আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মামলায় মামলায় দুজনই ফতুর

আমারে দিবো না ভুলিতে

পাশাপাশি বাড়ি! কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে তাঁদের মধ্যে কোনো আন্তরিকতা নেই। সেই আন্তরিকতা দূর হয়েছে ২০ বছর আগে। বিরোধের সূত্রপাত ৭০ শতাংশের একটি টিলা নিয়ে। সে সময় টিলাটির দাম ছিল তিন হাজার টাকা, আর এখন দাম ২০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে দুজনই একে অন্যের বিরুদ্ধে মামলা করে করে ফতুর হওয়ার দশা।

টিলাটি দখলের জন্য দুজনে মামলা করে এ পর্যন্ত ৪৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন। তবু কেউ কারও কাছে হারতে রাজি নন। এ দুই ব্যক্তি হলেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ভূঁইয়াছড়ি গ্রামের আবদুল আজিজ (৬৯) এবং আবদুর রাজ্জাক ফকির (৭০)। জানা গেছে, মামলার শুনানি চলাকালে দুজনের কেউ এখন আর আইনজীবী নিয়োগ করেন না। দুজন একে অন্যকে জেরা করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁরা দুজনে মামলা চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন। ১৩ এপ্রিল আবদুল আজিজ ও আবদুর রাজ্জাক একটি অভিযোগের শুনানিতে হাজিরা দিতে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। তখন দুজনের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় আবদুল আজিজ জানান, তাঁর দেশের বাড়ি পিরোজপুরে। সরকারিভাবে ১৯৮০-৮১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসেন।

আবদুর রাজ্জাককে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, ‘সে ১৯৯১ সালে আমার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করে। আমাদের মধ্যে বিরোধ ৭০ শতাংশ টিলাভূমি নিয়ে। রাজ্জাক আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলা করেছে। তবে আমার মনে আছে ৩৪টির কথা। এর মধ্যে খারিজ হয়েছে ১৩টি, খালাস পেয়েছি ১৬টিতে।

বর্তমানে চলছে পাঁচটি মামলা। আর আমি ওর বিরুদ্ধে মামলা করেছি সাতটা। একটি মামলায় সে ১১দিন জেল খেটেছে। কিন্তু সে আমাকে একদিনও জেল খাটাতে পারেনি। ’ বলে চলেন আজিজ, ‘আমাকে জেল খাটাতে পারেনি সত্য।

তবে আমার বড় ছেলে নজরুল ইসলাম ১১ দিন জেল খেটেছিল। মামলা চালাতে ইতিমধ্যে আমার ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবু আমার দুঃখ নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সঙ্গে লড়ে যাব। ৭০ শতক জায়গা আমার চাই।

’ এদিকে আবদুর রাজ্জাক ফকির শুরুতেই আজিজকে দোষারোপ করে বলেন, ‘প্রথম মামলা সে করেছিল। তবে সালটা আমার মনে নেই। মামলা চালাতে চালাতে আমি ফকির হয়ে গেছি। ইতিমধ্যে মামলায় আমার ২০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখন আমরা কেউ আইনজীবী নিয়োগ করি না।

নিজেরা মামলা চালাই। সে আমাকে বিনা দোষে ১১ দিন জেল খাটিয়েছে। ৭০ শতক জায়গা আমার হক। আমি এ জায়াগার দাবিদার। এর দাম ৭০ টাকা হলেও জমিটা আমার প্রয়োজন।

আমি তার কাছে হারতে রাজি নই। ’ সামান্য জায়গার জন্য নিঃস্ব না হয়ে আপস-মীমাংসা করেননি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে দুজনই একসঙ্গে বলেন, আপাস-মীমাংসা অনেকবার হয়েছে। একজন বলেন, ‘সে মানে না। ’ আবার আরেকজন বলেন, ‘ও মানে না। ’ দুজনই জানান, সর্বশেষ আপস-মীমাংসা হয় ২০০৭ সালের ১১ জুন।

চংড়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউছুফ তালুকদার বলেন, ‘ওদের দুজনকে দেখলে এখন ভয়ে কেউ কথা বলে না। আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে কয়েকবার আপস-মীমাংসা করেছি। কিন্তু তাঁদের বিরোধ মেটানো সম্ভব হয়নি। ’ ইউএনও কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আবুল হোসেন বলেন, ‘আমি শুরুতেই তাঁদের দুজনকে মামলা করতে নিষেধ করেছিলাম। তাঁরা মেনেননি।

এখন মামলা চালাতে চালাতে দুজনই নিঃস্ব। ’ দীঘিনালার ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ‘আমার কাছে এ দুই ব্যক্তি যতবার অভিযোগ নিয়ে এসেছেন, ততবারই তাঁদের মামলা থেকে সরে আসতে বুঝিয়েছি। তাঁরা আমার কথায় প্রথমে সম্মতি জানান, পরে আবার বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। Click This Link

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.