আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কওমী মাদরাসা : ঐতিহ্য অবদান

বাংলা আমার দেশ

আমাদের দেশের বহুল প্রচারিত কওমী মাদরাসাগুলোর উৎস মূলের সন্ধান না পাওয়ার কারণে কিছু কিছু শিক্ষিত লোকও অকপটে বলে ওঠে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে পড়ে কি হবে? নিজের জ্ঞানহীনতা যেন কোন মানুষই মেনে নিতে চায় না। এটাই মানুষের মজ্জাগত চাহিদা। কওমী মাদরাসাগুলোর শিক্ষার ইতিহাস ঐতিহ্য এতো উজ্জ্বল এতো ভাহ্নর ও নির্ভরযোগ্য আজকার সমাজ সে সম্পর্কে একেবারেই না ওয়াকিফহাল। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার উৎস মূল মহান রাববুল আলামিনের প্রথম ওহী ‘ইকরা' থেকে হেরা গুহায় রাসূল মুহাম্মদ সা. মানবতার মুক্তি দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রভুর সান্নিধ্যে ধ্যানমগ্ন থাকাকালীন তার উপর নাজিল হয়। এ শিক্ষা কারীকুলামের মৌলিকতা ‘ইকরা' তুমি পড়।

আল্লাহর প্রেরিত ওহী আল-কুরআনেরই তালীম হতে শুরু করল সাফা পর্বতের সন্নিকটে এক গৃহে। তারপর দারুল আরকামে তারপর মসজিদে নববীতে। ইসলামী খেলাফতের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার সাথে সাথে ইলম চর্চার প্রসারতাও ব্যাপকভাবে বৃহ্নি পায় তাই বিশ্বের প্রত্যশ্চ অঞ্চলে এই শিক্ষা ব্যবন্সা চালু হতে থাকে। ইতিহাসের প্রথম মাদরাসা মক্কা নগরীর আরকাম ইবনে আবিল আরকাম র. এর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সেই যুগের কুলাঙ্গার আবু জাহল উৎবা সায়বার কারণে তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

হজ্বের মওসুমে মদীনা থেকে প্রথম বছর ছয়জন মদীনাবাসী এসে আকাবাতে বায়আত গ্রহণ করে দেশে ফিরে ইসলামী তালীমের জন্য শিক্ষক তলব করলেন। তখন হুজুর, মাসআব ইবনে উমায়েরকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেন। ইসলামী ইতিহাসে এই প্রথম কওমী শিক্ষক হিসাবে পাঠানো। তিনি মদীনায় আসআদ ইবনে যুরারাহ রা. এর বাড়িতে মাদরাসার উদ্বোধন করেন। এটাকে মদীনার প্রথম মাদরাসা বলা হয়।

হিজরতের পর মদীনায় ইসলামী প্রজাতম্পেরিণত হয়। তাই মসজিদে নববীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এই শিক্ষালয়ের নাম ছিল আসহাবে সুফফা। কেউ কেউ এটাকে প্রথম সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে আদতে এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বায়তুল মালের কোনো নির্ধারিত খরচ দ্বারা পরিচালিত হয়নি।

জনসাধারণের অনুদানের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়েছিল যার প্রমাণ হ্নরূপ বলা যেতে পারে হযরত আবু হুরায়রা রা. ক্ষুধার তাড়নায় রাস্তায় পড়ে থাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোন বরাদ্দ ছিল না বিধায়ই তাদের এই অবন্সা। যখন কোন হাদীয়া আসত তখন হুজুর সা. সবাইকে ডেকে তা খাইয়ে দিতেন। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এটা কোন সরকারি খরচে পরিচালিত হয়নি। ইসলামী শিক্ষার বিস্তার রাসূল সা. এর যুগে আরবের ভৌগোলিক পরিধি ছিল মাত্র কয়েকশত বর্গকিলোমিটারের মধ্যে সীমিত।

