আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রবাসে ঈদ... প্রবাসের ঈদ...

পিছনের পায়ের ছাপের রেখাটা র্দীঘ আর অস্পষ্ট হয়ে আসছে... ক্রমশঃ...
সক্কাল বেলাতেই মেজাজটা চরম খারাপ হয়ে গেলো... ইচ্ছা করছে ওরে ধরে একটা আছাড় দেই। ঈদের দিন সক্কাল বেলাতেই এইরকম অত্যাচার সহ্য করা যায়? রাগে গা জ্বলছে...। এই মোবাইলের এর্লামটা এতো কর্কশ...। উফ অসহ্য। গজরাতে গজরাতে উঠলাম ঘুম থেকে।

ঘড়িতে দেখি সকাল ৭.০০টা। ওরে বাবা, ধরফড়িয়ে উঠে বেসিনে দাড়াঁতেই মনে পরলো আব্বার কথা। প্রতিটি ঈদের সকালে আব্বা এসে মাথায় হাত বুলিয়ে ডাকতেন বাবা উঠ নামাজের বেশি সময় নাইরে...। নিজেকে তৈরী করলাম ঈদের নামাজের জন্য...। মাঝে একবার রানীকে একটা বকাও দিলাম তৈরী হতে দেরী করলো বলে রানীকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দিলাম ওসাকা ইসলামী কালচারাল সেন্টারের দিকে।

ওসাকায় এই সেন্টারটাই মূলতঃ মুসলমানদের জন্য নামাজ, ঈদের জামাত সহ সকল ইসলামী কার্যক্রমের কেন্দ্রস্থল হিসাবে বিবেচিত হয়। সেন্টারের উপরে দোতলায় মেয়েদের নামাজের জায়গা। আর নিচতলায় ছেলেদের। সেন্টারের উদ্দ্যেশ্যে একাকী পথে হেটে চলেছি আমরা দু'জন... একাকী পথ- বারবার মনে পরে যাচ্ছে ঈদের সকালে আব্বার সাথে ঈদগাতে যাবার কথা...। হঠাৎ পেছন থেকে ক্যাচ করে শব্দ।

ফিরেই দেখি ব্লগার তোমোদাচি ও জুনিয়র তোমোদাচি (বুঝছেন তো???) দুই চাকার গাড়ীতে করে যাচ্ছেন সেন্টারের দিকে। এখানে সাইকেল না বলে গাড়ী বলার কারণ হচ্ছে, জুনিয়র তোমোদাচি কিছুদিন আগে এক ইফতার পার্টিতে ইফতারের আগে দোয়ার সময় সবাই যখন দোয়া করছে, তখন দোয়া করতে করতে চিৎকার করে দোয়া করেছে... আল্লাহ গাড়ী দাও.... গাড়ী দাও আল্লাহতায়ালা... কথা বলতে বলতে পৌছে গেলাম সেন্টারে...। সেন্টারের বাহিরে, ভেতরে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক বাংলাদেশী ভাইদের সাথে দেখা হলো। নামাজের আগে শুরু হলো তোমোদাচি ও জুনিয়র তোমোদাচির মল্লযুদ্ধ... গাড়ীর জন্য গভীর ভাবে দোয়াও চললো কিছুক্ষণ... কিছুক্ষণ পরেই শুরু হলো নামাজ, অতঃপর খুতবা।

অতঃপর কোলাকুলি...। আর সবশেষে ফটোসেশন... আমরাও একটু ফটোসেশন করলাম... শুরু হলো সারাদিনের যাত্রা। সারাটা দিন টো টো করে ঘুরলাম ওসাকার বিভিন্ন বাংলাদেশী ভাইদের বাসায়। কতজন মিলে জানেন? মাত্র ৪৫-৫০ জনের একটা ছোট্ট দল নিয়ে...। সন্ধ্যায় আর দলের সাথে থাকতে পারলাম না।

খেতে খেতে শরীর ভীষণ ক্লান্ত মনে হওয়ায় চলে আসলাম বাসায়। সঙ্গে দুইজন বাংলাদেশী ভাই। সেরে ফেললাম ডিনার। কিছুক্ষণ পর উনারাও দৌড় লাগালেন বাস ধরবেন বলে। যে সব খেয়ে খেয়ে ক্লান্ত হলাম- আরো ছিলো, ছবিতুলতে ভুলে গিয়েছিলাম।

ফোনটা নিয়ে বসলাম দেশে কথা বলার জন্য...। তারপরের কথাগুলো না বলাই ভালো...। কারণ, কালরাতে চাঁদরাতের একটা পোষ্ট দিয়ে এমনিতেই অনেকের মন খারাপ করে দিয়েছি। আর মন খারাপ করতে চাইনা। শুধু একটা কথাই বলবো... সবশেষে যখন আপাকে ফোন করেছি, দেড়-দুই বছরের ছোট ভাগনিটা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো মামা... মামা... মামা... মামা... মামা... মামা... মামা...।

আর কিচ্ছু বলছিলো না, কারণ ও এই কথাটা ছাড়া আর কিছু ঠিকমতো বলতে পারেনা... বসলাম ব্লগে এই পোষ্টটা লিখতে...। এই হলো প্রবাসে ঈদ... প্রবাসের ঈদ...। আমরা যারা দেশের বাহিরে আছি, আমাদের শত ব্যাস্ততার মাঝে বের করে নেয়া সময়গুলোতে শেয়ার করে নেই একে অন্যের আনন্দ, দুঃখ, হতাশা, সুখ অপরের সাথে। আগামী পরশু আছে ঈদ পরবর্তী পার্টি...। উল্লেখ্য জাপানে সিলভার উইকের জন্য প্রায় ৫ দিনের একটা ছুটি পাওয়া গিয়েছে উইকএন্ড সহ।

আর দ্বিতীয় দিনেই পরেছে ঈদের দিন। তাই খুব উৎসবের আমেজেই কাটবে দিনগুলো। কিন্তু মনটা পরে থাকবে সুদুর এক স্বপ্নীল দেশে...। যেখানে বাবা আমার অপেক্ষায় রয়েছে সন্তানের ফেরার আশায়... মা আমার দিনগুনছে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দেয়ার আশায়। জানি কাল যখন আব্বা ঈদের নামাজ পরে দোয়া করবেন, মা আমার জায়নামাজে বসে আল্লাহর দরবারে হাত তুলবেন... সন্তানের কল্যাণই একমাত্র চাওয়া হবে তাদের।

কাল সারাটাদিন হয়তো অনেক ব্যস্ততায় কাটবে উনাদের সময়গুলো। তবুও হয়তো কোন দীর্ঘশ্বাসে ভেসে আসবে সন্তানের মুখ...। আর হাজার মাইল দুর থেকে সন্তানের মুখ থেকে বারবার অস্ফুর্তে হয়তো ভাসবে... মাগো... তোমার আচঁল তলেই আমার সব আনন্দ, আমার সব খুশি... ভালো থাকবেন সবাই... ঈদ মোবারক...
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।