আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অমিমাংসিত (জীবনের ছোটগল্প)

গলাবাজ আর সত্যিকারের লেখক এই ব্লগে টিকে থাকে, আমি কোনটাই না
কটকায় শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আসিফ ক্যান্টিনে ঢোকা মাত্রই বাকির সংগে দেখা, অপু আর আরও কয়েকজন ক্লাসমেটের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছে ও। দোস্ত, কালকে কটকা যাচ্ছি আমরা সবাই মিলে, আসিফ কে সংবাদটা জানায় বাকি। বাকি আসিফের স্কুল জীবনের ফ্রেন্ড, একসাথে ক্লাস সিক্স থেকে এস এস সি পর্যন্ত পড়েছে। কলেজ আলাদা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার একসাথে, যদিও ডিপার্টমেন্ট আলাদা। অদ্ভুত রকমের ভালো একটা ছেলে বাকি, ওর একটা ছোট বোন আছে নাম তন্বী।

স্কুলে থাকতে বাকি কে নিয়ে কত সিনেমা হলে যেতে চেয়েছে আসিফরা, কখনো রাজি হয়নি সে। সারাদিন কমপিউটারে কমান্ডো গেম খেলা আর তন্বীর সাথে দুষ্টুমি এই হলো ওর রুটিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার আগেই বাবাকে হারায় ও, ছেলে বড় আর্কিটেক্ট হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে এই স্বপ্ন দেখেন আর লুকিয়ে আঁচলে চোখ মোছেন বাকির মা। কটকা যাবার সন্ধ্যায় মা বাকিকে জিজ্ঞাস করেন আসিফ কি তোদের সংগে যাচ্ছে রে? না মা, এটাতো শুধু আমাদের ডিপার্টমেন্টের ট্যুর, ওরা যাবেনা। মায়ের সতর্ক মনে কিসের যেন শংকা, ছেলেকে বারবার মনে করিয়ে দেন, তুই কিন্তু সাঁতার জানিস না বাপ, পানিতে বেশি নামতে যাসনা যেন।

রাত একটা কি দুইটা হবে। বালিশের পাশে রাখা মুঠোফোনটা বেজে ওঠে আসিফের। চোখ বন্ধ অবস্হাতেই অভ্যাস মতো ফোনটা হাতে নিয়ে ইয়েস বাটনে চাপ দিয়ে আস্তে করে বলে, হ্যালো..। ওপারে সোহাগের কন্ঠ শোনা যায়, আর্কিটেকচারে বাকিদের কয়েক বছরের জুনিয়র। একটা খারাপ খবর আছে ভাইয়া।

দ্রুত গতিতে আসিফ ফিরে আসে বাস্তবতার জগতে, ভেবে পায়না কার খারাপ খবর। বাকি ভাই সহ অনেক কে সমুদ্র টেনে নিয়ে গেছে, তাদেরকে পাওয়া যাচ্ছেনা। ফোনটা কেটে দেয় আসিফ, আরও কয়েকজায়গায় ফোন দেয় কি ঘটেছে বোঝার জন্য। কেউ ওকে বলেনা খবরটা ভুল হতে পারে, কিংবা ওদেরকে পাওয়া গেছে, একটু পরেই সবাই সুস্হ হয়ে উঠবে। বাকি ফিরে আসে নিথর হয়ে, সাথে অন্যরাও, ওদের বাসায় জানাযায় যায় আসিফ।

বাকির মুখটা দেখার সাহস করতে পারেনা ও। খালাম্মার সথে একবার মুখোমুখি হয়ে কোনমতে বের হয়ে আসে ওখান থেকে। একটা ভ্যান পেয়ে ওটাতে উঠে পড়ে ও। পিছনে দুজন লোক সেই ঘটনা নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত। বুঝলেন ভাই এইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছেলেমেয়েগুলো এদের সবকিছুতে বেশি লাফালাফি, এইরকম ছাড়া আর কি হবে? হাত দুটো দিয়ে শক্ত করে ভ্যান টা আঁকড়ে ধরে আসিফ, কষ্টময় অনুভুতিটা চোখ ঠিকরে বের হয় যেন।

সময় পেরুতে থাকে, আসিফের ভিতরে যে আসিফ সে সময়ের সাথে তাল দিয়ে পালিয়ে বেড়ায় নিজ থেকে। কতবার ভাবে যাবে একবার বাকির মার কাছে, কোন এক অজানা আতন্কে প্রতিবার পিছিয়ে যায় সে। বাকির মার সামনে সে কিভাবে দাঁড়াবে? কি বলবে সে? তাকে দেখামাত্রই যে বাকির কথা মনে পড়ে যাবে মা'র। কিভাবে স্বান্তনা দিবে আসিফ? কেমন আছে তন্বি? এক একটা দিন যায় আসিফের প্রশ্ন গুলো বাড়তে থাকে। সে জানেনা কেন তার এই পালিয়ে বেড়ানো, এভাবে আর কতদিন?
 


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.