এখানের সভ্যতা, সংস্কৃতি, আচার-আচরণও ছিল সীমিত। যখনই কোন সমস্যা দেখা দিত সাহাবায়ে কিরাম তাৎক্ষণিক ছুটে আসতেন রাসূল সা. এর দরবারে। মুহূর্তের মধ্যে সমাধা হয়ে যেত। যখন হযরত উমরের খেলাফত কাল আসলো ইসলামে ফতুহাতও হতে থাকলো বিপুলভাবে। ইসলামী রাষ্ট্রের ভৌগোলিক পরিধির বিস্তার ঘটলো।

মুসলমানগণ নিত্য নতুন ভূমির অধিপতি হতে লাগলো। নতুন নতুন অঞ্চলে নতুন নতুন সভ্যতার সাথে পরিচিতি হতে থাকলো। ঠিক তখনই প্রয়োজন দেখা দিল ইসলামী শিক্ষা-সভ্যতার। তাই হযরত ওমরের যুগে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ঘটেছিল। ফলে ইরাকে অনেক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল।

এখানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। প্রতিনিয়তই ছাত্রসংখ্যা বেড়ে যেতে শুরু করল। ছাত্রসংখ্যা বেশি হওয়াতে হযরত আলী রা. শিক্ষক হিসেবে এখনে আগমন করেন। তাঁকে ইরাকের প্রায় বারো হাজার তাবেয়ী মুহাদ্দিসীন সংবর্ধনা দেন। ইরাকে তখন হাজার হাজার মুহাদ্দিস, মুফাসসিরের আবির্ভাব ঘটে।

ইরাকের কুফা নগরীতেই ইমাম আবু হানিফা রহ. শিক্ষা গ্রহণ করেন। এ ধারার বিস্তার ঘটতে থাকে খেলাফতে রাশেদার যুগ পর্যশ্চ। খেলাফতে রাশেদার যুগের পর ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবন্সায় বিচ্যুতি ঘটে ফলে ধর্মীয় শিক্ষার পরিধি সীমিত হয়ে আসে। তখন মাদরাসাগুলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক, খানকাকেন্দ্রিক হতে থাকে। প্রায় চার শতাব্দি পর্যশ্চ এ অবন্সা অব্যাহত থাকে।

৪০১ হিজরী থেকে ধর্মীয় শিক্ষার রূপ পরিবর্তন ঘটে। ১০১৯ খৃষ্টাব্দে আফগানিস্তানের বীর পুরুষ সুলতান মাহমুদ গজনবী গজনীর উপকণ্ঠে বিশাল কুতুব খানা মসজিদ মাদরাসা নির্মাণ করেন। এই বিশাল কমপ্লেক্স তৈরি করতে যা ব্যয় হয় তা তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করেন। ধর্মীয় শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক ও শ্রেণীভিত্তিক এই আমল থেকে বিস্তার লাভ করে। সুলতানের ইশ্চিকালের পর হ্নীয় পুত্র বাদশাহ মাসউদ পিতার এই সুমহান ধারার গতিকে আরো বেগবান করতঃ আফগানের প্রত্যশ্চ অঞ্চলে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত গতিতে চালিয়ে যান।

এ ধারা প্রায় দু'শ বছর পর্যশ্চ চলতে থাকে। দরসে হাদীস ক্লাসিক ৬ষ্ঠ শতাব্দির পূর্ব পর্যশ্চ কোন মাদরাসায় হ্নতম্ভাবে হাদিসের দরস চালু ছিল না। ৬ষ্ঠ শতাব্দিতে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাদশাহ নূরুদ্দীন জঙ্গি রহ. ৫৬৯ হি. মুতাঃ ১১৭৮ খৃষ্টাব্দে একটি হ্নতমদারুল হাদিস নির্মাণ করেন। ইতিহাসে এর পূর্বে পৃথক ব্যবন্সাপনায় হাদিসের দরসের কোন তথ্য মিলে না। ধর্মীয় শিক্ষায় উজ্জীবিত উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা ইবনে আসাকিরসহ বড় বড় মুহাদ্দিসগণ এখানে দরস পরিচালনা করতেন।

