আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বোকা সময় : শিরোনাম-১

আমি বোহেমিয়ান বালক। মানবিক ভালবাসার বড়ই কাঙাল। ব্যস এটুকুই। ও হ্যা, ভালবাসি আশ্চর্য মেঘদল।

খুব সাধারণ একটি ছেলে।

একটু বোকা টাইপের,কিন্তু প্রচন্ড অভিমানী। বোকা বলেই হয়তো তুমুল অভিমানী সে। সাধারণ একটি মন ছিল তার। তাই তার স্বপ্নদেখা গুলো হতো খুবই সাধারণ। অনেক কিছু পাওয়ার ভিতর ডুবে থেকেও এই ছোট্ট ছোট্ট চাওয়াগুলো পূরণ না হওয়ার দূ:খে, ক্ষোভে সে চুপচাপ অভিমানী হত।

বোকা বলেই হয়তো। এই বোকা ছেলেটির ঐ একটিই আশ্রয়স্থল ছিল, একমাত্র শান্তনা ছিল তার প্রিয় মা। মাকে ছাড়া বুঝতো না অন্য কিছু। অবুঝ বোকা ছেলেটি বড়দের ইচ্ছেমত একদিন ভর্তি হলো বিদ্যাপিটে। সেই অবুঝ বেলায়ও বুঝেছিল এটি তার চলার পথ নয়।

তারপরও বোকা ছেলেটি ছোট্ট বুকে বিশাল অভিমান নিয়ে জীবনের পথচলা শুরু করলো ভিন্নভাবে। এভাবে দিন যায়, জীবনের গতিপথ পেরোয় একটার পর একটা সিড়ি। আর বোকা ছেলেটি বোকায় থেকে যায়। চোখের পলকে পার হয় আটটি বছর। বোকা ছেলেটি একটু একটু বুঝতে শিখেছে।

তার জীবনের চাওয়া পাওয়া বলতেও শিখেছে। কি করে যেন বুঝে গেল তার জীবনের সামনের লম্বা পথটার মানচিত্র আকতে হবে তার শিক্ষা জীবনের নবম বছরে। তাই সে আবারো আশায় বুক বাধলো। ভবিষ্যত জীবনের একটি আশা সে করে ফেললো মনে মনে। কিন্তু সে জানতো না তার এই আশা যদি ভেঙ্গে যায় তাহলে ভবিষ্যতে তার কতটুকু প্রভাব পড়বে জীবনের মানচিত্রে।

ভবিষ্যত জীবনের লক্ষ্য নিয়ে ভর্তি হলো শিক্ষা জীবনের এক অধ্যায়ে। একটি বছর বোকার স্বর্গে বাস করা ছেলেটি লেখাপড়া করলো বইয়ের পাতায় নাকমূখ ডুবিয়ে। হঠাৎ একদিন সে জানলো তার লক্ষ্য পূরণ হবেনা। অভিভাবকদের কাছে পরাজিত হলো তার জীবনের তুমুল একটা স্বপ্ন। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া বড় বিষয় ছিলনা,বরং বিষয় ছিল তার ছোট্ট বোকা মনের প্রচন্ড আশাটা হঠাৎ করে রক্তাক্ত হওয়া।

রাগে, ক্ষোভে, অভিমানে জর্জরিত হৃদয় নিয়ে শেষ হলো তার শিক্ষা জীবনের প্রথম অধ্যায়। । একে একে আরো কয়েকটি বছর কাটলো ইচ্ছের ঘোর বিরুদ্ধে। তারপরো কিছু টুকটাক স্বপ্ন নিয়ে বাচতে চাওয়া ছেলেটির অভিমান বাড়াতে বিধাতাও চাইলেন অন্যদৃষ্টিতে। স্বপ্ন ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বিরক্ত হওয়া বোকা ছেলেটি হাল ছেড়ে দিল নিয়তির উপর।

ছেলেটির দিনগুলো তারপর থেকে পানসে হলো। তার দিন যেত বোবা দিন, রাত যেত বোবা রাত। বোবা সময় পার করে দিত নিশ্চুপ একা একা। ভয়ে আর কোন স্বপ্ন আসতোনা তার স্বপ্নরাজ্যে। সেই থেকে স্বপ্নহারা।

জীবনের একটা অংশের স্বপ্নগুলো ভাঙ্গার খেলায় দিশেহারা ছেলেটির খেয়াল ছিলনা অন্য অংশের কথা। ছেলেটি যে আস্তে আস্তে শিশুকাল পেরিয়ে বালক হলো, বালক থেকে তরুণ হলো তা তার খেয়ালই ছিলনা। একা নিশ্চুপ বোকা ছেলেটি তার তরুণকালে স্রেফ ভাগ্যগুনে পেয়ে গেল একটি সুন্দর বন্ধু। হয়তো বিধাতার করুণায়। ছেলেটির স্বপ্নগুলো ভাঙ্গার অভিমানে তার বুকে যে পাথরের সৃষ্টি হচ্ছিল তা দেখে হয়তো ঈশ্বর নিজেই ভয় পেয়েছেন।

তার পাথর বুকে ফুল ফোটাতে ছেলেটির বোকা হৃদয়ে পাঠালেন এক নীল কন্ঠ পাখী। চড়ুই পাখী। চড়ুই পাখীর ঠোঁঠে পাঠালেন একটি নীল পদ্ম। ছেলেটির বুকের ভাঙ্গা জঞ্জালের ভিতর চড়ুই বাধলো বাসা। চাষ করলো নীল পদ্মের।

আস্তে আস্তে মরু হৃদয়ে ফুটলো ফুল, নেচে উঠলো বোকা ছেলেটির বোকা হৃদয়। ইচ্ছের বিরুদ্ধে এতটা বছর পার করতে করতে ইচ্ছেগুলো মরে যেতে বসেছিল। নীল পদ্মের সুভাসে তারা আবার প্রাণ ফিরে পেল। স্বপ্নের জীবিত কঙ্কালগুলো তার মায়াবী ছোঁয়ায় আবারো ফুলেল হলো। ..........................................তারপর?


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।