আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পিলখানা হত্যাযজ্ঞঃ গণমাধ্যমে কার মুখ?

আহসান মোহাম্মদ

পিলখানা হত্যাযজ্ঞঃ গণমাধ্যমে কার মুখ? আলফাজ আনাম পিলখানা হত্যাযজ্ঞ তথা বিডিআর বিদ্রোহের সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেনাকর্মকর্তাদের বৈঠকেও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বলে সংবাদপত্রে খবর এসেছে। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ মাধ্যম বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সংবাদ যেভাবে প্রচার করা হয়েছে, তাতে বিদ্রোহীদের অনেকটা বীর হিসেবে তুলে ধরে তাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি নায্যতা আদায়ে গণমানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। ২৫ তারিখ দুপুরের মধ্যে রটে যায় বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে বারোটার দিকে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এনডিটিভি খবরটি প্রচার করার পর তা আরো ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু দুই দিনে এসব গণমাধ্যমে আটক সেনাকর্মকর্তাদের ব্যাপারে কোনো খবর প্রচার করা হয়নি, এমনকি দু’জন সেনাকর্মকর্তার লাশ সুয়ারেজ লাইন দিয়ে ভেসে যাওয়ার খবর প্রচারের পরও অন্য সেনাকর্মকর্তাদের ব্যাপারে তেমন কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি। একটি টেলিভিশন চ্যানেল বিদ্রোহীদের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার প্রচার করলেও সে সময় পিলখানায় অবস্থানরত সেনাসদস্যদের ব্যাপারে কোনো কিছু জানতে চাওয়া হয়নি বরং তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। বিডিআর সদস্যরা যতবার গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন ততবারই সেনাকর্মকর্তাদের ব্যাপারে বিষোদগার করেছেন এবং তারা সেনা কমান্ডে থাকবেন না বলে জানিয়েছেন। এসব গণমাধ্যম বিডিআর জওয়ানদের ‘বিদ্রোহী’ বলছে, আবার তাদের বক্তব্যের সমর্থনে জনমত তৈরি করেছে। অর্থাৎ তারা রাষ্ট্রের আইন-কানুন ও নীতির প্রতি সম্মান দেখায়নি বরং তাদের ভূমিকা ছিল বিদ্রোহ উসকে দেয়া।

বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের মতোই সে সময় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মধ্যে এক ধরনের সেনাবাহিনীর প্রতি বিদ্বেষ লক্ষ করা গেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি দৈনিকে বিডিআরের বিদ্রোহের সমর্থনে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। যার দুটো শিরোনাম ছিলো ক্ষুব্ধ জওয়ানদের দাবি ও নানা অভিযোগ এবং এই বিদ্রোহ পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, তবে কাম্য নয়। সেনাবাহিনীর প্রতি এই বিদ্বেষ কেন, তার রূপ কেমন সে সম্পর্কে পরে আলোচনা করব। বাস্তবতা হচ্ছে, গণমাধ্যম বিডিআর সদস্যদের বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বক্তব্যের প্রতি সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে।

একই সাথে সেনাবাহিনী কোথায়, কখন, কিভাবে অবস্থান করছে তারও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। ফলে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের ব্যাপারে সেনাতৎপরতার খবর তারা আগেই জানতে পেরেছে এবং হুমকি দিয়েছিল যে সেনাবাহিনী এলে তারা আরো অস্ত্র ব্যবহার করবে। আশ্চর্যজনক দিক হচ্ছে, বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা যখন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে যান তার আগে-পরে এসব বিদ্রোহী নেতা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সেভাবে জিজ্ঞেস করা হয়নি সেনাকর্মকর্তাদের ভাগ্যে কী ঘটছে। এমনকি মুখোশ পরা যাদের সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয় তাদের নাম-পরিচয়ও জানতে চাওয়া হয়নি। সে সময় যদি দুয়েকজনের নাম জানতে চাওয়া হতো, তাহলে ঘটনার হোতাদের খুঁজে বের করা আরো সহজ হতো।

কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার এই গণমাধ্যমের ভূমিকা পাল্টে যায়। হতাহতের খবর, লাশ অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন ধরনের মানবিক আবেদনসম্পন্ন খবর প্রচার করতে থাকে। কিন্তু এর মধ্যে বিদ্রোহীদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাতে সংবাদ মাধ্যমকে তারা ভালোভাবে ব্যবহার করে। এখন প্রশ্ন হলো সংবাদ মাধ্যম কী প্রকৃত অর্থে হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে অনুমান করতে পারেনি বলে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পারেনি? কিন্তু তাদের এ বোধোদয় কেন হলো না যে, একজন মেজর জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা মারা গেছেন, একজন কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার হয়েছে এবং সেখানে দেড় শতাধিক কর্মকর্তা আটকে আছেন। আর যেহেতু বিদ্রোহ হয়েছে সেহেতু তারাও মৃত্যুর মুখোমুখি।

