আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আধুনিক যুগে মধ্যযুগীয় বর্বরতা

সৃষ্টিশীল কোন কাজ করা।

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য ১২৫ বছর আগে শিকাগোতে শ্রমিকরা প্রাণ দিয়েছিলেন। তারপর থেকেই বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রেই ১লা মে কে স্মরণীয় করে রাখতে মে দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ আমি প্রতিবাদ জানাতেও পারছিনা। তাই ব্লগের মাধ্যমেই জানাতে চাই আমার অপারগতার কথা।

সাবরিনার সাফল্য হয়ত আমাকে আশাবাদী করেছে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসি ভাল কম্পানীতে চাকুরীর নিয়োগপত্র নিয়ে। ফ্যাশন জগতের শির্ষ দশ হাউজের এক হাউজ কে ক্র্যাফট এর গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে। দুচোখে স্বপ্ন ভাল কম্পোনীতে চাকুরী করবো ভালো বেতন পাব। জয়েন্ট করার কিছু দিনের মধ্যেই ঘোর কেটে গেল।

মালিক পরে অবমূল্যায়ন আর অবহেলা। আমাদের তাও সকাল ১০ টা হতে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হত। কিন্তু যারা কারখানায় কাজ করে তারা সকাল ৯ টা হইতে রাত ৯ টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। সরকারী কিছু ছুটি বাদে বার্ষরিক ছুটি ১০ দিন। বৎসরে শুধু রোজার ঈদে বোনাস দেয়া হয় কিন্তু কোরবানী ঈদে কোন বোনাসই দেওয়া হয় না।

স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক বলেই হয়ত মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার। এখন আর মুখ খুলে প্রতিবাদ জানানোর ভাষা নেই। কারণ চাকুরী চলে যাওয়ার ভয় আছে। আর চাকুরী চলে গেলে রুটি রুজির উপর হাত পরবে তাই বাধ্য হয়ে চুপ করে থাকি। কয়েক বৎসর চুপ থাকার পরও যখন অন্যায় অত্যাচার ও অবহেলা বেরে যায় তখন চাকুরী ছেড়ে জয়েন্ট করি আরেকটি ফ্যাশন হাউজ -এ।

এখানকার অবস্থা আরও খারাপ। কোন সরকারী ছুটি নাই, ফ্যাশন হাউজের মালিক এর ইচ্ছা মত ছুটি হয়। সকাল ১০ টায় অফিস শুরু হয় আর শেষ হয় ৮.৩০ টায়। নববর্ষ, ঈদ বিশেষ উৎসবে এই হাউজ খোলা থাকে রাত ১১ টা ১২ টা পর্যন্ত। এমনকি শুক্রবারে অফিস খোলা থাকে।

আজ ১ লা মেতেও অফিস করতে হচ্ছে। সরকারী কোন নিয়ম কানুনই এখানে মানা হয়না। শুধু কর্মচারীদের সাথেই অনৈতিক ব্যবহার করে না। প্রডিউসারদের সাথে লেনদেন গরমসি করেন। তাদের টাকা ঠিক মত প্রদান করা হয়না।

তারা কিছু বলতেও পারে না যদি পাওনা টাকা না পায় সেই ভয়ে। যে জায়গায় মানবতার মূল্যায়ন করা হয় না সেই সকল ফ্যাশন হাউজ গুলা আধুনিক মানুষদের চোখে ধুলা দিয়ে ব্যাবসা করে যাচ্ছে। আর আমরা আধুনিকতার নামে তাদের কাছে বিক্রি হচ্ছি প্রতিনিয়ত। ১লা নববর্ষ, ফাল্গুন, ভ্যালেন্টাইন ডে, মা দিবস, বাবা দিবস, একুশে ফেব্র“য়ারী, ২৬ শে মার্চ, ১৬ ই ডিসেম্বর সবই তাদের কাছে একটা ব্যাবসায়িক ফাঁদ। বাঙ্গালীর সেন্টিমেন্টে আঘাত করে টাকা কামানোর রাস্তা।

টাঙ্গায়ীলের তাঁতের শাড়ী, নরসিংদীর তাঁতের কাপর, কুমিল্লার খদ্দর, মিরপুরের বেনারসী ও জামদানী ও রাজশাহীর সিল্কের শাড়ীর উপর তারা ব্যবসা করে। আর এই তাঁতীদের ল ল টাকা আটক রেখে ব্যবসা করে বৎসর শেষে তাদের পাওনা পরিষদ করে। দেশী দশ নামে ফ্যাশন হাউজের মালিকরা প্রতিষ্ঠান করেছে আড়ং বিপে ব্যবসা করার জন্য। ঐ গোষ্ঠীর কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তা ঐ গোষ্ঠীর কোন হাউজে চাকুরী করতে পারবে না। একক ভাবে শোষণ করে তাদের মন ভরে নাই এখন তারা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে শোষণ করার পায়তারা শুরু করেছে।

বাংলাদেশেতো আরও ছোট ছোট বুটিক হাউজ আছে কিন্তু তারা তাদেরকে সঙ্গে নেয়নি এবং নেবেও না। তারা সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছে তাই সরকার তাদের কার্যকলাপের খোঁজ খবর পর্যন্ত নিচ্ছে না। গার্মেন্ট সেক্টরের হাজার হাজার শ্রমিকের দাবীই যেখানে সরকার শুনছেন না। সেখানে এই সেক্টরের সামান্য কর্মচারীর কথা কিভাবে সরকার শুনবেন। তারপরেও ঝুঁকি নিয়ে ব্লগে আমার বক্তব্য তুলে ধরলাম।

সম্মান নিয়ে বাঁচার আশায়। আধুনিক ভাই বোনদের কাছে আমার একটাই চাওয়া আপনারা নিজেদেরকে আধুনিক বলেন কিন্তু আপনা মধ্যযুগীয় বর্বর দেরকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করছেন আপনাদের অজান্তেই। আপনারা সচেতন হউন আমাদেরকে ভালভাবে বাঁচতে দিন। বাংলার মাটিতে হানাদার আর বর্বরদের কোন স্থান নেই। সংশ্লিষ্ট শ্রম মন্ত্রালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই বিষয়টি ভালভাবো খোঁজ খবর করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।