আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিবর্ণ বাস্তবতা

মূল নাম: সময় হলে ঠিকই জানবেন, ছদ্মনাম: নবনয়ন, পেশা : বেকার, নেশা: গান গাওয়া, বেকারত্ব যাপন: লেখালেখি করে, শিক্ষাগত যোগ্যতা : MBA(FINANCE), রাশি: বৃশ্চিক

[বিঃ দ্রঃ এই কাহিনী সে সময়ের, যখন বাংলাদেশের মানুষের কাছে মোবাইল ফোন ছিল সদ্য জনপ্রিয় কিন্তু দুর্লভ। কল্ চার্জ ছিল মিনিট প্রতি ৭ টাকা। আর, ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং সাইবার ক্যাফে-র বিষয়টা ছিল পত্রিকায় পড়ার বিষয়, মানুষের মুখে মুখে শোনার বিষয়, কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং সাইবার ক্যাফে সম্পর্কিত জ্ঞান ওই পত্রিকায় পড়া বা শোনা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। ] ঠিক সকাল ৭ টায় ল্যান্ড ফোনটা বেজে উঠল। আমি তখন সবে মাত্র ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট সারছিলাম।

উফ্! এই অসময়ে কে ফোন্ করল? "এই রানা! দ্যাখ তো, কে ফোন্ করল। " (আমার বাবা চেচিয়ে ফোন্ ধরতে বললেন) কি যে বিরক্ত লাগে, কেউ অসময়ে কল্ করলে। দেখি গিয়ে, কে ফোন্ দিল। "হ্যালো!" "কে! রানা?" "হ্যা! কে?" "আরে, আমি তোর রিয়াজ ভাইয়া। (রানার আপন খালাত ভাই।

রানার চেয়ে বয়সে মাত্র এক বছরের বড়। )" "রিয়াজ ভাইয়া! তোমার আক্কেল-জ্ঞান কবে হবে বলতো!" "কেন (হেসে)? আমি আবার কি করলাম" "এই সাত সকালে কেউ কাউকে ফোন্ করে?" "হা হা হা হা! এই কথা! আমি তো ভাবলাম কি না কি করে ফেললাম। আসলে কলেজ জীবন পার করে ইউনিভার্সিটিতে আজ তোর নতুন ক্লাশ, এ বিষয়ে তোর অনুভুতিটা কি- তা জানার জন্য ফোন্ করা। " "আর বলো না। গতরাতে তেমন ভাল ঘুম হয়নি।

আসলে আমি খুবই excited" " আমি জানতাম। কারন গত বছর আমার অনুভুতিটাও তোর মতই ছিল। খুবই excited ছিলাম। তবে আমাদের (পাবলিক) ইউনিভার্সিটিতে আঠারো মাসে বছর কাউন্ট করা হয়, আর তোদের (প্রাইভেট) ইউনিভার্সিটিতে এগারো মাসে বছর (দু'জনেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল)। " "আচ্ছা, এখন আমাকে ফোন্ রাখতে হবে।

ঠিক সকাল ৮টায় আমাদের orientation। " "ঠিক হ্যায়, ব্রাদার। আপনাকে আর বেশিক্ষণ আটকে রাখবো না। সুন্দরভাবে ইউনিভার্সিটি লাইফ্ শুরু কর্। আর, কয়টা মেয়ে বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব হল- টা জানাবি কিন্তু।

এই তৃষ্ঞার্ত ভাইকে একটু নলেজে রাখবি। হা হা হা। Take Care" "OK, Bye। " ঠিক ৭:৪৫ এ আমি আমার নতুন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে পৌছলাম। কোনটা আমাদের ফ্যাকাল্টি, কোথায় আমাদের orientation হবে কিছুই তো বুঝতে পারছিনা।

আর এখানে চেনা-জানা এমন কাউকে তো দেখছিনা যে তাদের কাছ থেকে information চাইব। ধ্যাৎ! ঐ যে একজনকে দেখা যায়। এখানকার student বোধ হয়। "এই যে ভাই শুনেন!" "জি, বলেন। " "ভাই, আপনি কি বিজনেস্ ফ্যাকাল্টির student?" "হ্যা" "ফার্স্ট সেমিস্টরের students দের orientation কোথায় হবে?........।

" "অডিটরিয়ামে। গ্রাউন্ড ফ্লোরে ঐ যে সোজা........। " "OK। Thank you ভাইয়া। " ঐ সিনিয়র ভাইয়ার হেল্প পেয়ে অডিটরিয়াম খুঁজে বের করতে তেমন বেগ পেতে হ্য়নি।

আরে! আমরা মাত্র এই ক'জন! বাকীরা বোধ হয় এখনো আসেনি। আর, এখানে সবাই দেখছি আমার অপরিচিত। সামনের সিটের একজন আমার দিকে এগিয়ে আসছে। বোধ হয় সে আমার সাথে পরিচিত হতে চায়। "হাই! আমি রানা!" " আমি আবেগ।

মুশফিকুল আনোয়ার (আবেগ)। " "ভারি সুন্দর নাম তো! কোন্ কলেজ থেকে?".....। এভাবে আবেগের সাথে আলাপ জমে উঠল।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।