর সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলগুলো এসব বিষয় যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন। অন্য কথায় পরিবহন সেক্টরে চলতে থাকা এ অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা দেখার কেউ নেই, তাদের কাছ থেকে বেশি দূরত্বের ভাড়াও আদায় করছে। তারপরও মানুষ বাদুড়ের মতো ঝুলে এসব বাসে উঠছেন। এখানে সেবা গ্রহনকারী জনসাধারণও যে ভোক্তা তা হয়ত খোদ সরকারও বেমালুম।

সবকিছুর পরও আমরা সাধারণ জনগণ জীবনের জন্য একটি স্বাভাবিক সহায়ক পরিবেশ চাই। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আইনই শেষ কথা নয়। অজানা ভোক্তা অধিকারের উপর ব্যাপক গণসচেতনতার পাশাপাশি সেবাধর্মী, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ভোক্তা-বান্ধব পরিবেশের একটি কার্যকরী উপাদান। তাই সরকারকে রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে ভোক্তার প্রাপ্য সেবার অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনকে হতে হবে আরো আন্তরিক, গণমুখী এবং সর্বোপরি আইনের উন্নয়ন একটি অপরিহার্য বিষয়। আইন বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ আর গণসংগঠনের অংশগ্রহনই পারে পরা-বাস্তব কাগুজে ভোক্তা অধিকারকে বাস্তবিক রূপদান করতে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.