এই বোধোদয় না হওয়ার কারণ হলো, আমাদের দেশের কতিপয় সংবাদ মাধ্যমের চিরাচরিত সেনাবাহিনীর প্রতি বিদ্বেষ। আমাদের বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরোধিতা করে আসছেন। এটা শুধু গত দুই বছরের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকাণ্ডের জন্য নয়। এর অনেক আগে থেকে তারা সেনাবাহিনীর বাজেট কমানো, তাদের পেছনে কেন খরচ করা হচ্ছে, এত বড় সেনাবাহিনীর কোনো প্রয়োজন আছে কি না এসব প্রশ্ন তোলা হয়। এরাই আবার নিজেদের সুশীল সমাজ হিসাবে দাবি করে।

প্রতি বছর বাজেট পেশের পর কয়েকটি দৈনিকে নিয়মিত একটি সংবাদ থাকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অন্য নানা খাতের চেয়ে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনামূলক রিপোর্ট। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এসব সংবাদপত্র রৌমারী ঘটনার পর বিডিআর’র বিরুদ্ধে যায় এমন সংবাদ ও ছবি প্রকাশ করেছিল। গণমাধ্যমের একটি অংশের মধ্যে এই যে সেনাবিদ্বেষ কাজ করছে এই মনোভঙ্গি থেকে অতি উৎসাহের সাথে বিডিআর বিদ্রোহের খবর ও ফুটেজ প্রচার করছে। এখন বিডিআর ঐতিহ্য এবং আগ্রাসন প্রতিরোধে তাদের অকুতোভয় লড়াইয়ের ইতিহাস বেমালুম চেপে যাওয়া হচ্ছে। যেন বিডিআর মাত্রই খারাপ।

সেনাবাহিনীবিরোধী এই গোষ্ঠী গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সরকার পরিচালনায় কলকাঠি নেড়েছে। তথাকথিত সুশীল সমাজ হয়ে উঠেছিল যেন সে সরকারের মুখপাত্র এমনকি সেনাপ্রধানের সাথে নানা অনুষ্ঠানে এদের দেখা গেছে। সেনাবাহিনীর যারা বিরোধিতা করেছে তারাই হয়েছিল তাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। এবার আসা যাক বিদ্রোহের ঘটনা-পরবর্তী সময়ে এসব গণমাধ্যমের খবর প্রচারের ধরনের দিকে। ঘটনার পরপরই ভারতের সংবাদ সংস্থা সিএনএন আইবিএন, এনডিটিভি, টেলিগ্রাফ এবং আনন্দবাজার পত্রিকাসহ ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম এ ঘটনার সাথে জামায়াতকে এবং বিএনপি’র সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে জড়িয়ে খবর প্রচার করে।

এসব খবর ঢাকার কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। কিন্তু একই সময়ে টেলিগ্রাফ ও হিন্দুস্থান টাইমসে বাংলাদেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের সমরসজ্জার খবর প্রকাশ করা হয়। এতে আসামে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিশেষ সতর্কতামূলক অবস্থা এবং আগ্রা থেকে কলকাতায় একটি বিশেষ ব্রিগেড আনা এবং ছত্রীসেনা আনার খবর প্রকাশিত হয়। সেসব খবর কিন্তু ঢাকার এসব সংবাদপত্র প্রকাশ করেনি। কেন? এতে বাংলাদেশের জনগণ ভারতের ব্যাপারে আরো ক্ষুব্ধ হবে বলে কী? ঘটনার পরের খবরগুলোর দিকে আমরা একটু নজর দেই।

আনন্দবাজার পত্রিকা খবর দেয়, ডিএডি তৌহিদ নাকি এক সময় শিবির করতেন। বাংলাদেশের কোনো সংবাদপত্র যখন এ তথ্য বের করতে পারেনি তখন আনন্দবাজার আবিষ্কার করে ফেলেছে। এরপর বেশ গুরুত্বের সাথে সে খবর বাংলাদেশের প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপা হচ্ছে। আনন্দবাজার আরো খবর দেয়, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নাকি জাহাঙ্গীর কবীর নানককে তাদের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ খবর কিন্তু আবার ঢাকার কোনো পত্রিকায় প্রকাশ হয়নি।

