আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অন্ধের দেশে কানাই রাজা হয় - ০২

জীবন বুনে স্বপ্ন বানাই মানবজমিনে অনেক চাষ চাই

প্রথম পর্ব তৎকালীন বিএনপির রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। দেশ অরাজকতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে। ৩ দিন, ৪ দিন টানা হরতাল দেয়া হতে থাকে। স্থবির হয়ে পড়ে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ সকল মহল। ২২ জানুয়রি ২০০৭ তারিখে ঘোষিত সাধারণ নির্বাচনে প্রথমে আওয়ামী লীগ যোগদান করার কথা বললেও পরে বয়কট করার ঘোষণা দেয়। চরম অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যায়। আবারও একটি এক তরফা অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ঘটে। ১১ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেন।

পরবর্তীতে ড. ফখরুদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার কথা থাকলেও আইনের ফাঁক গলে সেই সরকার ২ বছর ক্ষমতায় থাকে। তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহম্মেদ দৃশ্যত ক্ষমতা দখল না করলেও আড়ালে যৌথবাহিনীর নামে দেশে সেনাবাহিনী সকল কিছু তদারকি করছিল। জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য জেলায় জেলায় সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। কী করেছে তারা এই ২ বছরে ? প্রথমেই তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করেছে। দুর্নীতির মামলা করে একে একে রাজনীতিবিদদের জেলে ঢুকিয়েছে। যাদের আমরা আইনের উর্ধ্বে ভাবতাম তাদেরকেও জেলে প্রেরণ করেছে। ২ নেত্রী, তারেক-কোকো, বাবর, মামুন ইত্যাদি ব্যক্তি কখনও জেলে ঢুকবে কখনও ভাবেনি কেউ । তারা দুর্নীতি মামলায় জেলে গিয়েছিলেন অথবা কেউ কেউ জেলে গিয়ে দুর্নীতি মামলায় ফেঁসে গিয়েছিলেন।

আমাদের জনগণের ভূমিক কী ছিল তখন ? জরুরি আইন জারি ও নতুন সরকারকে দারুণভাবে লুফে নিয়েছিলাম আমরা। দুর্নীতিবাজদের জেলে প্রেরণ করায় সবাই ছিলাম খুশি। অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির বহর দেখে। তাদের ধরে জেলে প্রেরণ করায় সরকারকে বাহবা দিচ্ছিলাম আমরা। কিন্তু যখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি শুরু হল তখনই ওই সরকারকে আর ভালো লাগেনি আমাদের।

প্রথম দিকে খুব তোড়জোর করে নেতানেত্রীদের জেলে ঢুকালেও শেষের দিতে সরকার পলিসি বদলে ফেলে। প্রথম দিকে মাইনাস টু নিয়ে এগুলেও শেষের দিকে ম্যানেজ টু করতে থাকে থাকে সরকার। ফলে ২ নেত্রী মুক্তি পান এবং সীমিত পর্যায়ে ঘরোয়া রাজনীতির অনুমোদন দেয়া হয়। সরকার বুঝে যায়, এদেশের রাজনীতিতে ২ নেত্রীই শেষ কথা। অন্য দিকে সরকার প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়।

পুরোনো কমিশনাররা বিদায় নেয়। নতুন কমিশনাররা নানামুখী কার্যক্রম হাতে নেন। জারি হয় ভোটার তালিকা অধ্যাদেশ, ২০০৭ । নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া হিসেবে জারি করা হয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০০৮ । (চলবে)


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।