আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হাবিজাবি কথন

পরাঞ্জয়ী...

ছোটবেলায় আমি খুব ভদ্র মেয়ে ছিলাম। মা কে খুব হেল্প করতাম। চার বছর বয়সে আমাকে স্কুলে ভর্তি দিয়েছিল। তো প্রথম দিন স্কুলে গেলাম। সবাই আমার থেকে বড়।

পিটি করার সময় এক স্যার লাঠি নিয়ে ঘুরছিল। আমি দেখেই..........................ভেজা কাপড়ে তো আর স্কুল করা যায়না। /#. এক আঙ্কেল মোটর সাইকেলে বাসায় দিয়ে গেল! তারপর আর প্রবলেম হয়নি। প্রত্যেক সাপ্তাহিক মাসিক আর বার্ষিক পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়ার সুবাদে বেতের স্বাদ কোনদিন নিতে হয়নি আমায়। তবে হেডস্যার ছিল দারুন পাজি।

আমার মাথায় ডাস্টার রেখে বলতো "দুষ্টুর শিরোমনি লঙ্কার রাজা, চুপিচুপি খাও শুধু চানাচুর ভাজা" বলেন তো আমি কী দুষ্টু? একবার দাদুবাড়ি বেড়াতে গেলাম। মেজ চাচার সাথে গ্রামের হাটে গেলাম নাচতে নাচতে। তো মেজ চাচা বাজার করছে। আমিও ঘুরে ঘুরে দেখছি। এর আগে এত মানুষ একসাথে দেখিনাই।

কত দোকান কত কিছু! কী সুন্দর সুন্দর সবুজ সবজিমাছ গুলা কত লাফায়। আমার তো আনন্দ ধরেনা। ইচ্ছে করলে বাবাও আমাকে এগুলো দেখাতে পারত। চীন্তা করেন আব্বুটা কত পচা, ামাকে দেখায়নি! তো আমি দেখছি এর মাঝে মেজ চাচাটা যে কোথায় চলে গেল আমাকে রেখে। কী আজব কথা সে দেখে রাখবেনা আমাকে?!!! আমি না হয় এসব ঘুরে ঘুরে দেখায় ব্যস্ত! সামনে পেছন, ডানে বামে চাচাকে না পেয়ে শুরু করলাম ২০০০০ হার্জে কান্না।

ভাগ্য ভাল সেদিন পরিচিত একজন বাড়ি পৌছে দিয়েছিল। নয়ত আজ আপনারা এই ব্লগার ফারা কে কোথায় পেতেন? আমি মা কে খুব হেল্প করতাম কাজে। যেমন ঘর ঝাড়ু দিতে দিতে বাবার আমার আমার ভায়ের সব কাপড় ঝাড়ু দিয়ে ফেলে দিতাম বাইরে। আমার ভাইটা তখন বিড়াল ছানার মত সারাদিন দুদু খায় আর ঘুমায়! কোন কাজ নাই, পড়াশুনা নাই। খালি হাগুনি আর হিসুনি করে করে ঘর নোংরা করে! ছোটবেলায় আমার খেলার সাথি ছিল তুরান।

আমার বুদ্ধি শুনে ও নদির পাড়ে কাঁদা মাখত, খেলত আর বাসায় গিয়ে মায়ের মার খেত। অবশ্য আমি খালি হাতে কাঁদা মাখতাম হাত ধুয়ে বাসায় যেতাম আম্মু টের পেতনা টেলিভিশন দেখতে আমি খুব পছন্দ করতাম। আব্বু আমি আর আমার আম্মু একসাথে বাংলা সিনেমা দেখতাম। নায়ক নায়িকারা যখন নাচত আব্বু বলতো ওরা ভাই বোন। ভাই তার বোন কে খুব আদর করে তো তাই নেচে নেচে গান শোনাচ্ছে! আমিও বিশ্বাস করতাম।

এখনও মনে পড়ে সিনেমা দেখতে বসলে। তখন মনে হত আমার ভাইটা বড় হলে আমিও নাচবকী মজা হবে! ছোট বেলায় সকেট দেখলেই আমার মনে হত কিছু একটা ঢুকাই ওটায়। একবার একটা পিন নিয়ে সোফায় উঠে ঢুকালাম সকেটের ভেতর। আর যাই কই এক আছাড়ে সোফা থেকে মাটিতে চিৎপটাং। একদিন আম্মুর সেলাই মেশিন এর সুইয়ের নীচে হাত দিয়ে চাকা ঘুরালাম।

ভাবলাম দেখা যাক এই শিল্পকর্ম কী রকম হয় আমাকে দিয়ে যেইনা ঘুরানো ওমনি আঙুল এফোঁড় ওফোঁড়। আর লিখতে পারব না যান

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।