বাদশাহ নূরুদ্দীন জঙ্গি রহ. ছাত্রদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য একটি ছাত্রাবাসও নির্মাণ করেছিলেন। ক্লাসিক ছাত্রদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মানসে তিনি একটি সমৃহ্নশালী পাঠাগারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইসলামী চেতনায় উদ্বুহ্ন ছাত্রদের ঐক্যবহ্ন ও সুসংহত থাকার জন্য ছাত্র সংসদ এর ব্যবন্সাও ছিল। পরবর্তিতে আল্লামা ইবনে আসাকির মিশরের কায়রোতে ৬২২ হিজরীতে দারুল হাদিস নির্মাণ করেন। একই হিজরীতে দামেস্কে মাদরাসায়ে আশরাফিয়া নামে একটি হ্নতমদারুল হাদিসের উদ্বোধন করা হয়।

ইমাম নববী এখানে হাদিসের দরস পরিচালনা করেছিলেন। উপমহাদেশে কওমী মাদরাসা উপমহাদেশে ইসলামের সুশীতল হাওয়া লেগেছিল ১ম শতাব্দিতে সাহাবায়ে কিরামের যুগ থেকেই। ইতিহাসে চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে সাহাবীদের আগমনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে ইসলামী সভ্যতা ব্যাপক হারে গড়ে উঠেছিল প্রায় সপ্তম শতাব্দিতে। হিজরী সপ্তম শতাব্দির প্রথমার্ধে মধ্য ভারতে ইসলামী শাসন ব্যবন্সা প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

তখন সম্রাট কুতুবুদ্দীন আইবেক ইসলামী শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটানোর জন্য মুলতানসহ বিভিন্ন ন্সানে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামী কৃষ্টি কালচার প্রতিনিয়ত দ্রক্ততগতিতে বিস্তার লাভ করতে থাকে। ৭২৫ হিজরী সনে বাদশাহ মোহাম্মদ তুঘলকের আমলে প্রচুর মাদরাসা মসজিদ হতে থাকে। ঐতিহাসিকগণ বলেন মাদরাসার সংখ্যা এত বৃহ্নি পেয়েছিল যে, শুধু দিল্লীতেই প্রায় এক হাজারের বেশি মাদরাসার সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময়কালে নারীদের মধ্যেও দীন শিক্ষার চেতনা ছড়িয়ে পড়েছিল।

বাদশাহ মোহাম্মদ তুঘলকের যুগে অনেক মহিলা হাফেজের কথা উল্লেখ রয়েছে। আজকের নারীবাদীরা দাবী করে নারী জাতিকে বেগম রোকেয়াই সচেতন করেছে। অথচ শত শত বছর পূর্বে ইসলামী খেলাফতকালেও নারীদের মধ্যে শিক্ষিত নারীর সন্ধান পাওয়া যায়। ইসলাম কোন দিনই নারীকে শিক্ষার প্রতি অনীহা দান করেনি। বরং প্রতিনিয়ত উৎসাহ প্রদান করেছে।

তবে তা ছিল মাতৃজাতির হ্নকীয়তা বজায় রেখে হ্নতমশিক্ষা। কিশ্চু আজকের সমাজের নারীদের শিক্ষার কথা বলে যা শিখানো হচ্ছে তার ফলাফল চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝানোর প্রয়োজন মনে করি না। ইসলামী শিক্ষার কার্যক্রম বাদশাহ আদিলশাহ, শেরশাহ, সেকান্দর লোদি আমলেও ক্রমশ উন্নতি ও অগ্রগতির সিঁড়ি বেয়ে ৮৯৫ হিজরী পর্যশ্চ চলে আসে। সিলেবাসভিত্তিক শিক্ষা ১১০০ শতাব্দীর পূর্ব পর্যশ্চ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপকহারে থাকলেও তা কোন সিলেবাসভিত্তিক বা কারিকুলামের আলোকে ছিল না। কিশ্চু ১১০৫ হিজরীতে মোল্লা নেজামুদ্দীন সাহলাভী ইসলামী শিক্ষাকে ঢেলে সাজান।

তিনিই বর্তমান দরসে নিজামী মাদরাসা শিক্ষা পহ্নতির জনক। তিনি ছিলেন একাধারে দ্বীনের সুদক্ষ আলিম, ফিকাহ শাদ্ধবিদ, দার্শনিক, ভাষ্যকার এবং একজন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তর ভারতের সাহালী শহরে ১০৮৮/৮৯ মোতাবেক ১৬৭৭-৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। হিরাতের প্রসিহ্ন শিক্ষাবিদ শায়খ আব্দুল্লাহ আনসারী ছিল তাঁর পূর্বপুরুষ। শায়খ নিজামুদ্দীন সাহালীতে ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের সূচনা করেন।

