আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমেরিকার ভয়ে পাকিস্তান যাই না



আমার এক বেয়াই আছে, (ভাবীর বড়ো ভাই) একসময় এমিরেটস এয়ার লাইন্সে চাকুরী করতেন, বহুদিন হয় রিটায়ার্ড, বর্তমানে আয়ারল্যান্ড প্রবাসী। কয়েক বছর আগে শেষবার যখন দেশে এসেছিলেন, কথা প্রসংগে মজা করে বলেছিলেন ‍"আমি তো পাকিস্তান যাই না আমেরিকার ভয়ে"! কথাটা শোনার পরপরই কোনো অর্থদ্যোতকতা তৈরি হয়নি মনে। প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে তাকিয়ে ছিলাম তার মুখের দিকে। ব্যাখ্যা করে বললেন: "দেখো বাছা, ম্যালাদিন ধরে পাকিস্তানের অমুক কোম্পানীর তমুক কর্তা আমাকে বেড়াতে যাবার জন্য খুব করে ধরে আছেন। যাকে বলে কাঁঠালের আঠা।

থাকা-খাওয়া বেড়ানো, ইত্যাদি সব খরচা তার। আমার শুধু পদধুলি দেয়া নিয়ে কথা! কিন্তু তাকে নিরাশ করে আমি বলি, দেখেন ভাই পাকিস্তানে গেলে মাঝখান থেকে আমার আমেরিকা যাওয়ার বারোটা বাজবে! একবার যদি পাসপোর্টে পাকিস্তানী সিল লাগাই, ভাবতে পারেন সেটা নিয়ে কেমন গবেষনা করবে আমেরিকার ইমিগ্রেশন বিভাগ? তবে খালি যদি একটা জাল/গলাকাটা পাসপোর্ট থাকতো, তাহলে আর পাকিস্তান যাওয়া কোনো সমস্যা হতোনা! সেদিন ভারতীয় সিনেমার একজন আইকন হিসেবে পরিচিত শাহরুখ কানকে নিয়ে যে কান্ডটা করলো তারা, এরপর বেয়াইয়ের কথাকে আমল না দিয়েও উপায় নেই। নিউজউইক ম্যাগাজিনের শীর্ষ ৫০ প্রভাবশালী মানুষের তালিকায় http://en.wikipedia.org/wiki/Newsweek যার নাম তাকে চিনতে ভুল করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তারা। রেকর্ড সংখ্যক ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড ছাড়াও ষ্টার স্ক্রীন, ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম এওয়ার্ড বা আইফা, জি-সিনে সহ কয়েকশো পদক পাওয়া এই তারকা ২০০৪ সালে পেয়েছেন বৃটিশ-এশিয়ান গিল্ড এ্যাওয়ার্ড ফর বেষ্ট এক্টর অব দ্য ডিকেড; এছাড়াও ছোটবড় আরো শ'খানেকের সাথে যার বিজয়মুকুটের পালকে যুক্ত হয়েছে "রাজীব গান্ধী", "পদ্ম-শ্রী"। ২০০৪ সালে টাইম ম্যাগাজিন এশিয়ার ৪০ বছরের নিচে ২০ জন হিরোর যে তালিকা প্রকাশ করে, সেখানে জায়গা করে নেন শাহরুখ খান।

লন্ডনের মাদাম তুসো আর প্যারিসের গেভিন, উভয় মিউজিয়ামেই বছর দুয়েক আগেই জায়গা পেয়েছে তার মোমের মূর্তি। চলতি বছর ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটি তাকে আর্টস এন্ড কালচারে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রী দিয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে চিনতে পারাটা অবশ্যই মার্কিন ইমিগ্রেশনে কর্মরতদের জন্য ফরজ নয় কোনো মতেই। কথা হলো, এই লোককে চিনতে না পারলে আর কা-কে চিনবে? নাইন ইলেভেনের পর আমেরিকায় মুসলমানদের জন্যে বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন ছবি "মাই নেম ইজ খান" এর কাজ করার জন্যেই আমেরিকা যান শাহরুখ। এরিমধ্যে ছবিটির প্রচারনার জন্যে বারো কোটি পাউন্ডের চুক্তি করেছেন মার্কিন ডিষ্ট্রিবিউটর কোম্পানী ফক্স-সার্চলাইটের সাথে।

আমি শাহরুখ খানের একজন ফ্যান, তবে বিগ ফ্যান বলতে যা বুঝায় ঠিক তা-না। আবার মার্কিন ইমিগ্রেশন বিভাগের একজন বোদ্ধা সমালোচকও না। এখনো একবারও তাদের মুখোমুখিই হতে হয়নি! এই ঘটনার পর শাহরুখ-ভক্ত ভারতের এক মন্ত্রী বলেছেন, মার্কিন ভিআইপদেরও এভাবে ওয়েলকাম করলে কেমন হয়? অনেক মিডিয়ায় আরো মজার মজার সব প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কোথায় যেনো দেখলাম জনৈক লেখক প্রশ্ন রেখেছেন ভারতে এলে যদি আর্নল্ড শোয়ার্জিনিগারকে চিনতে না পারে পুলিশ?সেই শোয়ার্জিনিগার নিজে অবশ্য বিষয়টার সুরাহা করতে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে শাহরুখ খানকে একান্ত বৈঠকের আমন্ত্রন জানিয়েছেন। আর এই বলিউড লিজেন্ডকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের জন্যে সহজপাচ্য বানাতে গিয়ে..চেনাতে গিয়ে নিউজউইক ম্যাগাজিন বলেছে শাহরুখ খান হলো বলিউডের টম ক্রুজ!!! (কিঞ্চিৎ বড় হয়ে যাওয়ায় দু:খিত)


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.