তাহলে বাংলাদেশের খবরাখবর আনন্দবাজার বেশি রাখে? কাদের মাধ্যমে এ খবর তারা পায়? তবে তারা আরো এক মজার তথ্য দেয়, ডিএডি তৌহিদ শিবির করলেও তিনি নাকি নানকের বন্ধু। চমৎকার তথ্য! বিডিআর বিদ্রোহে নানকের সাথে তৌহিদের কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা তদন্তের বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তার দিকে আঙুল উঠেছে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। গত সাত দিনে সংবাদপত্রে বিদ্রোহের খবরাখবর গুরুত্ব পাচ্ছে এবং এটাই স্বাভাবিক। যখন এ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের সমালোচনা, ভারতের ভূমিকা, বিডিআর’র ভবিষ্যৎ এবং সেনাবাহিনীর তদন্তের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তখন হঠাৎ করে কয়েকটি সংবাদপত্রে একসাথে প্রায় পাঁচ বছর আগের ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের একটি ঘটনার খবর সামনে নিয়ে এসেছে।

দেড় শতাধিক সেনাসদস্যের মৃত্যুর ঘটনা, সে বিষয়ে তদন্তের খবরাখবরের চেয়ে হঠাৎ করে এটি এত গুরুত্বপূর্ণ খবর হয়ে উঠল কেন? ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানি এবং তাতে চারদলীয় জোট নেতাদের কারো জড়িত থাকার খবর নিঃসন্দেহে বড় খবর। কিন্তু এটি কোনো নতুন খবর নয়। এ খবরের একটি অন্য তাৎপর্য আছে। বাংলাদেশে বেআইনি ১০ ট্রাক অস্ত্র আসা গুরুতর ব্যাপার ছিল। কারা কিভাবে এনেছে তা তদন্ত হওয়া উচিত।

এসব সংবাদপত্র বলছে, অস্ত্রগুলো নাকি উলফার জন্য আনা হয়েছিল। আমাদের দেশের ভূমি কারো বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক এটা আমরা চাই না। কেউ অস্ত্র আমদানির রুট হিসেবে ব্যবহার করুক তাও কাম্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো বিডিআর ধ্বংস এবং সেনাকর্মকর্তাদের খবরের চেয়ে এ খবর এ সময়ে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার মাজেজা কী? আমরা দেখছি ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, মৈত্রী ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় শান্তিরক্ষী পাঠাতে ভারত নাকি প্রস্তুত রয়েছে। এখন উলফা ধরার জন্য ভারতীয় বাহিনীর বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য কী এসব খবর গুরুত্ব পাচ্ছে? পিলখানায় রক্তের দাগ মুছে না যেতেই এসব সংবাদপত্র থেকে এ খবর প্রায় হারিয়ে গেছে।

আমাদের সংবাদপত্র ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে কত ধরনের অনুসন্ধানী রিপোর্ট করছে। বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সে ধরনের রিপোর্ট নেই কেন? নাকি কোথাও থেকে নির্দেশনা আসেনি বলে? নাকি এ মুহূর্তে এ বিষয়ে রাজনৈতিক রঙ দেয়া যাচ্ছে না বলে? বুঝলাম গোপনীয়তার কারণে তদন্তে কী আসছে না আসছে তা প্রকাশ করা কঠিন। কিন্তু বিডিআর বিদ্রোহের দিন বিদ্রোহীদের সমর্থনে কারা মিছিল করেছিল তা নিয়ে কোনো রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে না কেন? বলা হচ্ছে, বাইরে থেকে একটি গাড়ি এসেছিল সে গাড়িটি কার? বলা হচ্ছে, বাইরের লোক এসে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাহলে এরা কারা? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে পীর সাহেবের কাছে গেলেন তার পরিচয় কী? এসব খবর তো ছাপা যেত। নাকি এসব বিষয়ের কোনো সংবাদমূল্য নেই? এসব খবরের চেয়ে এ মুহূর্তে কী পাঁচ বছর আগের দশ ট্রাক অস্ত্রের সংবাদমূল্য বেশি? উলফার দশ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে যদি এত রিপোর্ট হতে পারে তাহলে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়েও তো অনুসন্ধানী রিপোর্ট হতে পারে। আমরা কয়েকটি সংবাদপত্রে দেখেছি, এর আগে জঙ্গিদের রুট খুঁজতে পাকিস্তান, আফগানিস্তান হয়ে লন্ডন থেকে ফিলিস্তিন পর্যন্ত সম্পর্ক খুঁজে বের করতে পেরেছে।

কিন্তু পিলখানা হাজারীবাগের আশপাশের এলাকার গত কয়েক দিনের খবর প্রকাশ করতে পারছে না। কেন? গণমাধ্যমে বিদ্রোহীদের মুখ এত গুরুত্বের সাথে দেখা গেল এখন তাদের নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে না কেন? নাকি সিআইডি’র ব্রিফিংয়ের অপেক্ষায় আছে গণমাধ্যম? নাকি ভারতীয় সংবাদপত্রের খবরের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি, তারা কী সংবাদ প্রকাশ করে তা দেখার জন্য? ভারতের ওপর আমাদের নানা ধরনের নির্ভরতা আছে। এখন কী খবর ছাপাব কেমন খবর ছাপব সে জন্যও কি ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে?

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।