তারই প্রপৌত্র শায়খ হাফিজের জ্ঞানসাধনায় মুগ্ধ হয়ে সম্রাট আকবর তাকে ঐ এলাকার ভাল একটি জায়গীর প্রদানের নির্দেশ দেন। ফলে শায়খ ও তাঁর পুত্রগণ নিশ্চিশ্চে তালীমের কাজে মগ্ন থাকেন। ছাত্রদের খাদ্য ও বাসন্সানের সুষ্ঠু ব্যবন্সা করেন। ইসলামের শত্রক্তরা ১১০৩ হিজরী মোতাবেক ১৬৯১ সালে মোল্লা নিজামুদ্দীনের পিতা মোল্লা কুতুবুদ্দীনকে শহীদ করে তার শিক্ষা উপকরণসমূহ জ্বালিয়ে দেন। ফলে মোল্লা নিজামুদ্দীনসহ চার ভাই লাখনৌ চলে যান।

সম্রাট আওরঙ্গজেব এই পরিবারের শিক্ষার অবদানের কথা বিবেচনা করে লাখনৌর প্রসিহ্ন ফিরিঙ্গী মহলে এক সরকারি আদেশবলে জায়গীর দান করেন। মোল্লা নিজামুদ্দীন এখানে দ্বীনি শিক্ষার কাজ চালিয়ে যান, এমন সময় এটাই মাদরাসায়ে নিজামিয়া নামে সুপরিচিতি লাভ করে। তিনি গঠনমূলকভাবে অত্যশ্চ বিচক্ষণতার সাথে প্রায় ১১টি বিষয়ের সমন্বিত একটি সিলেবাস প্রণয়ন করেন। ইতিহাসে এটাই দরসে নিজামীয়া বা নিজামী পহ্নতি নামে পরিচিত। ১১০৭ হিজরীতে গাজীউদ্দীন খান আজমীর গেটন্স একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

যা বর্তমানে দিল্লী কলেজ নামে প্রসিহ্ন। এখানের ছাত্রদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মাওলানা কাসেম নানুতুবী, মাওলানা রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহী কালক্রমে মাদরাসাটির শিক্ষা কার্যক্রমের বিকৃতি ঘটে তা কলেজে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে কওমী মাদরাসা ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তথা বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশেও অনেক পূর্ব থেকে অসংখ্য কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সিপাহসালার ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী বঙ্গদেশ বিজয় করার পর রংপুরে তিনি একটি কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে শাহ তুরকান শহিদ বগুড়া অঞ্চলে, শাহ তাকি উদ্দীন আরাবী রহঃ রাজশাহীর মহিসশ্চোষে এবং ১২৭৮ খৃস্টাব্দে বিশিষ্ট মুহাদ্দিস শরফুদ্দীন আবু তায়ামা রহঃ তদানীশ্চন বাংলাদেশের রাজধানী সোনারগাঁয়ে একটি উচ্চমানের মাদরাসা ন্সাপন করেন।

যুগের বহু মসজিদ মাদরাসা আজ আমাদের সামনে নেই; কালের পরিবর্তনে আজ তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সুলতানী আমলে বহু মসজিদ মাদরাসা সরকারি খরচে পরিচালিত হতো। ইংরেজরা এদেশের হ্নাধীনতা হরণ করার পর তা বন্ধ করে দেয়। ঐতিহাসিকদের মতে তো বাংলাদেশে বৃটিশদের আগমণের পূর্বে প্রায় ৮০ হাজার মাদরাসা ছিল। দি ইন্ডিয়ান মুসলমান গ্র‡র লেখক ডাব্লিউ-ডাব্লিউ হাvর লিখেন, মুসলিম শাসনামলে প্রতি আশি জনের জন্য একটি মাদরাসা ছিল।

