আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বেশিদিন বাঁচবেন ? নাকি কোল্ড ড্রিঙ্কস খাবেন ?

সফট ড্রিঙ্কস কি ? অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে – সফট ড্রিঙ্কস নাম হলো কেন ? এটা কি পানির চেয়েও নরম ? নাকি তরল তাই নাম হলো সফট ড্রিঙ্কস ? আসলে কোনটাই নয়, আপনারা জেনে থাকবেন যে অ্যালকোহলকে বলা হয়ে থাকে “হার্ড ড্রিঙ্ক”, তাই অ্যালকোহল মুক্ত পানীয় বোঝাতে বানিজ্যিক স্বার্থে “সফট ড্রিঙ্ক” কথাটির প্রচলন ঘটানো হয়। এটা আমাদের দেশে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায় – যেমন : Coca Cola, Pepsi, Mojo, 7up, Fanta ইত্যাদি। সফট ড্রিঙ্কসের উপাদান : যদিও বানিজ্যিক স্বার্থে সব প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের উপকরণ ও তৈরির প্রণালী গোপন রাখে, কিন্ত এর উপাদানসমূহ আমাদের অজানা নয়। সফট ড্রিংক্সে থাকে কার্বনেটেড ওয়াটার, কৃত্রিম মিষ্টিকারক, কৃত্রিম স্বাদবর্ধক, ক্যাফেইন, কৃত্রিম রঙ, প্রিজারভেটিভস। জানা যায় যে কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের স্বাদ ও চাহিদা বাড়ানোর জন্য এতে অ্যালকোহল যোগ করছে।

সবচেয়ে বিপদজনক তথ্য এই যে ২০০৩ সালে ভারতে আবিষ্কৃত হয় যে সফট ড্রিঙ্কস নাকি কীটনাশক হিসেবে দারুন কার্যকর । যে জমিতে ১০ হাজার টাকার মতো শুধুই কীটনাশক ব্যবহৃত হত, সেখানে মাত্র ১-২ লিটার পেপসি/কোকাকোলা ব্যবহার করে কৃষকরা তার চেয়ে বেশি ভালো পাচ্ছেন। আর সবচেয়ে মজার তথ্য এই যে আমরা এই “কীটনাশক” মজা করে পান করে যাচ্ছি। সফট ড্রিঙ্কে স্বাস্থ্যঝুঁকি : সফট ড্রিঙ্ককে বর্তমান যুগে টিন-এজার এবং তরুণদের ক্রেজ ও ফ্যাশনের অন্যতম অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকি ৩-৪ বছরের শিশুর হাতেও আজ দেখা যায় সফট ড্রিঙ্কের গ্লাস বা বোতল।

এর মূল কারণ চটকদার বিজ্ঞাপন এবং অন্ধবিশ্বাস। আমরা যাকে ফ্যাশন বলছি তা যে আমাদের যে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা আমরা নিজেরা জেনেও না জানার ভান করে বসে আছি। যারা নিয়মিতভাবে সফট ড্রিঙ্ক পান করে অভ্যস্ত তাদের জন্য দুঃসংবাদ – নিচের রোগগুলোর অন্যতম প্রধান কারণ সফট ড্রিঙ্ক - *মুটিয়ে যাওয়া *ডায়াবেটিস (টাইপ-২) *দন্তক্ষয় *অস্থিক্ষয় *অস্থির ঘনত্ব কমে যাওয়া - উঠতি বয়সের মেয়েদের জন্য যা পরে অনিরাময়যোগ্য Fracture এ পরিণত হতে পারে। *স্বাস্থ্যহীনতা *শরীরে পটাশিয়াম আয়নের পরিমাণ কমে যাওয়া। *হৃদরোগ *ফুসফুসের সমস্যা (কার্বনিক এসিডের জন্য) ডায়েট কোক/পেপসি বিষয়েঃ প্রিয় পাঠক, আপনার জানেন ডায়েট ড্রিঙ্কগুলোকে নিরাপদ বলে প্রমাণের চেষ্টা চলছে অনেকদিন থেকেই।

কিন্ত প্রকৃতপক্ষে এগুলোর কোনটিই নিরাপদ নয়। University of Texas Health Science Center at San Antonio কর্তৃক পরিচালিত এক সমীক্ষায় জানা গেছে যে ডায়েট ড্রিঙ্কে চিনি হয়তো থাকে না, কিন্ত এতে থাকে- -স্যাকারিন -মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন – যা Anxiety এবং অনিদ্রার জন্য দায়ী। -হজমে সমস্যাকারী উপাদান। এছাড়াও ডায়েট ড্রিঙ্কের কারণে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে ওজন বৃদ্ধি পায় বলে অনেক বিজ্ঞানী দাবী করেছেন, যদিও এটি এখনও প্রমাণিত হয়নি। আমাদের করণীয়ঃ সুন্দর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে কে-না চায়? সুস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান শর্ত আমাদের হাড় ও দাঁতের যত্ন।

এই যত্নের জন্য আমাদের নিজেদের স্বার্থেই সফট ড্রিঙ্ক পরিহার করা জরুরী। তাই সিদ্ধান্ত নিন যে সফট ড্রিঙ্ক পান করবেন না, করলেও তা অত্যন্ত সীমিত আকারে পান করবেন।  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৪ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.