আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মেডিক্যাল লাইফের সাতকাহন

:-)

ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল মেডিকেলে পড়ব,ডাক্তার হব। একদিন মেডিকেলে পড়ার সেই ইচ্ছা পূরণ হল (ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা এখনো পূরণ হয়নাই,আদৌ হবে কিনা বলতে পারছিনা!)। আমাদের মেডিকেল লাইফ শুরু হয়েছিল কোন এক বছরের ২২ জানুয়ারি। প্রথম দিন স্যারদের জ্ঞানগর্ভ কথা শুনে ভেবেছিলাম,"আহা! কত সুন্দর-ই না হবে এখন থেকে জীবন টা। কত ভাল লাগবে মানুষের সেবা করতে!" নবীণ আমরা সেদিন বুঝে উঠিনি মানুষের সেবা করার আগে যেসব পর্যায় পার হতে হবে তা পার করতে গিয়ে আমরা নিজেরাই অমানুষে পরিণত হব।

প্রথম কয়েকদিন মহা আনন্দে কাটল। ক্যাম্পাসে নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচিত হওয়া,প্রথম এপ্রন পরে হালকা ভাব নেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। অতঃপর শুরু হল item নামক বস্তুটির যন্ত্রনা। আমাদের প্রথম item ছিল physiology,item নিয়েছিলেন মাসুমা ম্যাডাম। ‌যে-ই ছেলে বা মেয়ে item দিতে যাক না কেন উনি আমাদের সবার মাথা থেকে পা-এর স্যান্ডেল পর্যন্ত দেখে তারপর item নেওয়া শুরু করলেন।

সেদিন-ই প্রথম বুঝতে পারলাম মেডিকেল নামক জায়গায় পড়তে হলে dress up-এর ব্যপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। এরপর অনেকটা সময় এই মেডিকেলে কাটিয়েছে,দুরুদুরু বুকে দিয়েছি অনেক ধরণের পরীক্ষা--item,card,term,1st professional exam,প্রিয় ক্যাম্পাস প্রিয়তর হয়েছে ক্রমাগত। সকাল ছয়টায় ঘুমঘুম চোখে যখন কলেজ যাওয়ার জন্য রেডী হই তখন মাঝে মাঝে মনে হয় "হায়রে জীবন!শান্তি নাই!" প্রতিদিন স্যারদের বকা,বকা খেয়েও ক্লাস ফাঁকি,ক্লাসের মাঝে কমেন্ট পাস আর পরীক্ষার আগের রাতে পড়া শেষ করা আর মাঝে মাঝে ফেল করা,item-এ pending খাওয়া--এইসব নিয়েই আমাদের প্রতিদিনের মেডিক্যাল লাইফ। যখন সময়ের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে আর পড়ালেখা করতে গিয়ে খুব বেশি হাঁপিয়ে উঠি তখন মনে হয় সাধ করে নরক যন্ত্রনা উপভোগ করছি। খুব মন খারাপ হয় অকারণ ঝাড়ি খেলে।

আবার যখন বন্ধুরা সবাই মিলে সেই ঝাড়িটুকু হজম করে ফেলি অথবা হাসাহাসি করি নিজেদের নির্বুধিতায় তখন কিন্তু আর মন খারাপ ভাবটা আর থাকেনা! মেডিকেলে পড়ালেখা করা হয়ত অনেক কষ্টের,অনেক পড়তে হয় এটা ঠিক--কিন্তু যখন হঠাৎ করে পাওয়া off period গুলোতে প্রিয় বন্ধুদের সাথে টং এর দোকানে দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দেই অথবা হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই শহীদ মিনার বা দোঁয়েল চত্বর কিংবা ward এ গেলে কোন বৃদ্ধা মা যখন হসপিটালের বেডে শুয়ে মাথায় পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন-"অনেক বড় ডাক্তার হও বাবা"--তখন মনে হয় হাজার পড়ালেখার চাপেও জীবনটা মনে হয় খুব বেশি খারাপ না! বরং অনেক অনেক বেশি সুন্দর!!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.