১২২৭ খৃঃ সুলতান গিয়াস উদ্দিন রাজধানী লক্ষণাবতীতে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকার নবাব শায়েস্তা খানের আমলেও ঢাকার লালবাগ কেল্লার নিকট মাদরাসা ও মসজিদ তৈরী করেন। উইলিয়াম হাvর তার গ্র‡ উল্লেখ করেছেন মুসলিম শাসক আলিবর্দি খানের আমলে বহু মসজিদ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। মুসলিম শাসক ও জমিদারদের অর্থে প্রায় সতের হাজার মাদরাসা পরিচালিত হতো। দীর্ঘকাল এভাবে মাদরাসা শিক্ষার বিস্তার ঘটতে থাকে।

মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ শত থেকে সহস্র গুণ বেগে বাড়তে থাকে। কালক্রমে নজর পড়ে বৃটিশ বেনিয়াদের। এক সময় তারা দখল করে নেয় এই উপমহাদেশের মুসলিম হ্নাধীনতা। প্রায় দু'শ' বছর গোলামীর শৃংখলে আবহ্ন জীবনযাপন করতে বাধ্য ছিল এদেশের মানুষ। ইংরেজদের জুলুম-নির্যাতন হ্নকীয়তা হরণ জনমানুষের রোষের সৃষ্টি হয়।

উপরশ্চু উলামায়ে কিরাম তাদের হীন উদ্দেশ্যের মুখোশ উন্মোচন করতঃ তাদের বিরুহ্নে জিহাদের ফতওয়া দেন। ফলে তাদের বিরুহ্নে প্রচন্ড লড়াই হতে থাকে। এক পর্যায়ে ১৭৫৭ খৃঃ ইংরেজদের সাথে পলাশীর ময়দানে তারা সশদ্ধ সংগ্রামে লিপ্ত হন এবং মুসলিম নেতাদের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে বাহ্যিক দিক থেকে পরাজয়বরণ করেন। ফলে এদেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উৎস জায়গীর ও ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দিলে মাদরাসাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও ইসলামী শিক্ষা থেমে থাকেনি।

সরকারি বন্দোবস্ত না হওয়া সত্ত্বেও মাদরাসার প্রচলন বাকি ছিল। সর্বশেষ ১৮৫৬ সালের বিপ্লবের পর মুজাহিদদের সাময়িক ব্যর্থতায় দিল্লী মারকাজের পতনে ইসলামী শিক্ষার জোয়ার থেমে যায়। এভাবে প্রায় দশটি বছর কেটে যায়। মুসলমানদের ভাগ্যাকাশে অমানিশার অন্ধকার নেমে আসে। জাতি পথ হারা, উদভ্রাশ্চ হয়ে হতবিহবল হয়ে পড়ে।

ইতিমধ্যে হযরত কাসেম নানুতুবী দেওবন্দের দেওয়ান মহল্লায় হ্নীয় শ্বশুরবাড়ী বেড়াতে আসেন। বাড়ী সংলগ্ন সাত্তা মসজিদের ইমাম হযরত আবিদ হোসাইন সাহেবের সাথে মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হওয়ার পর মিরাট থেকে মোল্লা মাহমুদ সাহেবকে ডেকে এনে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দান করে দেওবন্দে পাঠিয়ে দেন। অবশেষে ১৮৬৬ সালের ৩০ মে বুধবার ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠ দারুল উলুমের উদ্বোধন হয় সাত্তা মসজিদের বারান্দায় ডালিম গাছের নিচে। মোল্লা মাহমুদ সর্বপ্রথম ছবক দান করেন সর্বপ্রথম ছাত্র শায়খুল হিন্দ হযরত মাহমুদ হাসানকে দিয়ে। কি চমৎকার কাকতালীয় ব্যাপার।

ছাত্র-উস্তাদ একই নাম। তাও মাহমুদ (প্রশংসিত)। আল্লাহপাক মানুষের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা বহ্নমূল করে দিয়েছেন। তখন এই মাদরাসাটি দেওবন্দ আরবী মাদরাসা নামে পরিচিত ছিল। ১২৯৬ হিজরীতে সদরুল মুদাররিসীন হযরত ইয়াকুব নানুতুবী রহঃ-এর প্রস্তাবে মাদরাসার নামকরণ করা হয় দারুল উলুম দেওবন্দ।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.